1. basharpoet@yahoo.com : আবুল বাশার শেখ, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি # : আবুল বাশার শেখ ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি
  2. adithayk@gmail.com : আদিত্ব্য কামাল, ব্রাক্ষণবাড়ীয়া প্রতিনিধি : আদিত্ব্য কামাল ব্রাক্ষণবাড়ীয়া প্রতিনিধি
  3. ahidsaiful@gmail.com : অহিদ সাইফুল : অহিদ সাইফুল
  4. rudraamin71@gmail.com : আমিনুল ইসলাম, সিনিয়র রিপোর্টার : মোঃ আমিনুল ইসলাম
  5. shofiullahansari@yahoo.com : সফিউল্লাহ আনসারী, ষ্টাফ রিপোর্টার # : সফিউল্লাহ আনসারী নববার্তা ষ্টাফ রিপোর্টার
  6. news.alsarker@gmail.com : অপূর্ব লাল সরকার, বরিশাল প্রতিনিধি : অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল)
  7. rabbu4046@gmail.com : আটোয়ারী (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি : : রাব্বু হক প্রধান
  8. delowar_sust@yahoo.com : দেলোয়ার হোসেন, শাবি সংবাদদাতা : দেলোয়ার হোসেন
  9. editor@nobobarta.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  10. marufsarkar93@gmail.com : বিনোদন প্রতিনিধি : : বিনোদন প্রতিনিধি :
  11. shahabuddinislam95@gmail.com : রাবি প্রতিনিধি : শাহাবুদ্দীন আহমেদ রাবি প্রতিনিধি
  12. j.a.bhuiya@gmail.com : জাহাঙ্গীর আলম ভূইঁয়া, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি # : জাহাঙ্গীর আলম ভূইঁয়া তাহিরপুর প্রতিনিধি
  13. jakariamohammad127@gmail.com : জাকারিয়া মোহাম্মদ, গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি # : জাকারিয়া মোহাম্মদ গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি #
  14. udoyjuwelahmed@gmail.com : শহীদুর রহমান জুয়েল সিলেট ব্যুরো চীফ : শহীদুর রহমান জুয়েল সিলেট ব্যুরো চীফ
  15. jubaerju45@gmail.com : জাবি প্রতিনিধি : জোবায়ের কামাল জাবি প্রতিনিধি
  16. kabir_tanmoy@yahoo.com : কবীর চৌধুরী তন্ময় : কবীর চৌধুরী তন্ময় অতিথি লেখক
  17. baabuuraambaabuu173@gmail.com : কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি : : মোঃ কামরুজ্জামান বাবু কুমিল্লা
  18. kkumar3700@gmail.com : কিশোর কুমার দত্ত, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : কিশোর কুমার দত্ত লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
  19. lutful_mirza@yahoo.com : লুৎফুল মির্জা, স্টাফ রিপোর্টার # : লুৎফুল মির্জা স্টাফ রিপোর্টার
  20. nazrul.sn37@gmail.com : উত্তরাঞ্চল অফিস : উত্তরাঞ্চল অফিস
  21. thejubi72@gmail.com : জোবায়ের, জবি প্রতিনিধি # : এহসানুল মাহবুব জোবায়ের, জবি
  22. mdkamal.net1972@gmail.com : নববার্তা ডট কম : নববার্তা ডট কম
  23. meezanpana@gmail.com : মিজানুর রহমান পনা (মিজানপনা) : মিজানুর রহমান পনা (মিজানপনা) ঝালকাঠি প্রতিনিধি #
  24. krishnabala477@gmail.com : কৃষ্ণ বালা যবিপ্রবি প্রতিনিধি : কৃষ্ণ বালা
  25. mehedi.lijon@gmail.com : মেহেদী জামান লিজন, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় # : মেহেদী জামান লিজন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়
  26. muzammel.tahirpur@gmail.com : মোজাম্মেল আলম ভূঁইয়া, নিজস্ব প্রতিবেদক # : মোজাম্মেল আলম ভূঁইয়া, নিজস্ব প্রতিবেদক
  27. sakib.press77@gmail.com : নাজমুস সাকিব মুন, পঞ্চগড় ব্যুরো : নাজমুস সাকিব মুন, পঞ্চগড় ব্যুরো
