গত মাসে সারাদেশে দুর্ঘটনায় নিহত ৫৫৩, আহত ৬৬৯ | Nobobarta

গত মাসে সারাদেশে দুর্ঘটনায় নিহত ৫৫৩, আহত ৬৬৯

গত মাসে সারাদেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে ৪৪৪টি দুর্ঘটনায় ৫৫৩ জন নিহত এবং ৬৬৯ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। দেশের দৈনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে আজ বুধবার এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। সংগঠনটির প্রতিবেদন হয়েছে, আগস্ট মাসে দেশের সড়ক-মহাসড়কে ৩৮৮টি দুর্ঘটনায় ৪৫৯ জন নিহত ও ৬১৮ জন আহত হয়েছেন। একই সময় রেলপথে ১৫টি দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। নৌপথে ৪১টি দুর্ঘটনায় ৮০জন নিহত ও ৫২জন আহত এবং ৩১ জন নিখোঁজ।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন বলছে, আগস্ট মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের মধ্যে ১৯৮ জন চালক, ১২৫ জন পথচারী, ৮০ জন নারী, ৪৪ জন শিশু, ৩৮ জন শিক্ষার্থী, ২২ জন পরিবহন শ্রমিক, ৬ জন পুলিশ, একজন বিমান বাহিনীর সদস্য, একজন সিআইডির সদস্য এবং একজন সেনাবাহিনীর সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া ৯ জন শিক্ষক, ৮ জন রাজনৈতিক কর্মী, তিনজন চিকিৎসক, একজন সাংবাদিক এবং একজন প্রকৌশলীর পরিচয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে ১৬৭ জন চালক, ১১০ জন পথচারী, ৬৩ জন নারী, ৩৪ জন শিশু, ৩২ জন শিক্ষার্থী, ১৭ জন পরিবহন শ্রমিক, ছয়জন রাজনৈতিক কর্মী, ছয়জন শিক্ষক, তিনজন চিকিৎসক, একজন প্রকৌশলী, একজন সাংবাদিক এবং পাঁচজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। আগস্টে সড়ক দুর্ঘটনার ২৮ দশমিক ৯৮ শতাংশই ঘটেছে মোটরসাইকেলে। এ ছাড়া ২১ দশমিক ৬১ শতাংশ ক্ষেত্রে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ১৬ দশমিক ১২ শতাংশ ক্ষেত্রে বাস, ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ ক্ষেত্রে অটোরিকশা, ৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ ক্ষেত্রে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৭ দশমিক ৭১ শতাংশ ক্ষেত্রে নছিমন-করিমন, ৭ দশমিক ০৩ শতাংশ ক্ষেত্রে কার-জিপ-মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় পড়েছে।

আগস্ট মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে ৪ আগস্ট। সেদিন ২৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন ৪৬ জন। সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনার খবর এসেছে ১৯ আগস্ট । সেদিন চারটি সড়ক দুর্ঘটনায় চরজনের মৃত্যু এবং তিনজনের আহত হওয়ার খবর এসেছে সংবাদমাধ্যমে। যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন বলছে, মোট দুর্ঘটনার ৫২ দশমিক ৮৩ শতাংশই ছিল গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা। ২৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ ক্ষেত্রে দুই বাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৩ দশমিক ৯১ শতাংশ ক্ষেত্রে গাড়ি খাদে পড়ে যাওয়া, ৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ ক্ষেত্রে অন্যান্যভাবে দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ ক্ষেত্রে ট্রেনের সঙ্গে কোনো বাহনের সংঘর্ষ এবং শূন্য দশমিক ২৬ শতাংশ ক্ষেত্রে চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে।

Rudra Amin Books

ওই মাসে মোট দুর্ঘটনার ৪৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ১৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ ফিডার রোডে ঘটেছে। ৫ দশমিক ১৫ শতাংশ দুর্ঘটনা ঢাকা মহানগরীতে, ২ দশমিক ০৬ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে এবং শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে ঘটেছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘দীর্ঘ লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকার সুযোগে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক ও জাতীয় মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা ইজিবাইক উঠে আসায় এবং বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। মোটরসাইকেলের সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি এবং বেপরোয়া চলাচল সড়ক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাড়াঁচ্ছে।’ মোজাম্মেল বলেন, উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, লাইসেন্স ও গাড়ির ফিটনেস পদ্ধতি ঢেলে সাজানো ছাড়া সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

0 Shares
Share
Tweet
Share
Pin