অচেনা প্রিয় | Nobobarta

আজ শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২০, ০৪:৫৭ অপরাহ্ন

অচেনা প্রিয়
পর্ব -১

অচেনা প্রিয়

Rudra Amin Books

ঐশী অর বাবা মার দ্বিতীয় সন্তান। বাবা ইমতিয়াজ খান চা কোম্পানিতে সুপারভাইজার। মা রিমি খান গৃহীনি ছিলেন। বড় ভাই মারুফ খান বেসরকারি ব্যাংকে চাকুরী করে। তারা দুই ভাইবোন ই খুব ভালো পড়ালেখায়। অদের ছোট পরিবারে মা নেই। যখন ঐশীর বয়স ১২বছর তখন তার মা মারা যান। উনার জরাইয়ুতে ক্যান্সার ছিলো, খুব লাস্ট স্টেজে ধরা পরে তাই বাচানো যাইনি।

অদের পরিবার খুব ছোট খাটো, আভিজাত্য না থাকলেও সুখের কমতি নেই। অর বাবা অর মাকে অনেক ভালোবসতেন, ভালো বাস তেন বললে ভুল হবে, এখনো ভালো বাসেন। বাবা প্রতিটা নামাযে থাকে মায়ের জন্য অনেক অনেক দোয়া আর কান্না। ঐশীর অনেক কষ্ট হয় মার কথা মনে হলে, কি আর করা আল্লাহ ইচ্ছা তাই অনেকটা নিজেকে সামলে নিয়েছে। বাবাকে খুশি রাখতে অরা ভাই বোনের চেষ্টার কমতি নেই, তার পরেও কারো শুন্য স্থান পূরোন কি করা যায়?অদের বাবা আর বিয়ে করেন নি। যদিও প্রথম প্রথম মারুফ আর ঐশী দ্বিতীয় বিয়ের বিপক্ষে ছিলো, পরে অরা দুই ভাই বোন আর ফুপি অনেক চেষ্টা করলেও অর বাবাকে মানানো যায়নি, বাবার এক ই কথা বলেন ” মানুষ মরে গেলে কি মায়া মমতা শেষ হয়ে যায়? আর আমার বাচ্চাদের আমি ছাড়া কেঊ নেই, আমার অ আর কেউ লাগবেনা।

ঐশী আর মারুফ এখন আর এই সব নিয়ে কথা বলে না। মারুফ আর ঐশী তারা এক জন আরেক জনের সাথে বন্ধু সুলভ, দুই ভাইবোন অনেক মিল। অরা ভাবে বাবা মায়ের মতো কি অরা এমন করে কাউকে ভালোবাস তে পারবে? ঐশীর ভাইয়ের বিয়ে ঠীক করে রাখা, মিরা অদের পরিবারে নতুন সদস্য অর্থাৎ মারুফের বাগদত্তা। খুব ভালো মেয়ে প্রতিদিন ফোন দিয়ে খুজ খবর নিবে, আর বাবা মিলার খুব ভক্ত, বলেন আমার দুই মেয়ে ঐশী আর মিলা। ঐশী ভাবে আজ মা বেচে থাকলে অনেক অনেক খুশী হতেন। উনি বেচে নেই কিন্তু উনার দোয়ায় আমরা কতো খশিতে আছি। এই সব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ বাবার কথায় খেয়াল হলো আজকে কলেজে ২য় বর্ষের প্রথম ক্লাস। তাড়াতারি রেডি হয়ে বাবার সাথে কলেজে রোয়ানা দিলো ঐশী।
কলেজে ডুকে ২য় তলায় অদের ক্লাস। বারান্দায় দেখা যাচ্চে সবাই দাঁড়িয়ে আছে, ঐশী ভাবেঃ এর মানে আমি ঠীক সময়ে এসে গেছি। সবাইকে সালাম

দিলো ঐশীঃ আসসালামু আলাইকুম।
সবাইঃ অয়ালাইকুম আসসালাম ঐশী
মিলিঃ আজকে নতুন ক্লাস আমার খুব এক্সাইটেড লাগছে
মৌরিঃআমারো
রিহাদঃ ক্লাসে যা মজা বুঝবি, মফিজ স্যার কিন্তু আমাদের সাথে দ্বিতীয় বর্ষে আছেন
সবাই এক সাথেঃ অহ নো
ঐশী মাথায় হাত দিয়েঃ কেনো যে নিয়েছিলা। এই সাব্জেক্ট আল্লাহ যানেন।
রোহানঃ হয়েছে খালাম্মা আপ্নের আর দেখানো লাগবে না। পরিক্ষায় তো ঠীক ই হাইএস্ট মার্ক নিয়া আসো।
রাদঃ ঠিক, সব চিন্তা তো আমাদের মতো আলাইস্যাদের জন্য।
ঐশীঃ হয়েছে এবার সবাই চলো ক্লাসে নাইলে দেরী হয়ে যাবে।
মিলি রিহান এর খুব ভক্ত,অদের মধ্যে কিছু আছে কিনা যানিনা। তবে রিহান আব সময় মৌরির দিকে তাকিয়ে থাকে,মৌরি চেয়ে অ দেখেনা। এখন সবাই আবার ভাব্বেন না যে ঐশীর অ কেঊ একজন আছে ।