  28. coolboy.sakib66@gmail.com : নিউজ ডেস্ক নববার্তা : নিউজ ডেস্ক নববার্তা
  29. pdnroni1971@gmail.com : প্রান্ত রনি, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি # : প্রান্ত রনি রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি
  30. rahadraja@gmail.com : মোহাম্মদ রাহাদ রাজা, খুলনা বিভাগীয় স্টাফ রিপোর্টার : মোহাম্মদ রাহাদ রাজা খুলনা বিভাগীয় স্টাফ রিপোর্টার
  31. rajanaman882@gmail.com : মোঃ রাজন আমান, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি : মোঃ রাজন আমান কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি
  32. rajonkhan702@gmail.com : মোঃ রাজন খান : মোঃ রাজন খান
  33. rezveahmed07@gmail.com : বিশেষ প্রতিনিধি # : নূর-এ আলম সিদ্দিকী বিশেষ প্রতিনিধি #
  34. romel7610@gmail.com : মোঃ মিনহাজুর রহমান, লাইফ স্টাইল # : মোঃ মিনহাজুর রহমান লাইফ স্টাইল
  35. sadikiu099@gmail.com : সাদিকুল ইসলাম : সাদিকুল ইসলাম ইবি প্রতিনিধি
  36. salahuddin2095@gmail.com : সালাহ্উদ্দিন সালমান : সালাহ্উদ্দিন সালমান
  37. boshir.sayed@gmail.com : বশির আহম্মেদ কাউখালী প্রতিনিধি : বশির আহম্মেদ কাউখালী প্রতিনিধি
  38. bkotha71@gmail.com : শরিফুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার : শরিফুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার
  39. skdoyle77@gmail.com : বিশেষ প্রতিনিধি : বিশেষ প্রতিনিধি
  40. subrata6630@gmail.com : সুব্রত দেব নাথ : সুব্রত দেব নাথ
  41. sukumar.mitra@rediffmail.com : সুকুমার মিত্র, কলকাতা প্রতিনিধি # : সুকুমার মিত্র কলকাতা প্রতিনিধি
  42. mohammedtaizulislambd@gmail.com : তাইজুল ফয়েজ, গ্রীস প্রতিনিধি : তাইজুল ফয়েজ, গ্রীস প্রতিনিধি
  43. robin.tangail1983@gmail.com : রবিন তালুকদার, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : রবিন তালুকদার টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
  44. tanvir_pou@yahoo.com : হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : : হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
  45. jnews63@gmail.com : জাহিদুর রহমান তারিক, ষ্টাফ রিপোর্টার,ঝিনাইদহ # : জাহিদুর রহমান তারিক
  46. test@mail.cca : test user : test user
ঝিনাইদহের ঐতিহ্য মধুবৃক্ষ খেজুর গাছ এখন ইটভাটার জ্বালানী ! | Nobobarta
শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ০৮:৪৮ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
রাজাপুর সদর ২নং ওয়ার্ডে জনসমর্থনে পলাশ মাতুব্বর এর টিউবওয়েল মার্কা এগিয়ে লক্ষ্মীপুরে ৫শ’ ভূমি ও গৃহহীন পরিবারের জন্য ঘর প্রস্তুত শুক্তাগড়ের বিদ্রোহী প্রার্থী শেষ মুহূর্তে নির্বাচন থেকে সরে দাড়ালেন লক্ষ্মীপুরে যুবলীগ নেতা রুপম হাওলাদারের বৃক্ষরোপন ও বিতরণ নলছিটিতে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় ও প্রেস ব্রিফিং রাজাপুরে প্রধান মন্ত্রীর ঘর উপহার পেল ৩৭টি পরিবার রাজাপুরে নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেয়ার অভিযোগ জবি নীলদলের সভাপতি হলেন অধ্যাপক আবুল হোসেন নোয়াখালীতে সন্ত্রাসী হামলা : ২ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের পরিচালকের নলছিটিতে বিভিন্ন প্রজেক্ট পরিদর্শন

