বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন

English Version
ইরাবতী তটিনী-র নির্বাচিত কবিতা

ইরাবতী তটিনী-র নির্বাচিত কবিতা

কবি ইরাবতী তটিনী



  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

অধুনা সভ্যতায় প্রাচীন আমি

কিছু কথা থাকে এমন, যা ফুরায় না কখনো;
প্রয়োজন হয়না তার শানেনযুল!
বাসনামন্ত্রে জাগলে তুমি,
মিছে মিছে কেন চুম্বনের গ্লানি ডেকে আনো।
শীৎকারে চিৎকারে-
শুধুই জিকিরে পেয়ালা উপচে পড়ে!
দেহে অসম ক্লান্তির তাড়নায় অবশ,
বীভৎস স্বপ্ন থেকে বারংবার –
মুক্তি খুঁজে পথ।
অধুনা সভ্যতা বুনিয়াদীগৃহে প্রাচীন আমি-
আড়াল করেছি নিজেকে নিজস্ব বলয়ে;
আর তুমি শেষরাতেও মত্ত শরীরকাম তৃষ্ণায়!
আমি তো তৃতীয়বিশ্বের গিনিপিগ মাত্র
নিজেকে নিয়ে ভয়,
তোমার ভাঙচুর ভাঙচুর খেলায় ভয়,
রাতদুপুরে তোমার যাযাবর শরীর জাগলে-
নিজেকে বিসর্জন দেওয়ার ভয়!
বড়ই দ্বীধাগ্রস্থ এই আমি –
কেন চাও-! নির্ভরতা, নিশ্চয়তা আরো আরো কিছু ?
তৃতীয়বিশ্বের আহত, অভিজাততন্ত্রের মোড়কে আবদ্ধ
এক কামতৃষ্ণাবিহীন দেহসর্বস্ব নারী!
ঢের বুঝে গ্যাছি –
আমাকে দিয়ে কিছুই হবেনা-! না প্রেম না কাম!
মগজে আর শরীরের আন্দোলনের খেলায় আমি ব্যর্থ।

সপ্তর্ষিমণ্ডল

মঙ্গোলরক্তে আদিমতার
জ্বলছে অভিশাপ।
পুড়ে যাচ্ছে মহাকাল!
মানবত্রাসে বেড়ে যাচ্ছে
বিগতকালের পাপ!

অগ্নি জ্বলে-
ধর্ম ত্রাসে মানবের সংহার
মানবতাপে পড়ছে নুয়ে
অগুনতি  সংসার!
সবুজ রুমাল, জীবন্ত চুল,
সভ্যতার আকার!

শঙ্খচিলের ধ্যান ভাঙছে,
শূন্যে কোথা ঠাঁই!
ভুবনভরা মানুষ আছে,
উত্তমপুরুষ নাই!

ভেঙ্গে পড়ছে মানবতা,
নারীর চোখে জল!
তোমার শোকে পুড়েছে দেখো
সপ্তর্ষিমণ্ডল!

প্রতিরোধ

ধাবমান হৃদয়ের অতলান্তেও আজ
রাষ্ট্রের চরমদশা,দিকে দিকে অপমান!
যতক্ষণ জনতা হয় নমশূদ্রহীন
নিজভূমে পরবাসী মন –
হয় মৃত্যুর সম্মুখীন।
ধর্ষণ হয় শৃঙ্খলে বন্দীবাসী;
শ্বাসতন্ত্র হয় স্বয়ং সর্বনাশী!

ক্রমেক্রমে কবি’রা হয় শ্রম’দাস,
চিন্তা’দাস, পদ্ধতি’দাস-
রমণীর তনুমনের হয় সর্বনাশ!
প্রেম ধীরে ক্ষয়ে যায়
নক্ষত্রের রূপোলী আলোর !
জ্যোতি পড়ে ক্ষীণতায়!

সংসার,সমাজ হয় ভারসাম্যহীন
জননীর শিশু হয়-
ভোগবাদী সমাজের লালসা সম্মুখীন।
অতএব মানব মুক্তির তরে;
খুনি,ধর্ষক প্রতিরোধ করো-
দুর্গ গড়ে তোলো প্রতি ঘরেঘরে।

ভালবাসাময় অপেক্ষা

আসাদগেটে দাঁড়াবে তুমি :
আমি আসবো ঠিক সাড়েপাঁচটায়।
ভেকটর অ্যানালাইসিসের-
ক্লাসটি শেষ হওয়ার পরপরই
ছুটবো তোমার দিকে-
অতিমানবীয় গতিতে!
ঠিক সাড়েপাঁচটায়!
একমিনিট আগেও না-
একমিনিট পরেও না!

ভয় নেই, আমাকে আটকাতে পারবেনা
ঢাকার নিয়তি পরিণতি যানজট!
আটকাতে পারবেনা তত্ত্বাবধায়কের দাবি
কিংবা  একতরফা নির্বাচনও!
কথা দিলাম কিন্তু! আসবো-
মাথায় জবা- হাতে গোলাপ নিয়ে
শিমুল,পলাশ ফুলের রঙে রাঙা
রক্তিম জামদানী পরে।

আমরা দুজন শহর ঘুরেঘুরে,
স্বপ্ন খুঁজবো- স্বপ্ন কিনবো!
হাজার বছর ধরে চোখের কোণে
লালন করা-
কচি কলাপাতা রঙের স্বপ্ন!
শূন্যের ঘরে স্বপ্ন বসিয়ে–
আমরা মিলবো আজ এককে!!

হাইব্রিড মানুষের শব

হলুদ মেয়েদের যৌবন রাত্রিভর ভোগ করে
আনন্দিত ব্যাংকার!
টাকার কুমির, টেনে নেয় কখন কাহারে-
ওই নীলজলের তলে নিষিদ্ধ ফ্ল্যাটে!
দুশমন দর্শকের অভিসারে যায়
হাতভর্তি জন্মনিয়ন্ত্রণের শপথ!
শত্রুবাড়ির মেয়ে তাকে অনায়াসে দেহে মাখে বারংবার!
অবাস্তব ফুলের সমারোহ দেখিয়ে-বর্ণিল মিডিয়ার বাতাসে বিজ্ঞাপন দুলেদুলে কথা কয়।
নিন, স্প্রিং অফার, পিউলি আছেনা!
পাঁচদিন পর্যন্ত কার্যকর।
তারপর-বিদ্রূপ করে উড়ে আসে, চিল শকুনের ঝাঁক!
জেব্রাক্রসিং-এ একটা নবজাতক পড়ে আছে,
আর নিঃস্বার্থভাবে পাহারায় বসে আছে
গরম পানিতে ঝলসে যাওয়া কুকুরটা!
এসব হাইব্রিড মানুষের শব খেয়ে দিব্যি টিকে আছে
পাঁচহাজার বছর পূর্বের জরাজীর্ণ ইতিহাস।।

লাইক দিন

Please Share This Post in Your Social Media




Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.



© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com