‘বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সংকট সুশাসনের অভাব’ : সুলতানা কামাল | Nobobarta

‘বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সংকট সুশাসনের অভাব’ : সুলতানা কামাল

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সংকট সুশাসনের অভাব। এর ফলে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। মানুষ পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। রাষ্ট্র নিজের হাতে আইন তুলে নিচ্ছে। এটি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের লক্ষণ নয়। আজ শনিবার দুপুরে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসজিডি) বাস্তবায়নে নাগরিক প্লাটফর্ম বাংলাদেশ সংগঠনের আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এ কথা বলেন।

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল ও রাশেদা কে চৌধুরী, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি’র) সম্মানয়ি ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ও নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, টিআইবির ইফতেখারুজ্জামান, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের শাহীন আনাম, ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম ও ব্র্যাকের সহ-সভাপতি মোসতাক রাজা চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সুলতানা কামাল বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় সুশাসনের অভাব। মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে, রাষ্ট্র নিজের হাতে আইন তুলে নিচ্ছে। এটা আধুনিক রাষ্ট্রের লক্ষণ নয়। এর ফলে সমাজের মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, একটি দেশের উন্নয়ন শুধু দেশের প্রবৃদ্ধি দিয়ে বিচার করা যায়না। মানুষ কতটা নিরাপদ, ন্যায়বিচার পাচ্ছে কিনা, সমতা ও অধিকার এই বিষয়গুলোও দেখতে হবে।

সম্মেলনে শাহীন আনাম বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সংকট সুশাসনের অভাব। দেশে অনেক ঘটনা ঘটছে। কিন্তু এর প্রতিবাদে কোন বলিষ্ট প্রতিবাদ আসেনি। এভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হলে এসজিডি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

Rudra Amin Books

প্লাটফর্ম গঠন সম্পর্কে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এজেন্ডা ২০৩০ এর রুপান্তরমুখী এবং অন্তর্ভূক্তিমূলক লিক্ষ্যগুলো সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের সম্মানিত ব্যক্তিদের উদ্যোগে এই প্লাটফর্ম গঠিত হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, বাংলাদেশের এসডিজি বাস্তবায়নের অগ্রযাত্রা ও মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা। বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের সচেতন করা যাতে এ লক্ষ্যে বিনিয়োগকৃত অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার সম্ভব হয়। এছাড়া বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় সচ্ছতা ও সামজিক অধিকার নিশ্চিত করা।

তিনি আরও বলেন, এসজিডি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের প্রস্তুতি ভাল আছে। কিন্তু সকল প্রক্রিয়া মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ সম্মেলনে সকল সদস্য রাষ্ট্রের সম্মতিতে এসজিডি-২০৩০ গঠিত হয়েছে। আগামী ২০১৬ থেকে ২০৩০ এর মধ্যে এসজিডি বাস্তবায়ন করা হবে।

—-আমাদের সময়

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.