1. basharpoet@yahoo.com : আবুল বাশার শেখ, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি # : আবুল বাশার শেখ ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি
  2. adithayk@gmail.com : আদিত্ব্য কামাল, ব্রাক্ষণবাড়ীয়া প্রতিনিধি : আদিত্ব্য কামাল ব্রাক্ষণবাড়ীয়া প্রতিনিধি
  3. ahidsaiful@gmail.com : অহিদ সাইফুল : অহিদ সাইফুল
  4. rudraamin71@gmail.com : আমিনুল ইসলাম, সিনিয়র রিপোর্টার : মোঃ আমিনুল ইসলাম
  5. shofiullahansari@yahoo.com : সফিউল্লাহ আনসারী, ষ্টাফ রিপোর্টার # : সফিউল্লাহ আনসারী নববার্তা ষ্টাফ রিপোর্টার
  6. news.alsarker@gmail.com : অপূর্ব লাল সরকার, বরিশাল প্রতিনিধি : অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল)
  7. rabbu4046@gmail.com : আটোয়ারী (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি : : রাব্বু হক প্রধান
  8. delowar_sust@yahoo.com : দেলোয়ার হোসেন, শাবি সংবাদদাতা : দেলোয়ার হোসেন
  9. editor@nobobarta.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  10. marufsarkar93@gmail.com : বিনোদন প্রতিনিধি : : বিনোদন প্রতিনিধি :
  11. shahabuddinislam95@gmail.com : রাবি প্রতিনিধি : শাহাবুদ্দীন আহমেদ রাবি প্রতিনিধি
  12. j.a.bhuiya@gmail.com : জাহাঙ্গীর আলম ভূইঁয়া, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি # : জাহাঙ্গীর আলম ভূইঁয়া তাহিরপুর প্রতিনিধি
  13. jakariamohammad127@gmail.com : জাকারিয়া মোহাম্মদ, গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি # : জাকারিয়া মোহাম্মদ গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি #
  14. udoyjuwelahmed@gmail.com : শহীদুর রহমান জুয়েল সিলেট ব্যুরো চীফ : শহীদুর রহমান জুয়েল সিলেট ব্যুরো চীফ
  15. jubaerju45@gmail.com : জাবি প্রতিনিধি : জোবায়ের কামাল জাবি প্রতিনিধি
  16. kabir_tanmoy@yahoo.com : কবীর চৌধুরী তন্ময় : কবীর চৌধুরী তন্ময় অতিথি লেখক
  17. baabuuraambaabuu173@gmail.com : কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি : : মোঃ কামরুজ্জামান বাবু কুমিল্লা
  18. kkumar3700@gmail.com : কিশোর কুমার দত্ত, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : কিশোর কুমার দত্ত লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
  19. lutful_mirza@yahoo.com : লুৎফুল মির্জা, স্টাফ রিপোর্টার # : লুৎফুল মির্জা স্টাফ রিপোর্টার
  20. nazrul.sn37@gmail.com : উত্তরাঞ্চল অফিস : উত্তরাঞ্চল অফিস
  21. thejubi72@gmail.com : জোবায়ের, জবি প্রতিনিধি # : এহসানুল মাহবুব জোবায়ের, জবি
  22. mdkamal.net1972@gmail.com : নববার্তা ডট কম : নববার্তা ডট কম
  23. meezanpana@gmail.com : মিজানুর রহমান পনা (মিজানপনা) : মিজানুর রহমান পনা (মিজানপনা) ঝালকাঠি প্রতিনিধি #
  24. krishnabala477@gmail.com : কৃষ্ণ বালা যবিপ্রবি প্রতিনিধি : কৃষ্ণ বালা
  25. mehedi.lijon@gmail.com : মেহেদী জামান লিজন, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় # : মেহেদী জামান লিজন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়
  26. muzammel.tahirpur@gmail.com : মোজাম্মেল আলম ভূঁইয়া, নিজস্ব প্রতিবেদক # : মোজাম্মেল আলম ভূঁইয়া, নিজস্ব প্রতিবেদক
  27. sakib.press77@gmail.com : নাজমুস সাকিব মুন, পঞ্চগড় ব্যুরো : নাজমুস সাকিব মুন, পঞ্চগড় ব্যুরো
  28. coolboy.sakib66@gmail.com : নিউজ ডেস্ক নববার্তা : নিউজ ডেস্ক নববার্তা
  29. pdnroni1971@gmail.com : প্রান্ত রনি, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি # : প্রান্ত রনি রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি
  30. rahadraja@gmail.com : মোহাম্মদ রাহাদ রাজা, খুলনা বিভাগীয় স্টাফ রিপোর্টার : মোহাম্মদ রাহাদ রাজা খুলনা বিভাগীয় স্টাফ রিপোর্টার
  31. rajanaman882@gmail.com : মোঃ রাজন আমান, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি : মোঃ রাজন আমান কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি
  32. rajonkhan702@gmail.com : মোঃ রাজন খান : মোঃ রাজন খান
  33. rezveahmed07@gmail.com : বিশেষ প্রতিনিধি # : নূর-এ আলম সিদ্দিকী বিশেষ প্রতিনিধি #
  34. romel7610@gmail.com : মোঃ মিনহাজুর রহমান, লাইফ স্টাইল # : মোঃ মিনহাজুর রহমান লাইফ স্টাইল
  35. sadikiu099@gmail.com : সাদিকুল ইসলাম : সাদিকুল ইসলাম ইবি প্রতিনিধি
  36. salahuddin2095@gmail.com : সালাহ্উদ্দিন সালমান : সালাহ্উদ্দিন সালমান
  37. boshir.sayed@gmail.com : বশির আহম্মেদ কাউখালী প্রতিনিধি : বশির আহম্মেদ কাউখালী প্রতিনিধি
  38. bkotha71@gmail.com : শরিফুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার : শরিফুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার
  39. skdoyle77@gmail.com : বিশেষ প্রতিনিধি : বিশেষ প্রতিনিধি
  40. subrata6630@gmail.com : সুব্রত দেব নাথ : সুব্রত দেব নাথ
  41. sukumar.mitra@rediffmail.com : সুকুমার মিত্র, কলকাতা প্রতিনিধি # : সুকুমার মিত্র কলকাতা প্রতিনিধি
  42. mohammedtaizulislambd@gmail.com : তাইজুল ফয়েজ, গ্রীস প্রতিনিধি : তাইজুল ফয়েজ, গ্রীস প্রতিনিধি
  43. robin.tangail1983@gmail.com : রবিন তালুকদার, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : রবিন তালুকদার টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
  44. tanvir_pou@yahoo.com : হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : : হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
  45. jnews63@gmail.com : জাহিদুর রহমান তারিক, ষ্টাফ রিপোর্টার,ঝিনাইদহ # : জাহিদুর রহমান তারিক
  46. test@mail.cca : test user : test user
শেখ ফিরোজ আহমদ : কবিতার অম্বরে যার বাস | Nobobarta
মঙ্গলবার, ১৫ জুন ২০২১, ০৬:৫০ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
নোয়াখালীতে সন্ত্রাসী হামলা : ২ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের পরিচালকের নলছিটিতে বিভিন্ন প্রজেক্ট পরিদর্শন রাজাপুর সদর ইউপি চেয়ারম্যানের বিরেুদ্ধে খাল দখলের অভিযোগ রাজাপুরে মডেল মসজিদের উদ্বোধন নলছিটিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবিতে ইসলামী আন্দোলন’র মানববন্ধন রাজাপুরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার দাবীতে মানববন্ধন ভালুকায় শহিদ স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন ভালুকার সীডষ্টোর-সখিপুর সড়কটি এলাকাবাসীর জন্য এখন অভিশাপ ও মরণ ফাঁদ ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করে পুনঃরায় টেন্ডার হলেও কার্যাদেশ পায়নি কোন প্রতিষ্ঠান সিলেট খাসদবী পয়েন্ট এ আই এফ আই সি ব্যাংকের উদ্বোধন ফেনী ডিবেট ফোরামের সভাপতি আরমান, সম্পাদক তাসিন

