আজ বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ০৩:৫৭ অপরাহ্ন

ফয়সাল হাবিব সানি’র `তুমি কি অামার কাজল হবে?

ফয়সাল হাবিব সানি’র `তুমি কি অামার কাজল হবে?

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  

১. তুমি কি অামার কাজল হবে?

তুমি কি অামার কাজল হবে? চোখের কোণে সঙ্গোপনে মন পবনের মায়া হবে
তুমি কি অামার বৃক্ষ হবে? ঝড় বাদলে রোদ অাদলে বুক ঠেকানোর ছায়া হবে
তুমি কি অামার অাকাশ হবে? অসীম মেঘে মুক্ত বেগে ছটফটানি পাখি হবে
তুমি কি অামার ব্যথা হবে? পষ্ট জলে ভ্রষ্ট তলে থরোথরো অাঁখি হবে
তুমি কি অামার হৃদয় হবে? বেদনা খুয়ে বিরহ নুয়ে চাতকরূপী কষ্ট হবে
তুমি কি অামার নদী হবে? স্রোতের মতো ভীষণ ক্ষত বুকে নিয়ে নষ্ট হবে
তুমি কি অামার রোদ্দুর হবে? দগ্ধ তাপে মনের মাপে একফালি চাঁদ বৃষ্টি হবে
তুমি কি অামার দূরত্ব হবে? দূরে থেকে অামায় এঁকে চোখ ফুরানো দৃষ্টি হবে
তুমি কি অামার কাছের কেউ কি হবে? ছুঁয়ে দিলে শুভ্র নীলে ঝাপটা কোনো হাওয়া হবে
তুমি কি অামার প্রেম হবে? নারীরূপে অন্ধকূপে তোমায় শুধু চাওয়া হবে
এর বেশি কি পাওয়া হবে?

অলক্ষ্য দুঃস্বপ্ন তোমায় অামার পাওয়া হবে!

২. তুমি বরং দূরে চলে যাও

যতোটুকু কাছে অাসলে ছোঁয়া যায় তোমাকে, স্পর্শ করা যায় তোমার হাত, তারপর শরীর- অামি বরং ততোটুকুই দূরে থাকব।
তুমি কিন্তু কাছে অাসতে চেয়ো না;
কাছে অাসলেই তোমায় হারিয়ে ফেলব অামার ভেতর।
কাছে অাসলেই তুমি’ হয়ে যাবে অামি’- অামি এতোটা `অামি’ নিয়ে কিভাবে থাকব বলো?
তুমি বরং অারও দূরে চলে যাও, যেখান থেকে দেখা যায় না তোমায়;
যতোটা দূরে গেলে তোমাকে খুঁজতে শিখব অামি, যতোটা দূরে গেলে তোমাকে খুঁজতে খুঁজতে পৌঁছে যাব নীল সমুদ্রের কাছে তুমি বরং ততোদূরেই চলে যাও…
তোমাকে খুঁজতে যেয়ে অামি সমুদ্র দেখতে চাই, হিমালয় দেখতে চাই, নীলনদ দেখতে চাই- তোমাকে খুঁজতে যেয়ে যেন অামি পৃথিবীকেই পড়ে পাই- পৃথিবীকেই বুকে ধরে কারও জন্য অন্তত তো অাবার জন্মাতে পারি!
তবুও তো কারও জন্য…
পাগলি কোথাকার! এসব শুনে রাগ করলে বুঝি?
অাচ্ছা, জেনে রেখো তবে-
যতোটুকু দূরে গেলে ছোঁয়া যায় না তোমার হাত, স্পর্শ করা যায় না শরীর-
অামি ততোটুকু দূরে থেকে ততোটুকুই তারও বেশি অারও নিকটের কাছে থাকব তোমার!

৩. তুমি

কেউ যদি অামায় তোমাকে দেখাতে বলে,
অামি হৃদয়ের থেকে কলিজা বের করে বলতে পারবো না, এটা তুমি।
সোজাসুজি জন্মের হৃৎপিণ্ডে হাত রেখে বলে দেবো, ওই জন্মটাই তোমার জন্য!
কেউ যদি অামায় তোমাকে ভুলতে বলে,
বুকের থেকে হৃদয় টেনে হৃদয় অার বুককে অালাদা করতে বলে দেবো নিঃসংকোচে!
যতোই অালাদা করবার চেষ্টা করা হবে ততোই তা মিশে যাবে নিবিড়; জড়িয়ে যাবে অাষ্টেপৃষ্ঠে, হৃদবৃক্ষের গায়ে গেঁথে যাবে সরু ধনুকের মতো ওতোপ্রোত!
তবে কেউ যদি অামার মৃত্যুদিন জিজ্ঞেস করে,
তবে সোজাসাপ্টা ঈশ্বরকে জানিয়ে দেবো-
জন্ম থেকে ছেড়ে যাওয়া তুমিটাই হবে অামার মৃত্যু, বিভৎস করুণ অন্তিম জন্ম বিনাশ!
অার অতঃপর ঈশ্বরও নির্দ্বিধায় ঘোষণা করবেন,
অামার জন্মতারিখ ও মৃত্যুদিন, অামার মৃত্যুদিন ও জন্মতারিখ তুমি’, শুধু তুমি’!