ঝিনাইদহের ঐতিহ্য মধুবৃক্ষ খেজুর গাছ এখন ইটভাটার জ্বালানী !

রিপোর্টারের নাম :
  • প্রকাশিত : বুধবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৬
  • ৫৪২ বার পঠিত

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ মায়ের হাতে বানানো হরেক রকমের পিঠা-পুলি খাওয়ার ধুম। এজন্য একসময় তীব্র শীতের মাঝেও খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য ব্যস্ত থাকতেন গাছিরা। গত কয়েক বছরের ব্যবধানে ক্রমবর্ধমান মানুষের বাড়ি-ঘর নির্মাণ আর নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে ক্রমেই খেজুর গাছের সংখ্যা কমে গেছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঝিনাইদহ সহ পাশ্ববর্তি জেলা গুলোতে।

গত কয়েক বছর পূর্বেও শীতকালে এসব এলাকার গাছিরা খেজুর গাছের রস সংগ্রহে খুবই ব্যস্ত সময় কাটাতেন। তারা খেজুরের রস ও পাটালী গুড় বিক্রি করে বিপুল অংকের টাকা আয় করতেন। কিন্তু কালের বিবর্তনে গত দু’তিন বছর ধরে তা ক্রমশ বিলুপ্ত হতে বসেছে। খেজুর রস দিয়ে শীত মৌসুমে পিঠা ও পায়েস তৈরির প্রচলন থাকলেও শীতকালীন খেজুর গাছের রস এখন দুষপ্রাপ্য হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় ও খেজুর গাছি সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঝিনাইদহ সহ পাশ্ববর্তি জেলা গুলোতে কিছু কিছু এলাকায় এখনও পর্যাপ্ত পরিমান খেজুর গাছ থাকলেও সঠিকভাবে তা পরিচর্যা না করা, নতুন করে গাছের চারা রোপণ না করা এবং গাছ কাটার পদ্ধতিগত ভুলের কারণে প্রতি বছর অসংখ্য খেজুর গাছ মারা যাচ্ছে। এছাড়া এক শ্রেণীর অসাধু ইটভাটার ব্যবসায়ীরা জ্বালানি হিসেবে খেজুর গাছ ব্যবহার করার কারণে ক্রমেই কমে যাচ্ছে খেজুর গাছের সংখ্যা।

প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও শীত পড়ার শুরুতেই উপজেলার সর্বত্র পেশাদার খেজুর গাছির চরম সংকট পড়ে। তার পরেও কয়েকটি এলাকায় শখের বশত গাছিরা নামেমাত্র খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের কাজ করছেন। ইতোমধ্যে ওইসব গাছিরা সকাল-বিকেল দুই বেলা রস সংগ্রহ করছেন। প্রভাতের শিশির ভেজা ঘাস আর ঘণ কুয়াশার চাঁদর, হেমন্তের শেষে শীতের আগমনের বার্তা জানিয়ে দিচ্ছে আমাদের। এসময় মৌসুমী খেজুর রস দিয়েই গ্রামীণ জনপদে শুরু হতো শীতের আমেজ।

শীত যতো বাড়তে থাকতো খেঁজুর রসের মিষ্টতাও ততো বাড়তো। শীতের সাথে রয়েছে খেঁজুর রসের এক অপূর্ব যোগাযোগ। এ সময় গৌরব আর ঐতিহ্যের প্রতীক মধুবৃক্ষ থেকে সু-মধুর রস বের করে গ্রামের ঘরে ঘরে পুরোদমে শুরু হতো পিঠা, পায়েস ও গুড় পাটালী তৈরীর ধুম। গ্রামে গ্রামে খেজুরের রস দিয়ে তৈরি করা নলের গুড়, ঝোলা গুড়, দানা গুড় ও বাটালী গুড়ের মিষ্টি গন্ধেই যেন অর্ধভোজন হয়ে যেতো। খেজুর রসের পায়েস, রসে ভেজা পিঠাসহ বিভিন্ন সুস্বাদু খাবারেরতো জুড়িই ছিলোনা।

কিন্তু কালের বির্ততনে প্রকৃতি থেকে আজ খেজুরের রস একেবারেই হারিয়ে যেতে বসেছে। সূত্রমতে, প্রাচীণ বাংলার ঐতিহ্য খেজুর গাছ আর গুড়ের জন্য একসময় এ অঞ্চল বিখ্যাত ছিলো। অনেকে শখের বশে খেজুর গাছকে মধুবৃক্ষ বলে থাকতেন। ওইসময় শীতের মৌসুমে খেজুর রসের নলেন গুড়ের মৌ মৌ গন্ধে ভরে উঠতো গ্রামীণ জনপদ।

খেজুর রস দিয়ে গৃহবধূদের সুস্বাদু পায়েস, বিভিন্ন ধরনের রসে ভেজানো পিঠা তৈরির ধুম পড়তো। রসনা তৃপ্তিতে খেজুরের নলেন গুড়ের পাটালির কোন জুড়ি ছিলোনা। গ্রামীণ জনপদের সাধারণ মানুষ শীতের সকালে ঘুম থেকে উঠে কাঁপতে কাঁপতে ঠান্ডা খেজুর রস না খেলে যেন দিনটাই মাটি হয়ে যেতো। কিন্তু ইট ভাটার আগ্রাসনের কারনে আগের তুলনায় খেজুর গাছের সংখ্যা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে।

ইটভাটায় খেজুর গাছ পোড়ানো আইনত নিষিদ্ধ হওয়ার পরেও ইটভাটার মালিকেরা সবকিছু ম্যানেজ করে ধ্বংস করে চলেছে খেঁজুর গাছ। গত কয়েক বছর ধরে ইট ভাটার জ্বালানি হিসেবে খেজুর গাছকে ব্যবহার করায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে দ্রুত খেজুর গাছ ফুরিয়ে যেতে শুরু করেছে। ফলে এ জনপদের মানুষ এখন খেজুর রসের মজার মজার খাবার অনেকটাই হারাতে বসছে।

শখের বসত প্রাকৃতিক ভাবে জন্মানো খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহকারী গাছিরা বলেন, আগের মতো খেজুর গাছ না থাকায় এখন আর সেই রমরমা অবস্থা নেই। ফলে শীতকাল আসলেই অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকা গ্রামীণ জনপদের খেজুর গাছের কদর বেড়ে যায়। বর্তমানে এসব অঞ্চলে প্রতি হাড়ি খেজুর রস এক থেকে দেড়’শ টাকা বিক্রি হচ্ছে। তাও চাহিদার তুলনায় খুবই কম। তারা আরো বলেন, খেজুর গাছ রক্ষায় বন বিভাগের কার্যকরী কোন পদক্ষেপ না থাকায় ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে খেজুর গাছ আর শীতের মৌসুমে খেজুর গাছের রস শুধু আরব্য উপনাস্যের গল্পে পরিনত হতে চলেছে।

ঐতিহ্যবাহী এ খেঁজুর রসের উৎপাদন বাড়াতে হলে টিকিয়ে রাখতে হবে খেজুর গাছের অস্তিত্ব। আর সে জন্য যথাযথ ভাবে পরিবেশ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে ইটভাটাসহ যেকোন বৃক্ষ নিধনকারীদের হাত থেকে খেঁজুর গাছ রক্ষা করতে হবে। তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে কৃষি বিভাগ থেকেও কৃষকদের খেজুর গাছ লাগানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বাড়ির আনাচে-কানাচে, রাস্তার পার্শের পরিত্যক্তস্থানে কৃষকেরা পর্যাপ্ত পরিমান খেজুর গাছ রোপন করলে ভবিষ্যত প্রজন্মকে খেজুরের রস ও গুড়ের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। শীতকাল মানে হাড়কাঁপুনে ঠান্ডা।

আর মায়ের হাতে বানানো হরেক রকমের পিঠা-পুলি খাওয়ার ধুম। এজন্য একসময় তীব্র শীতের মাঝেও খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য ব্যস্ত থাকতেন গাছিরা। গত কয়েক বছরের ব্যবধানে ক্রমবর্ধমান মানুষের বাড়ি-ঘর নির্মাণ আর নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে ক্রমেই খেজুর গাছের সংখ্যা কমে গেছে ঝিনাইদহের পাশ্ববর্তী উপজেলা গুলোতে। গত কয়েক বছর পূর্বেও শীতকালে এসব এলাকার গাছিরা খেজুর গাছের রস সংগ্রহে খুবই ব্যস্ত সময় কাটাতেন।

তারা খেজুরের রস ও পাটালী গুড় বিক্রি করে বিপুল অংকের টাকা আয় করতেন। কিন্তু কালের বিবর্তনে গত দু’তিন বছর ধরে তা ক্রমশ বিলুপ্ত হতে বসেছে। খেজুর রস দিয়ে শীত মৌসুমে পিঠা ও পায়েস তৈরির প্রচলন থাকলেও শীতকালীন খেজুর গাছের রস এখন দু¯প্রাপ্য হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কিছু কিছু এলাকায় এখনও পর্যাপ্ত পরিমান খেজুর গাছ থাকলেও সঠিকভাবে তা পরিচর্যা না করা, নতুন করে গাছের চারা রোপণ না করা এবং গাছ কাটার পদ্ধতিগত ভুলের কারণে প্রতি বছর অসংখ্য খেজুর গাছ মারা যাচ্ছে।

এছাড়া এক শ্রেণীর অসাধু ইটভাটার ব্যবসায়ীরা জ্বালানি হিসেবে খেজুর গাছ ব্যবহার করার কারণে ক্রমেই কমে যাচ্ছে খেজুর গাছের সংখ্যা। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও শীত পড়ার শুরুতেই উপজেলার সর্বত্র পেশাদার খেজুর গাছির চরম সংকট পরে। তার পরেও কয়েকটি এলাকায় শখের বশত গাছিরা নামেমাত্র খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের কাজ করছেন। ইতোমধ্যে ওইসব গাছিরা সকাল-বিকেল দুই বেলা রস সংগ্রহ করছেন। প্রভাতের শিশির ভেজা ঘাস আর ঘণ কুয়াশার চাঁদর, হেমন্তের শেষে শীতের আগমনের বার্তা জানিয়ে দিচ্ছে আমাদের।

এ সময় মৌসুমী খেজুর রস দিয়েই গ্রামীণ জনপদে শুরু হতো শীতের আমেজ। শীত যতো বাড়তে থাকতো খেঁজুর রসের মিষ্টতাও ততো বাড়তো। শীতের সাথে রয়েছে খেঁজুর রসের এক অপূর্ব যোগাযোগ। এসময় গৌরব আর ঐতিহ্যের প্রতীক মধুবৃক্ষ থেকে সু-মধুর রস বের করে গ্রামের ঘরে ঘরে পুরোদমে শুরু হতো পিঠা, পায়েস ও গুড় পাটালী তৈরীর ধুম।

গ্রামে গ্রামে খেজুরের রস দিয়ে তৈরি করা নলের গুড়, ঝোলা গুড়, দানা গুড় ও বাটালী গুড়ের মিষ্টি গন্ধেই যেন অর্ধভোজন হয়ে যেতো। খেজুর রসের পায়েস, রসে ভেজা পিঠাসহ বিভিন্ন সুস্বাদু খাবারেরতো জুড়িই ছিলোনা। কিন্তু কালের বির্ততনে প্রকৃতি থেকে আজ খেজুরের রস একেবারেই হারিয়ে যেতে বসেছে। ঝিনাইদহবাসীদের সূত্রমতে, প্রাচীণ বাংলার ঐতিহ্য খেজুর গাছ আর গুড়ের জন্য একসময় এ অঞ্চল বিখ্যাত ছিলো।

অনেকে শখের বশে খেজুর গাছকে মধুবৃক্ষ বলে থাকতেন। ওইসময় শীতের মৌসুমে খেজুর রসের নলেন গুড়ের মৌ মৌ গন্ধে ভরে উঠতো গ্রামীণ জনপদ। খেজুর রস দিয়ে গৃহবধূদের সুস্বাদু পায়েস, বিভিন্ন ধরনের রসে ভেজানো পিঠা তৈরির ধুম পড়তো। রসনা তৃপ্তিতে খেজুরের নলেন গুড়ের পাটালির কোন জুড়ি ছিলোনা। গ্রামীণ জনপদের সাধারণ মানুষ শীতের সকালে ঘুম থেকে উঠে কাঁপতে কাঁপতে ঠান্ডা খেজুর রস না খেলে যেন দিনটাই মাটি হয়ে যেতো। কিন্তু ইট ভাটার আগ্রাসনের কারনে আগের তুলনায় খেজুর গাছের সংখ্যা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে।

ইটভাটায় খেজুর গাছ পোড়ানো আইনত নিষিদ্ধ হওয়ার পরেও ইটভাটার মালিকেরা সবকিছু ম্যানেজ করে ধ্বংস করে চলেছে খেঁজুর গাছ। গত কয়েক বছর ধরে ইট ভাটার জ্বালানি হিসেবে খেজুর গাছকে ব্যবহার করায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে দ্রুত খেজুর গাছ ফুরিয়ে যেতে শুরু করেছে। ফলে এ জনপদের মানুষ এখন খেজুর রসের মজার মজার খাবার অনেকটাই হারাতে বসছে।

শখের বসত প্রাকৃতিক ভাবে জন্মানো খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহকারী গাছিরা বলেন, আগের মতো খেজুর গাছ না থাকায় এখন আর সেই রমরমা অবস্থা নেই। ফলে শীতকাল আসলেই -অবহেলায় পড়ে থাকা গ্রামীণ জনপদের খেজুর গাছের কদর বেড়ে যায়।

বর্তমানে এসব অঞ্চলে প্রতি হাড়ি খেজুর রস এক থেকে দেড়’শ টাকা বিক্রি হচ্ছে। তাও চাহিদার তুলনায় খুবই কম। তারা আরো বলেন, খেজুর গাছ রক্ষায় বন বিভাগের কার্যকরী কোন পদক্ষেপ না থাকায় ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে খেজুর গাছ আর শীতের মৌসুমে খেজুর গাছের রস শুধু আরব্য উপনাস্যের গল্পে পরিনত হতে চলেছে। ঐতিহ্যবাহী এ খেঁজুর রসের উৎপাদন বাড়াতে হলে টিকিয়ে রাখতে হবে খেজুর গাছের অস্তিত্ব।

আর সে জন্য যথাযথ ভাবে পরিবেশ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে ইটভাটাসহ যেকোন বৃক্ষ নিধনকারীদের হাত থেকে খেঁজুর গাছ রক্ষা করতে হবে। তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে কৃষি বিভাগ থেকেও কৃষকদের খেজুর গাছ লাগানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বাড়ির আনাচে-কানাচে, রাস্তার পার্শ্বের পরিত্যক্ত স্থানে কৃষকেরা পর্যাপ্ত পরিমান খেজুর গাছ রোপন করলে ভবিষ্যত প্রজন্মকে খেজুরের রস ও গুড়ের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

শেয়ার করুন

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Sbtechbd Technologies