শেখ ফিরোজ আহমদ : কবিতার অম্বরে যার বাস

রিপোর্টারের নাম :
  • প্রকাশিত : রবিবার, ২১ মার্চ, ২০২১
  • ১০২ বার পঠিত

রকিব লিখন : কবিতা কী? এর সংজ্ঞা যেমন বদলে যায় সময়ের ব্যবধানে তেমনি কবির ধ্যান ও চেতনার মধ্যেও আসে সময়ের স্রোতে নানাবিদ চিন্তাধারা। কবি তাঁর ধীমান কল্পনা ও ঋদ্ধ জ্ঞানের বাসনায় শব্দ দিয়ে সাজান আপন ভুবন। সেই ভুবনের বুননে থাকে কখনো দ্রোহ, কখনো প্রেম আবার কখনো বা নিছক ভাবনার মোহের বাঁধনে বাঁধা শব্দজাল। কবিতা কখনো লাস্যময়ী আবার কখনো চণ্ডীরূপী। এই বহুরূপী শব্দ বাঁধনিক ক্রিয়াশীলতাকে সংজ্ঞায়িত না করে নদীর গতির মতো তাল মিলিয়ে চলাই শ্রেয়। কবিতাকে বাঁধা যায় একমাত্র শব্দের বাঁধনেই। আর শব্দের বাঁধন পরিপুষ্ট হলেই তা পাঠক মনে হৃষ্ট-পুষ্ট হয়ে বসে যায়। পাঠক হৃদয়ে দোলা দিতে থাকে সেই শব্দের তান ও সুর।

কবিতাকে আমি প্রাচীন, মধ্য বা আধুনিক বলবো না। শুধু বলবো কবিতা সময়ের স্রোতে চলা এক দুরন্ত কিশোরী। সময় ব্যবধানে যেমন এর নানা রূপ আর স্থান ভেদেও হয় নানা রূপ। কিশোরীর চপলতার মতোই কবিতারও মুর্হূতে মুর্হূতে বাক পরিবর্তন। তাই এই পরিবর্তনকে সময়ের বলয়ে ফেলা যাবে না। এটাই আমার বোধ ও বোধন।

এ তো বললাম আমার মনের কথা। কিন্তু যে জন্য এই কথাগুলো বলা তা হলো কবি শেখ ফিরোজ আহমদ ভাইয়ের দুটি কাব্যগ্রন্থ পাঠ করার পর আমার মনের যে প্রতিক্রিয়া তাই ব্যক্ত করছি এই লেখায়। স্বপ্ন ও বাস্তবতা দুটো ভিন্ন জিনিস। আবার ঘুম ও তন্দ্রা দুটো কথা কাছাকাছি হলেও এর আভিধানিক পার্থক্য অনেক। কবির এখানেই মুন্সিয়ানার পরিচয়। ঘুম ও তন্দ্রার মাঝে দারুণ এক বন্ধুত্বের বাঁধন আঁকলেন আর তাঁর কাব্যগ্রন্থের নাম দিলেন “ঘুম ও তন্দ্রার ডাকাডাকি”।

জীবনের উপলব্ধি কখনো বাস্তবতার মোহে আচ্ছন্ন থাকলেও তা কখনো কখনো হয়ে উঠে মায়াবী জগতের ঘোরগ্রস্ত আত্মার পর্যটনের রহস্য ও রোমাঞ্চকর অনুভূতির ক্ষণে ক্ষণে দৃশ্যান্তরের চমকে সংবেদনশীল। আর সেই মায়াবী জগতের রহস্য ও রোমাঞ্চকর অনুভূতি সকলের জন্য অনাস্বাদিত অভিজ্ঞতার নাম দিলেন কবি “ধানমন্ডি হ্রদ”।

প্রিয় কবি শেখ ফিরোজ আহমদকে নিয়ে লেখা আমার জন্য দুরূহ না অতীব দুরূহ একটি কাজ। তবুও এই দুঃসাহসিক কাজটি করছি তাঁর কবিতায় ক্ষুদ্রকে বৃহৎ করে তোলার যে বাক চাতুর্য, অনুভূতির অনুভূমি সাজিয়ে মানব মনের অন্তরালে যে মায়াবী জগতের বাসে তার বুননে যে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন সেই দায়বদ্ধতা থেকে। তাঁর কবিতায় তিনি মুগ্ধতাকে, বিষাদকে বা ব্যক্তিগত দার্শনিক উপলব্ধিকে কখনো শব্দের অনুভূমে, কখনো চিত্রকল্পে, কখনো সরাসরি মন্ত্রের মতো জাদুকরি শব্দমন্থন করে বাক্যের পিরামিডের মাধ্যমে নিজ অভিজ্ঞতা বা কল্পনায় মানব মনের নিগূঢ় বাসনার কথা ব্যক্ত করেছেন। এই জন্যই কবি শেখ ফিরোজ আহমদ স্বতন্ত্র এবং ঋদ্ধ।

“ঘুম ও তন্দ্রার ডাকাডাকি” কাব্যগ্রন্থটিতে চুয়াল্লিশটি কবিতা নিয়ে এক অনবদ্য সৃজন কবির। কবিতাগুলো ছোট হলেও ভাব ও ভাবনায় কবি কাব্যগ্রন্থটির নামকরণের সাথে ষোলআনা মিল রেখেই পাঠককে নিয়ে গেছেন এক অচিন জগতে যেখানে স্বপ্ন ও মূর্ত যেন এক বৃত্তে অথচ ভিন্ন। এই স্বাদই পাঠককে মোহগ্রস্ত করে রাখে কাব্যগ্রন্থটি।

তন্দ্রা আমাকে ফেলে দেয় খাট থেকে
আমি বিমূঢ়, শূন্যদৃষ্টিতে দেয়ালের দিকে তাকাই
সেখানে চিকা মারা ‘তুই আমার কাছে আয়’

-ঘুম ও তন্দ্রার ডাকাডাকি / ঘুম ও তন্দ্রার ডাকাডাকি

ইষ্টনাম জপ দিয়ে কবিতা শুরু হলেও ‘আয় ডাকের’ মাঝেই কবির যেন যাত্রা শুরু দৃশ্যলোক থেকে অদৃশ্যলোকে। ঘুম ও তন্দ্রা জগতে মানুষ যেমন মোহাচ্ছন্ন হয় তেমন বোধই কাজ করেছে কবিতার সর্বাঙ্গে। তাই তো কবিতায় আবারও দেখতে পাই আরেক জগতের দৃশ্য:
ঘুমের আলিঙ্গনে আমি সতেজ হয়ে উঠি মাতৃগর্ভের নিশ্চিন্ত নির্ভরতায়

তন্দ্রা আমাকে ডেকে নেয় শাস্তির উসিলায়

তন্দ্রা আমাকে ঘুমুতে দেয় না
ঘুম বলে, আয় মাতৃগর্ভের মতোন নিশ্চিত আশ্রয় পাবি,
ঘুম ও তন্দ্রা আমাকে ভাগাভাগি করে
অথচ আমি শুধু নীলিমার কাছেই যেতে চাই মনপবনের বৈঠায়।

-ঘুম ও তন্দ্রার ডাকাডাকি / ঘুম ও তন্দ্রার ডাকাডাকি

কবির যাত্রা যেন বহুদিকে বহুলোকে কখনো প্রেমিকার দিকে আবার কখনো অন্য ভুবনে যাবার আকাঙ্ক্ষা। তবে অন্য ভুবনে প্রবেশের আগেই তিনি যেতে চান তাঁর তিলোত্তমাসম প্রেমিকা নীলিমার কাছে, কবিতায় মূর্তমান-

অন্যভুবনে যাবে বটে, ইষ্টনামও নেব কোনো একদিন
তবে তার আগে নীলিমার কাছে যেতে চাই।

-ঘুম ও তন্দ্রার ডাকাডাকি / ঘুম ও তন্দ্রার ডাকাডাকি

জগতের বিচিত্র সব পথই কবিদের জন্যই শুধু মসৃণ। জগতের দশদিকে শুধু কবিরাই আনন্দে নয় সানন্দে গমন করতে পারে। কারণ, কবিরাই পারে সব হাসতে-হাসতে, কাঁদতে-কাঁদতে বরণ করতে। কবি শেখ ফিরোজ আহমদও তার ব্যতিক্রম নয়। তাঁর মনের আকাশে শব্দ ভাণ্ডার যেন অফুরন্ত। এই অফুরন্ত শব্দ ভাণ্ডারকে প্রস্ফুটিত করে যখন কবি লিখেন-

বেদনার অশ্রুপাত মুছে গিয়ে জাহাজের জলসীমানায়
সুখ-দুঃখের ছোট সংসারে
আমিও আনন্দ চাই
ইচ্ছাধীন উড়তে আমারও পাখির ডানা চাই

তাতে যদি অ্যালবাট্রস পাখি হই আর আকাশের নাম
‘শঙ্খনীল কারাগার’
তাতেও আমার কোনো আপত্তি নেই, মহাজন।

– আমার ছোট্ট দাবি আছে, মহাজন / ঘুম ও তন্দ্রার ডাকাডাকি

সুখ-দুঃখ, বেদনা-আর্তি, স্বপ্ন ও কল্পনায় কবি ব্যাকুল। আরাধ্য অনুরাগের অনুরাগিনীকে প্রবল প্রণয়ে চাওয়া সত্ত্বেও তার সত্তায় তাকে জড়াতে চাননি। ধীমান কবিকে যেন চর্যাপদের কাপালিকের মতোই পাই। ডোম্বির আছে গভীর অনুরাগ কিন্তু অনুরাগের চেয়েও তাঁর বড় ভয় দারিদ্র। সূক্ষ্ম কারুকাজে শৈল্পিক শব্দের সৃজনেই সৃষ্টি করছেন কবির অনুধাবন।

ধলেশ্বরী নদীর তীরে পিসিদের বাড়ি
আড়ি আড়ি যার না ঐ বাড়ি
ভারীই অভিমান সমস্ত সম্ভবের…

পিসি গো, আমি সাহস পাইনি মেয়েটির দুর্গতির কথা ভেবে-

পরনে ঢাকাই শাড়ি সে আসে যায়
আমিও ব্যাকুল, তারে রোজ দেখি কল্পনায়

– পরনে ঢাকাই শাড়ি / ঘুম ও তন্দ্রার ডাকাডাকি

রূপকথা কবিতাকে যেন নানা রূপে নানা সুরে বাঁধে। শারীরিক বিজ্ঞানেও যেন ফোটানো যায় লোকসংগীতের মানবিক ইতিহাস কবি তাঁর অসাধারণ বোধ ও বোধনের মধ্যদিয়েই রূপকের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন। শিল্পবোধ যেন কবির প্রতিটি লোম কূপে কূপে, চোখের ফোয়ারায়, হৃদয়ের ব্যাকুলতায় নানন্দিক হয়েই ফুটেছে। জীবনের বহুরূপী মাধুর্য তাঁর কবিতার পরতে পরতে। এ যেন কবির সোনা ফলানোর কবিতার মাঠ।

শারীরিক বিজ্ঞানে যদি ফুল ফোটে সভ্যতা টিকে থাকে
এই রকম একটা বিদ্যালয়ে আমি তোমাকে শিক্ষিকা বানাতে চাই
আামদের জমি আমরা নিজেরাই বানিয়ে নেব
এখানে চাঁদ উঠবে, সূর্য হবে- জোয়ারভাটারা আসবে
প্রকৃতির শৃঙ্খলায় অর্থময় জীবনে নতুন করে রচনা হবে
আমাদের লোকসংগীতের ইতিহাস।

-একটি বিদ্যালয়ের গল্প / ঘুম ও তন্দ্রার ডাকাডাকি

শব্দের শরীরেও যে অলঙ্কার পড়ানো সম্ভব কবি তাঁর ব্যবহার ষোলকলা পুরা শশীর মতোই করেছেন। কবিকে যেমন হতে হয় কল্পনা বিলাসী তেমনি উপমা বা অলঙ্কার প্রয়োগে হতে হয় বাস্তববাদী। কবিতাকে জীবিত রাখতে কবিকে এই খেলায় মেতে থাকতে হয় মনে ও মননে, ধ্যানে ও জ্ঞানে। “ঘুম ও তন্দ্রার ডাকাডাকি” কাব্যগ্রন্থ পাঠক মনে সেই দোলা দিতে সক্ষম এবং পাঠককে কবিতা থেকে কবিতাভূমে বিরচণ করাতে সক্ষম। “ঘুম ও তন্দ্রার ডাকাডাকি” কাব্যগ্রন্থটি থেকে কবিতার দুই-একটি চরণ কোট করে বিচার করা প্রায় অসম্ভব। কারণ, কবির শব্দ বুনন এতোটাই নিপুণতার সাথে প্রয়োগ করেছেন যেন একবৃন্তে একটি ফুল হয়ে ফোটা প্রতিটি কবিতা।

উপত্যকায় শস্যবিদ্যা স্থির
নদী থেকে সাহস ও গতি, কথা কাকলিমুখর
ওই চোখে বারো মাসই প্রকৃতির
জলজ সৌন্দর্য, বাতাসে উড়বার শিহরণ
ওড়ে কালো কালো চুলগুলি
কন্যা, রহস্যময়ী দ্রাবিড়ার…

ওড়ে অববাহিকায় সারাটা বছর।

  • কন্যা, রহস্যময়ী দ্রাবিড়া / ঘুম ও তন্দ্রার ডাকাডাকি

অথবা,
জনকম রহস্য বানাও
বায়ুমণ্ডলও বলে সেই কথা,
মায়েরও থাকে প্রাকৃতিক
গৃহকাতরতা-

সূচনায়ও ছিল তাদের পালকি বিহার।

  • সূত্র / ঘুম ও তন্দ্রার ডাকাডাকি

প্রেম ও বিরহ জীবনের আরেক সাতকাহন। প্রতিটি মানুষের জীবনই যেন এ ক্ষেত্রে অপূর্ণ। কবির কাব্যেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কিন্তু কবির চমক অন্যখানে-

খানিকটা বিষণ্ন করে দেয়
তোমার উপস্থিতি
যেমনটি শীতকালের পাতাহীন
প্রান্তর

– তেমনই আছো / ঘুম ও তন্দ্রার ডাকাডাকি

কতটুকু বিরহ থেকে উচ্চারিত হতে এমন চরণ অথবা কত গভীর অনুভূতির অনুধাবন থেকেই আসতে পারে এমন উপমা তা সান্দ্র হৃদয়ে ভাবলেই বোঝা যায়।

“ঘুম ও তন্দ্রার ডাকাডাকি” কাব্যগ্রন্থের প্রতিটি কবিতাই যেন কবির একট একটি উপলব্ধির জাগরণ। কবিতাগুলো পাঠে যেমন আনন্দ তেমনই আছে বোধনের জাগরণ।

বিষে প্রজাপতি, মধুতে মৌমাছি
অপমানে, দুঃখে মর্মপীড়িত বাগান আজ মুহ্যমান
কিচির মিচির বিরক্তির পাখি
খোদক তবে খুঁড়ুক স্মৃতির ঘর-বাড়ি…

-স্মৃতির ঘরবাড়ি / ঘুম ও তন্দ্রার ডাকাডাকি

স্মৃতির ঘরবাড়ি কবিতাটি থেকেই চলে যাবো কবির আরেকটি কাব্যগ্রন্থ “ধানমন্ডি হ্রদ” নামক কাব্যগ্রন্থে। মাত্র ছয়টি দীর্ঘ কবিতার সমন্বয়ে সমাপ্ত হয়েছে “ধানমন্ডি হ্রদ”। ধানমন্ডি হ্রদ থেকেই কবি এক মায়াবী মোহগ্রস্ত জীবনের সন্ধান পেয়েছেন, যেখানে তিনি খুঁজেছেন একবার জীবনের নিগূঢ় বাস্তবতা আবার কখনো ফিরেছেন চেতনার জগতে, আর এই চেতনার জগৎ থেকেই খুঁজেছেন জীবন উপলদ্ধিব মহাজনকে। এই মহাজন শব্দটির দ্বারা কবি যেন রবীন্দ্রনাথের জীবন দেবতার কাছে আমাদের হাজির করে। কাব্যিক উপলব্ধির জগৎ এক মায়াময় বিচিত্র জগৎ। এই জগতে যে যত ডুব সাঁতারে মগ্ন হবে সে তত কাব্যের স্বাদ গ্রহণ করতে পারবে। কবির “ধানমন্ডি হ্রদ” কাব্যগ্রন্থটি আমাকে তেমনি এক স্বপ্নজালে আবদ্ধ করেছে। কবির জীবন বোধের সাথে আমার ক্ষুদ্র চিন্তার সন্নিবেশ ঘটাতে পারবো কী না এ নিয়েও আমি সন্ধিহান। একদিকে যেমন আধ্যাত্মিক জীবনের পারসোনা অন্য দিকে আছে নিজস্ব জীবন বোধের প্যারাডাইম। দীর্ঘ বা মাঝারি কবিতায় ব্যপ্ত হয় বহুমূখী চেতনার সূক্ষ্মবিন্যাস। কবিতায় কখনো আসে বাস্তব জীবনের পরিমণ্ডল, কখনো আসে জীবনের হতাশা বা আশার স্বপ্ন, কখনো নিবিড়ভাবে প্রকাশ পায় পারলৌকিক জীবনের অসীম ভাবনা। কবির “ধানমন্ডি হ্রদ” বহুদিকের নানা সংগীতের যেন ঐকতান।

দীর্ঘ কবিতা পড়তে শুরু করলে পাঠকের একটি ক্লান্তি বোধ আসে কিন্তু “ধানমন্ডি হ্রদ” পড়লে গেলে সেই অবকাশ নেই। শব্দ ব্যবহারের নৈপূন্যে যেন পাঠককে সমাবিষ্ট করে ফেলে। কবিতা পাঠের যাত্রাপথে বিঘ্নতা তো আসেই না বরং এক সুরেলা তানে পাঠক মন দোদুল নৃত্যে দুলতে দুলতে প্রবেশ করে এক আবেশের জগতে। পড়া শেষ হলেও রেশটুকু থেকে যায় মনের কোণে বহুমাত্রিক বর্ণছটায়। কবিতার কিছু অংশ নিয়ে আলোচনা করে “ধানমন্ডি হ্রদ” কাব্যটির মূল্যায়ণ আমার নিকট যেন একটু কষ্টসাধ্যই। কারণ, সবটুকুও খাঁটি সোনা একদানাও বেঙ্গা পিতল নয়। তবুও আলোচনার খাতিরে আমাকে কোট করতেই হচ্ছে।

ধন্দ লেগে আছে ধন্দ লেগে যায়
আমরাও একই খেলা খেলি, তিনি খেলনা শিকারী মহাজন
বনগুলোতে আলো, বনগুলোতে অন্ধকার
উজনভাটির পুরনাবৃত্তিময় স্রোতসকল মুখস্ত বিদ্যায়
লিখে চলে প্রকৃতির নিয়মের পৃষ্ঠাগুলি-

===============================

তবে কি আমাদের কোনো লক্য নেই, জীবন কী অর্থহীনতার
পিছনে ধাবমান কিছু?
নভোমণ্ডলে মহাজনের কারখানায় বিরচিত চিত্রনাট্যে
আমরা চলি, বলি, করি আর ধানমিন্ডি হ্রদ
দেখে দেখে বড় হই লক্ষ্যের সন্ধানে-
কর্তিত-খণ্ডিত সত্তার আমি কিছু নই, আমি পূর্ণতর মানুষ
এই মতো মর্যাদা আমাকে দিও মহাজন

-ধানমন্ডি হ্রদ / ধানমন্ডি হ্রদ

ইতিহাসের রক্তাক্ত বেদনার বাঁশির সুর সমস্বরে বেজেছে কবির মনোজগতে। সেই মনোজগতের ক্ষরণ দেখতে পাই যখন কবির ভাষায়-
লাল রক্ত অশ্রুসজল ধানমন্ডির হ্রদে এসে

অবশেষে মেশে,
৩২ নম্বর বাড়ি সেই থেকে আমাদের ধমনী স্পন্দনে অবিরাম।
এই বাড়ির সামনে দাঁড়ালেই আমার শরীর
শিরশির করে কেঁপে ওঠে
আমি স্তম্ভিত বিষ্ময়ে প্রতিবারই আকাশ দেখি,
এই বাড়ির সামনে যতবার দাঁড়াই
ততবারই সমুদ্র বাতাসের ছাপটায় আমার ভিতরটা
আর্তনাদ করতে থাকে:

-ধানমন্ডি হ্রদ / ধানমন্ডি হ্রদ

এই অবিরাম বেদনার চিত্র যেন কবির হৃদয় অভ্যন্তরের। মূর্ছিত বেদনার মাঝেও কবি ধানমন্ডি হ্রদের মাঝেই দেখেছেন স্বপ্ন বিলাসী চোখে অপরাজিত বাংলার শুদ্ধ স্বরের সুর।

সেইখান থেকে সময় ডিঙিয়ে ব্যাধ
আমাকে সঙ্গে নিয়েই যাবে, খাবে না ঘুষ সে
যদিওবা আমার ফুসফুস তার রিমোট কন্ট্রোলে।
আগন্তুক সে ধাপে ধাপে
আগুয়ান ধানমন্ডি হৃদের বুক চেরা কিনারায় শস্যের ফলন;
দখলদার উচ্ছেদ যদি হয় দলন মুছে গিয়ে
আসবে জলের কল্লোল

-ধানমন্ডি হ্রদ / ধানমন্ডি হ্রদ

আর কি প্রত্যাশা থাকে কবি কাছে! তবুও কবি থেমে নেই, স্বপ্নজালে বন্দি করেছে শব্দের পিরামিড। আশার আলোয় নিয়েই যেন স্বপ্নারথে আরোহণ কবির। তবে দোটানায় মন, এটাই মানবজনমের বড় খেলা, দোটানায় ভুগে সারাক্ষণ।

মহাজন, স্বপ্নারোহণে আমি উর্ধ্বমুখী তোমার দিকেই
আসন্ন মুহূর্তে প্রত্যাদেশের স্বর
আমি টের পাই রজনীর ইংগিতে, বাতাসে ভাসতে থাকে
ইন্দ্রজাল বিরচিত দৃশ্যাবলী- অভ্যন্তরে ছমছমা রহস্যের প্রত্ননগরী,
আমি যতোই যেতে চাই দ্বিধায় ভুগি
ততবার আমারই নিজের সাথে নিজেরই দোটানায়

-সিংহদুয়ার / ধানমন্ডি হ্রদ

স্মৃতিময় জীবনের ইতিহাসে কবি যেন স্বরবিদ্ধ। আবার কখনো কখনো হয়ে উঠেছেন স্ববিরোধী। ইতিহাস ও ঐহিত্যের সংমিশ্রণের তাঁর কাব্য ভুবন রক্তিম। আবার কখনো যেন কবিই নিজেই আরক্তিম। “তূণীর” যেন কোন কবিতা নয়, এ এক মহাকালের বাহক। কবির জীবন সংলগ্ন কাতরতা আবার শান্তি প্রিয় শান্ত স্বভাবের কবির মধ্যেও মাঝে মাঝেই দেখা দেখা যায় প্রতিবাদ ও বিদ্রোহের সুর। “তূণীর” কবিতার ভাব ও সংলাপ এক নাটকীয় আবহে আহবের ডাক দিয়ে যাওয়া এক সুরাবিষ্ট গতিময় কবিতা।

সেখানে মেঘ যদি হাসে হাসে রোদ যে যার মতো
তূণীর তপ্ত হয়ে ওঠে পিঠে

এই পিঠে আমাদের হাজার বছর,
পিঠেই ধর্মশ্লোক-
খৈয়ামের রুটি-মদ আর আমাদের ভোট রঙ্গ
চা আমাদের ভোট প্রার্থীর রঙ।
উর্ধ্বমুখী বিড়ির ধোঁয়ায়- চাষবাস বন্ধ হলে অনাবাদি মাটির কি হবে-

-তূণীর / ধানমন্ডি হ্রদ

কাল ও মহাকালের ব্যাপ্তিতে নিজস্ব জগৎ রচনা করে নিজেকে অসীমের পথে যাত্রা করেই কবি খুঁজেছেন মহাজনকে। তার সুপ্ত ও ব্যাপ্ত অভিপ্রায়ে বরাবরই অতিক্রম করেছেন মনোজগতের কাছে। মহাজনের সান্নিধ্য তাঁর আত্মিক; আত্মতা নয়। পূর্নিমার আলোয় অথবা উড়ন্ত আকাশের ছায়ামেঘে ঘোরগ্রস্ত হয়ে হয়ে মহাজনের সান্নিধ্যই কবি। মহাজনই দিয়েছেন তাকে আপন ব্যাকরণ; যেখানে খোঁজে পেয়েছেন জ্ঞানবৃক্ষের আকর। আর এই বৃক্ষসাধনাই মগ্ন কবি-

এই নদীবক্ষেই জগতেরই রূপান্তরিত মুখশ্রী পূর্ণিমা
সম্বল করে মহাজন পরিব্যাপ্ত টহলে নামেন,
সেই আলোয় শামুকের খোলের ভিতরের অবিশ্রান্ত শোঁ শোঁ বিলাপে
রহস্যের অন্তহীন ঢোল বাদন জগতের কারখানায়।
বলে, দেখ- এই নদী-রাত্রি, এই লঞ্চ-মানুষ, এই চরাচর
আমরা সমুদয় খেলনা, তুরুপের তাস

-ভালোবাসা চাঁদের আলোয় / ধানমন্ডি হ্রদ

“ভালোবাসা চাঁদের আলোয়” কবিতাটি কবির সম্মোহনের আত্মবোধন। জগতের স্বপ্নময় দৃশ্যালোক অবগাহন করেই কবির দৃষ্টিতে তোলে এসেছেন তিলোত্তমা পৃথিবীর সৌন্দর্যের ব্যাকরণ।

পূর্ণিমার আলোর লেখা এই কবিতায়
উড়ন্ত আকাশের ছায়ামেঘ, আমি সেই ঘোরগ্রস্ত চাঁদের সঙ্গী
জলের প্রতিমায় দেখি আত্মার সমূহ ভ্রমণ-
বাদুড়ের ডানায় উড়ি, পরীর পাখনা থেকে নেমে
টুংটাং জন্মের সারিন্দা বাজাই।
সাজাই পাঠ্যক্রমে কিছু জিঞ্জাসা-

-ভালোবাসা চাঁদের আলোয় / ধানমন্ডি হ্রদ

“ভালোবাসা চাঁদের আলোয়” কবিতায় কবির অনুভব যেন মর্ত্য প্রেমে আবদ্ধ করে আমাদের। আমরা হয়ে পড়ি কবিতার মোহে মোহগ্রস্ত পার্থিব জীবনের প্রতি। কিন্তু কবি আবার হঠাৎ করেই আমাদের নিয়ে যান অন্য এক ভুবনে। “ভালোবাসা চাঁদের আলোয়” কবিতায় যখন কবির ভাষ্যে, “মহাজন, দিয়েছো তো আলোর ব্যাকরণ”। অথবা, “প্রভু, একটু জল দাও। আমি অনুকম্পায়ী জলের বিস্তার দেখি-”। অথবা, “ ইভ সর্বনাম- সকল জ্ঞানের আকর”। এ যেন কবির অন্যলোকে গমন। কবি যেন এখানে দৃশ্যালোক থেকে অমৃতালোকে গমনে প্রত্যাশী। তাঁর পরবর্তী কবিতা “শেষ জিজ্ঞাসা” কবিতা যেন আরও সোচ্চার অনুসন্ধিৎসা। কবিতাটির ব্যপ্তি ও ব্যঞ্জনা সংশয়ের অনন্তযাত্রায় উন্মুখ হয়ে অজস্র ভাবনার অবতারনা ঘটায়। আমরা হয়ে উঠি চেতনাবাদী।

আমি রেললাইন ঘটনার ঝিকঝিক, ঘটাংঘট জংশন বদলাই
নাই, নাই- শূন্যে সাদা কাক, কালো রঙ মানুষ
মগজ, আমার গলিত মগজ বেয়ে আবর্জনা ড্রেনে ভেসে যায়
মগজ পবিত্র মাতৃদুধের মতোন-
ভেজাল, গোয়ালা, ভেজাল ভেজাল দিলে
নিলে অস্তিত্বের সুধাপাত্রে কলংকের নিন্দাপাপ
অপবাদ ক’জন্মের পুন্যে খণ্ডাবে!

-শেষ জিজ্ঞাসা / ধানমন্ডি হ্রদ

অজস্র প্রশ্নের মুখোমুখি মহাজন কবির কাছে। কবি যেন মর্তের দৃশ্যলোরে রাজনীতির বিষাক্ত সুরে মৃত্যুকবলিত বধ্যভুমির করোটির অক্ষিকোটরে বোনা ভবিষ্যতের বীজ প্রজন্ম নিরিখে অমৃতলোকের আলোর পথযাত্রী। সফেদ শুভ্র শীতল এক পৃথিবীই কবির আরাধ্য। কিন্তু তেমন পৃথিবী গড়ার পথে অজস্র বাঁধা, তাই প্রভুর কাছে তার শেষ প্রশ্ন-

আমাদের মগজ কেন তবে দিয়েছিলে প্রভু, কীটের দখলে!
-শেষ জিজ্ঞাসা / ধানমন্ডি হ্রদ

“ধানমন্ডি হ্রদ” কাব্যগ্রন্থটি আকারে ছোট কিন্তু প্রকরণে অনেক বড়। জীবন এখানে কখনো সরল সমীকরণে সমান্তরালে আবদ্ধ আবার কখনো জটিল থেকে অদৃশ্যলোকের ভাবনায় পাঠককে করে তোলে মোহাবিষ্ট। রস বিবেচনায় কাব্যগ্রন্থটি করুণ রসসিক্ত মহাকাবব্যিক আঙ্গিরের দাবী রাখে। কবির “ধানমন্ডি হ্রদ”-এর শেষ কবিতায় কবি যেন ইহলৌকিক বন্ধন ছেড়ে চির প্রশান্তির বুকে ফিরে যেতে উন্মুখ। প্রাণী মাত্রই মায়ের বুক চির প্রশান্তির। কবির শেষ কবিতাও সেই সুরের মূরজবীণার করুণরাগিনী শুনিয়েছেন। কবি দীর্ঘতম ঘুমের মধ্য দিয়েই খোঁজেছেন গভীর প্রত্যয়ে প্রশান্তি।
দীর্ঘঘুমের ভিতর দিয়ে আমার আধ্যাত্মিক পর্যটন সমাপ্তির অপেক্ষায়

আমার মা, প্রিয় পুত্র তার কোলে ফিরবে—
এই প্রত্যাবর্তন সত্যিই কি এতো সহজ?
মুনকার-নকীর কিংবা পুলসিরাতের অগ্নিপরীক্ষা
মাতৃ আহ্বানের কাছে মোম গলা নরম সন্ধ্যায় রূপ নেয়,
মাতৃ আহ্বানের রহস্য তীব্র টানে বিমূঢ় মহাজন
তার শাসনের সকল গ্রন্থি শিথিল কিংবা ছিন্ন করে আমাকে
ইশারায় দেখায় মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশ
মহাজন, আমার মাকে ক্ষমা করুন, ক্ষমা করুন পৃথিবীর সকল মাকে
যারা তোমার বৈচিত্র্য রক্ষার মাতা এবং পিতা হতে পারেননি
তাদেরও তুমি ক্ষমা করো

-মায়ের কাছে যাবো / ধানমন্ডি হ্রদ

শান্তির নীড়, প্রতীক্ষার নীড় মা ও মাটি ছাড়া আর কী হতে পারে? তবুও কবি পৃথিবীর রূপরস আস্বাদনের দিকেও মুখ ফিরান। মায়াময় পৃথিবীর মায়া, সৌন্দর্য, রহস্য- কিংবা অধরা প্রেম, আকাশ-সমুদ্র-পর্বত সব কিছুর স্বাদ নিয়েই কবি চান পিতৃত্বের স্বাদ। এখানেই যেন কবি পরাবাস্তব থেকে বাস্তব জগতের মোহনায় কবির গমন।

কবি শেষ কবিতায় এসে যেন ব্যাকুল। জীবন বোধের চরম তৃষ্ণায় সে কাতর। তাই তো মহাজনের বিরুদ্ধে উঠে এসেছে তাঁর কাব্যভূমে অভিযোগ। মহাজনের বিরুদ্ধেও তুলেছে প্রহসনের অভিযোগ। জগতের সব কিছু শ্বাশত নয় কেন; স্বল্পায়ু কেন কাশফুল? কবির একাকিত্ব সুর যেন করুণ বেহাগের সুরে প্রচ্ছন্ন করে তোলে এই সুন্দর পৃথিবী হাজার বছর ধরে রক্ত-অস্থি-মজ্জায়; এতো ভালোবাসা চারপাশে তবু কবির একা পথচলা, যেন দিগন্তের সীমানা সীমানাবিহীন। তাই কবির কাব্যে মূর্ছিত সুর-

অন্ধকারের সুড়ঙ্গে আমাকে ঠেলে দিয়েছ তুমি মহাজন
আমি শ্বাস নিতে পারি না
মা, আমি তোমার কাছে যাবো অন্যভুবনে
মা, তুমি আলিঙ্গনের স্নেহময় বাহু বাড়িয়ে ডাক দাও
মহাজন যাতে স্তব্ধ নিথর হয়ে সেই ডাক শোনে

-মায়ের কাছে যাবো / ধানমন্ডি হ্রদ

মহাজনের ডাক অগ্রাহ্য করার ক্ষমতা কারো নাই তাই তো কবি ঘুমোতে চান। কিন্তু ঘুম শেষে জেগে কবি মায়ের নিরাপদ স্নেহের আলিঙ্গন চান। এই পৃথিবীর অপূর্ণতার বহর দেখে কবি ক্লান্ত ও পরিশীর্ণ। পৃথিবী যেন কাছে অপূর্ণ; কোন মেয়েই তাকে সূর্যমুখী বাগানে বেড়াতে নিয়ে যায়নি। সবশেষে কবি জগতের প্রতি নিরাসক্ত নির্বিকার হয়েও কবি মহাজনের কাছে চেয়েছেন অফুরাস চারপাশের মানুষের প্রতি অফুরান প্রেম। আর এই প্রেম নিয়েই কবির যাত্রা-

আমাদের গাণিতিক জগতের কুটিল-ঈর্ষাগুলি পুড়িয়ে
মশা তাড়ানো বরং ভালো
প্রতিটি মানুষকে ঘিরে গড়ে ওঠে একেকটা পৃথিবী
আামর কোন পৃথিবী, রাজ্যপাট, উত্তরাধিকার, সৃষ্টিস্বপ্ন কিছু নাই

বেলা পগে আসছে। আমি পতেঙ্গায় দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখি
তবে এই বেলা পাততাড়ি গুটাতে হয়, আমি মায়ের কাছে যাবো।

-মায়ের কাছে যাবো / ধানমন্ডি হ্রদ

কবিতার শেষ চরণ যেন আমাদের যেন আনন্দলোকে মিলনের চিরপ্রশান্তির দিকে নিয়ে যায়। কবির কাছে তুচ্ছ হয়ে যায় সমাজ-সংসার। প্রিয় মিলনের সান্নিধ্য খোঁজে মহাজনের।

কবিতা কোন গাণিতিক সমীকরণ নয় যে এর কোন ফলাফল নিরূপন যোগ্য। কবিতা তো নীলাচলের মেঘ, যার দৃষ্টি যেমন সে সেভাবেই উপলদ্ধি করবে। অর্থাৎ কবিতার বিরচণ পাঠক মনের উপলদ্ধির উপর।

পরিশেষে কবির রচিত কবিতা নিয়ে সমালোচনা গ্রন্থ “কবিতাগুলো অন্যরা লিখেছিল” গ্রন্থের উদ্ধৃতি শেষ করবো- লিখন প্রকরণ, স্বকীয় কাব্যভাষা ও দর্শনের স্বাতন্ত্র্যের সুনির্মাণে কিছু কবিতা দৃষ্টি আকর্ষণকারী কালবিজয়ী হয়। এসব কবিতা মানুষের মুখের ভাষা অবলম্বন করেই রচিত। মানুষের দ্রবীভূত হৃদয়ে কবিতার কথ্যভাষা থেকে কাব্যভাষায় উত্তরণ অবশ্যই বিশেষ কিছু একটা ব্যাপার। কথ্যভাষার মধ্য থেকে উদ্ভুত হয়ে এই যে হৃদয়ে ঠাঁই-পাওয়া একটা ভাষার সুঘ্রাণ কবিতায় আসে; তা তা অবশ্যই অলৌকিক একটা কিছু- হয়তো সে-ই কবিতার প্রাণভোমরা। এখানে সুপ্ত থাকছে অনন্য অর্থের ইশারা, জীবনের সংকেত উপলব্ধির আবর্ত বা আচ্ছন্নতা-এই বিশেষ নবমাত্রা সৃজন কবিতাই করছে। যার উদ্যোগে জীবনের প্রতি প্রেম- ভালোবাসায় একধরনের মুগ্ধতার জন্ম হয়।

আপনার মতামত লিখুন :

শেয়ার করুন

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Sbtechbd Technologies