৪. প্রেমিক

তোমরা শুধু হৃদয় হৃদয় করে ভেতরের পাঁজরটা ভাঙো- একটি অনির্দিষ্ট অনিয়মে প্রতিদিন ভাঙো, প্রতিরাত ভাঙো!
ভাঙতে ভাঙতে তোমরা অাজ নিজেরাই কখন যেন ভেঙে গেছো তোমাদের নিজেদের সত্তার কাছে ভঙ্গুর দর্পণে পুরু কাঁচের মতন;
অার সেই কাঁচে তোমরাই রক্ত ঝরিয়েছো, তোমরাই রক্তে রঞ্জিত করেছো তোমাদের হৃদয়!
তোমাদের হৃদয় ভেঙেছে তোমাদের হৃদয়ের ব্যথায়, হৃদয়ের দাহ্যতায় পুড়িয়েছো হৃদ্য প্রেম!
তোমরা নিজেরাই নিজেদের মেরেছো, অদৃশ্য হৃদয় খুঁজতে যেয়ে পড়ে পেয়েছো নীলরাঙা ম্যাজিক- নির্ঘাত অদ্ভূত অনল!
তোমরা খামোখায় হৃদয় হৃদয় করো, মরার থেকেও অধিক মরো তোমরা!
তথাপি জানি, অামার এ কথার কোনো মূল্যায়ণ হবে না অাদৌ এক প্রেমদগ্ধ দগ্ধিক প্রেমিকের কাছে;
এ সবই অস্বীকার করে একজন প্রেমিক সবকিছু ভুলে নির্বিঘ্নেই দ্যর্থস্বরে বলে দিতে পারে,
হৃদয় অাছে!
ভালোবাসায় একবার ধরেছে যাকে সেই উন্মত্ত প্রেমিক শুধু জানে,
পুড়তে পুড়তে সে অারও প্রেমিক হয়ে উঠবে!
মাতাল প্রেমিক জানে-
যদি কখনো তাকে প্রশ্ন করা হয়,
পোড়ানোর পরও কি অারও বাড়তে থাকে?’
কোনো কিছু না ভেবেই সেই প্রেমিক উদাত্ত কণ্ঠে চোখ বন্ধ করে ঔদ্ধত্য নখের অাঁচড়ে বুক খামচে বলে দেবে, প্রেম’!
শেষবারও একইভাবে না কিছু ভেবেই বুক চেপে প্রতি নিঃশ্বাসে সে অনবরত বলে দেবে, শুধুই প্রেম’, শুধুই প্রেম’…

৫. যেদিকেই যেতে চাও
যেদিকেই বাড়িয়েছো পা, সেদিকেই অামার ছায়া
এখন অামি পথ, পথই অামার কায়া।
যেদিকেই দিয়েছো হাত, সেদিকেই অামায় ছোঁবে
কেননা তোমার হাত, অামার বুকের ‘পরেই রবে।
যেদিকেই ফিরিয়েছো চোখ, দৃশ্যত ডানে ও বামে
তোমার চোখ কিনে নিয়েছি অঢেল তৃষ্ণার দামে।
যেদিকেই দিয়েছো কান, কি এক কণ্ঠ হবে শ্রুত
সে যে অামারই গলা! শুনতে পাবে দ্রুত।
যেদিকেই রেখেছো বুক, সেদিকেই পাবে শান্তি
কেটে যাবে মোহের ক্রান্তি, ক্লান্তি, ভ্রান্তি।
যেদিকেই করবে মুখ, নিঃশ্বাসে থাকব জুড়ে
অতি নিকটে, কে বলেছে দূরে!
যেদিকেই থাকবে দাঁড়িয়ে, অামায় দেখবে পাশেই
শুষে নেবো তোমার বাতাস, আমার প্রতিটা শ্বাসেই।
যেদিকেই থাকো বসে, আসব আমি হঠাৎ
বুকেতে বয়ে প্রপাত!

যেদিকেই যেতে চাও, চলে যাও- হও রূপান্তর
রেখে যাও শুধু বুকের পাতাল- শুভ্র, শুদ্ধত অন্তর।

৬. নৈঃশব্দ্যে ঝরে যায় প্রেম
বৃক্ষপত্র ঝরে দিনশেষে ঝড়ে
হৃদয় ঝরে প্রেমে
নৈঃশব্দ্যে প্রেম দোলা দিয়ে যায়
বুকের গভীরে অাসে নেমে।

তুমি দূরে থাকো, দূরে চলে যাও
তুমি প্রতিনিয়ত ভেতরে বাজো
দেখা হয়না তোমার অামার, কথা হয়না কিছু
শুধু দূরত্ব থাকে অাজও।

তবু একদিন তোমায় নুপূর পরাব
রক্তলাল অালতা দেবো পায়ে,
হাঁসনাহেনা গুঁজে দেবো মেঘকেশে তোমার
ভালোবাসার সুবাস ছড়াব গায়ে।

দূর থেকে যে প্রেম টেনেছে কাছে
কাছেতে হারাবার ভয়
কাছেতে এলেই পাব না ভাবি
দেহেতে বিষম ক্ষয়!

নৈঃশব্দ্যে ঝরে যায় প্রেম
যেন ফুটন্ত পাঁপড়ির মতো
ভেতরে বয়ে বেড়াই অামৃত্যু জ্বালা
গোপনে গহীন ক্ষত!

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন




Leave a Reply

জনসম্মুখে পুরুষ নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

Nobobarta on Twitter

© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com