রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা : নিয়ম ভঙ্গ করে তিন শিক্ষার্থীকে দিয়ে দায়িত্ব পালন | Nobobarta

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা : নিয়ম ভঙ্গ করে তিন শিক্ষার্থীকে দিয়ে দায়িত্ব পালন

জি.এ.মিল্টন, রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০১৭-১৮ সেশনের বিজ্ঞান অনুষদের (সি-ইউনিট) ভর্তি পরীক্ষায় তিন শিক্ষার্থীকে দিয়ে কর্মচারীর দায়িত্ব পালন করা হয়েছে। বুধবার সি ইউনিটের তিনটি শিফটে এ দায়িত্ব পালন করে ওই ছাত্ররা। এটা নিয়ম নিয়ম বর্হিভূত বলছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষকরা।

দায়িত্ব পালনকারী ছাত্ররা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের তৃতীয় বর্ষের জাকির হোসেন, আব্দুর রহমান ও মো. সোহেল। জাকির হোসেন দ্বিতীয় বিজ্ঞান ভবনের ৩৩৪ নম্বর কক্ষে, আব্দুর রহমান তৃতীয় বিজ্ঞান ভবনের ৪২৪ নম্বর কক্ষে ও সোহেলকে তৃতীয় বিজ্ঞান ভবনের ৪২৫ নম্বর কক্ষে সহায়ক কর্মচারির দায়িত্ব পালন করেন। ওইদিন সকাল সাড়ে ৮টায় সি ইউনিটের (বিজ্ঞান অনুষদ) প্রথম শিফট সি-১, সাড়ে ১০টায় দ্বিতীয় শিফট সি-২ ও সাড়ে ১২টায় তৃতীয় শিফট সি-৩ অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষে তাদের হাতে প্রতিটি পরীক্ষার জন্য একটি করে মোট তিনটি ৫০০ টাকার খাম ধরিয়ে দেয়া হয়।

জানা যায়, নিজস্ব ক্ষমতা বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান তার নিজ গণিত বিভাগের তিনজন ছাত্রকে এ দায়িত্ব দেন। তিনি বলছেন মানবিক কারনে তাদেরকে পরীক্ষার হলে কর্মচারীর দায়িত্ব পালন করতে দেয়া হয়েছে। অন্য কোন কারণ নয়। তবে এ ঘটনায় শুধু মানবিক বিষয় নাকি জালিয়াতি বা অন্য কোন বিষয় আছে সেটাই এখন ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিচ্ছু, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্টদের।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভর্তি পরীক্ষার নীতিমালায় বলা হয়েছে পরীক্ষার হলে দায়িত্বরত শিক্ষক ও কর্মচারি ছাড়া একাডেমিক ভবনে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। এমনকি প্রক্টরের অনুমতি ব্যতিত কোনো কর্মকর্তা, আইনশৃংখলা বাহিনীর কোনো সদস্য, সাংবাদিকসহ কেউ প্রবেশ করতে পারবে না বলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হয়ে ছাত্রদের দিয়ে পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালন করা এটাই প্রথম। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় নজিরবিহিন। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালনকারী গণিত বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র জাকির হোসেন বলেন, আমাদের আর্থিক সমস্যার কথা জানিয়ে প্রক্টর স্যারের কাছে নাম দিয়েছিলাম। স্যার আমাদের দিয়ে একটি পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করিয়েছেন।

Rudra Amin Books

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হয়ে এ ধরণের কাজ কিভাবে করলেন সেটা আমার মাথায় আসছে না। তিনি খুবই খারাপ কাজ করেছেন। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘মানবিক কারণে ওই ছাত্রদের সহায়তা করার জন্য এই দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। অন্যকিছু নয়।’ জানতে চাইলে রাবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, ‘আমার কাছে এ ধরণের তথ্য এখনো আসে নি। তবে এটা যদি হয়ে থাকে চরম অন্যায় ও খারাপ হয়েছে। এটা মোটেই ঠিক হয় নি।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.