আসলে আমাকে সবাই অনেক আলাদা ভাবে দেখে, ১ম বর্ষ থেকে ই আমরা সবাই বন্ধু, আমরা সবাই খুব মজা করি খুব ফ্রি একে অপরের সাথে, তবে ফরহাদ খুব রিজার্ব। অ খুব চুপচাপ শান্ত, বেশী কথা বলে না প্রয়োজন ছাড়া, তবে খুব ই ভালো বন্ধু আমাদের। আজকে সবার লাইব্রেরী কার্ড অ দেওয়া হবে নতুন করে।

ক্লাসে স্যার ডুকে গেছেন সবাই মন দিয়ে স্যারের কথা শুনতে লাগলো। ক্লাস শেষ হয়ে যাওয়ার পরে সবাই সবার যার যার মতো বের হয়ে গেলো।

ঐশীঃ কেউ যাবিনা লাইব্রেরিতে?
মোরিঃ না তুই যা আমি আর মিলি একটু অফিসে যাবো কাজ আছে,
ঐশীঃ আচ্চা
লাইব্রেরিতে গিয়ে কার্ড নিয়ে বই ঘাটা ঘাটি করছিলো হঠাৎ শব্দে চোখ ফিরিয়ে দেখলো আয়ান বই নিতে গিয়ে ফেলে দিছে কয়েক্টা বই।
ঐশীঃ আহা চল আমি হেল্প করি। মিছ দেখলে খবর আছে
আয়ানঃ ধন্যবাদ, কিভাবে যে পরে গেলো বুঝলাম না
ঐশীঃ আয়ান তুমার চশ্মার পাওয়ারটা বারিয়ে দাও। হা হা, একটা না দুইটা বইয়ের পাশ ধরে টান দিছো। হা হা
আয়ানঃ হা হা ঠিক বলেছো।
আয়ান অন্য ক্লাসের ছাত্র তবে অদের মধ্যে কথা বার্তা হয়। সবাই একসাথে বসে গল্প করে অরা।

এদিক্ব বাইরে ফরহাদ, রিহাদ, রোহান আর বন্ধুদের মধ্যে কথা হচ্ছেঃ
রিহাদঃ আচ্চা ফরহাদ তর সিক্রেট প্রেমের খবর কি। এখনো কি বলা হবেনা।
ফরহাদঃ সময় হলে সবাই জানবে
রোহানঃ আরে ভাই তা না হয় জানবো, কিন্তু যাকে পছন্দ করিছ তাকে তো জানাইয়েছিস
রিহাদঃ না রে এই আহাম্মক টা নাকি অই মেয়েটাকে ও যানায় নাই
আলবিঃ দেখ আর কেউ নিয়ে চলে যাবে আর তুই ললি পপ মুখে দিয়ে বসে থাকিস।
ফরহাদঃ তুরা বুঝবি না আমার অনুভূতি। বাদ দে।
রিহাদঃ মাফ চাই জনাব আর বুঝার দরকার নাই। হা হা হা
ফরহাদঃ তুমি তুমার টা সাম্লাও হাহাহা

মিলি আর মৌরি এদিকে আসছে দেখে সবাই এই সব কথা বাদ দিয়ে অন্য টপিক কে আলোচানা শুরু করলো। ফরহাদ,রোহান লাইব্রেরিতে চলে গেলো। ঐশী এসে যোগ দিলো।
ঐশীঃকি কথা হচ্চে আমি কি মিছ ক রে ফেল্লাম
সবাই হাসি শুরু ক রে দিলো
মিলিঃআরে না এইতো মফিজ স্যারের কথা আর কি। তা তুই কোথায় ছিলি দেরি হ লো যে
ঐশীঃ না একটা বই পরছিলাম হঠাৎ দেখী আয়ান অনেক গুলো বই ফেলে দিছে তাকে হেল্প করলাম তুলতে বই গুলো
আলবিঃ তুদের কারো কাছে কি বুক লিস্টের স্কিন শুট আছে?
সবাই মানা করলো
ঐশীঃ আমার মোবাইলে আছে, দাড়া তুদের সবাই কে গ্রুপ চ্যাট এ দিয়ে দেবো।( বেগ খুলে মাথায় হাত দিয়ে) সর্বনাশ মোবাইল তো মনে হয় লাইব্রেরিতে ফেলে এসেছি।
মিলিঃ আজব মেয়ে জলদি যা দেখ কেউ নিয়ে নিলো কিনা

ঐশী দৌড়ে গিয়ে খুজলো কোথায় ও পেলো না। কান্না করতে ইচ্চে করছে অর। এ রকম বোকামী কখনো করে নি। লাইব্রেরি তে যে ম্যাডাম আছেন উনাকে বলে আস্লো কেউ মোবাইল পেলে যানানোর জন্য।
মিলিঃ কিরে পেয়েচিস
ঐশী কাদো কাদো গলায়ঃ নারে পাইনি, বাসায় কিভাবে যানাবো
মৌরিঃ পাস অয়ার্ড দেয়া ছিলো তো?
ঐশী চিন্তিত গলায় বললোঃ না
মিলিঃ হায় হায় কি বলিশ, তাইলে তো ফোন টা গেলো
ঐশীঃ বাবা অনেক শখ করে দিয়েছিলো রে। আধা ঘন্টার মধ্যে কে নিয়ে নিলো, বেশী কেউ ছিলো না।
মৌরিঃ ফোনটা তো ব্যাপার না তোর ছবি ইনফ্রমেশন সব গুলো যাবে।
মিলিঃ তুই চুপ কর তো আর ভয় দেখাইস না। ঐশী পেয়ে যাবি চিন্তা করিস না।

লেখিকা :
চলবে……………


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.






Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta