আজ রবিবার, ২৪ মার্চ ২০১৯, ১২:৩৭ অপরাহ্ন

কবিতায় ‘অং মারমা’

কবিতায় ‘অং মারমা’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  

কবিতা
– অং মারমা

কফিনের ও আলাদা রিদম আছে
যার নাম আমি এখনো দিতে শিখিনি।
তবে,এই মুহূর্তে তোমাকে ব্যতীত আমি আর কাউকে মনে করতে পারছিনা, কবিতা।
উঠে দাড়াও,অাঙুলে রাখো হাত
বুকের কাছে বুক
ঠোঁটের কাছে ঠোঁট
ঢুকে যাও হৃদয়ের গহীনে বেড়াজাল পেরিয়ে দুর্গম এলাকা “একাকীত্ব ” নামক স্ট্রিটে…
আমার অাঙুলের ফাঁকে মুখ রাখো..
তোমাকে মানুষের হৃদয়ে কাছে রেখে এলে
লেখা হয়ে যাবে এক রহস্যময় পৃথিবী।
উঠে দাঁড়াও কবিতা…
ঝাঁপ দিয়ে আঁকড়ে ধরো আমায়…
তোমাকে নিয়ে’ই তো আমার এই জীবন কাটিয়ে দেবার কথা ছিলো…

ভালোবাসা পেলে বেশকিছু কাল আমিও বাঁচতে পারি
– অং মারমা

আমি জেনে গ্যাছি….
স্বর্গে যেতে যতটা না সহজ? তারো চাইতে নারীর হৃদয়ে যাওয়াটা ভীষণ রকমের কঠিন।

আমার তেমন কোনো ভালো ভাষা জানা নেই।তবে, পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ সুন্দর, বিনম্র ও শ্রদ্ধাবোধ সম্পন্ন দু’একটা ভাষা
আমার সংগ্রহে আছে….

যেসবকে আমি সকাল বিকাল প্রার্থনা সঙ্গীত বলে মনে করি,পূজো করে মুখে রাখি।
এই যেমন-ডালপালা আছে,ভাই জ্বালাবো?ধরেছে?টাকা নেই,ভাল্লাগেনা ইত্যাদি ইত্যাদি…

ভালোবাসার সাথে আমিও বিবাদ করিনি।
তবে আজকাল ভালোবাসার কথা বললে
আমার চোখে একদিকে বিছানায় উল্লাস প্রতিচ্ছবি,আর-
অন্যদিকে বিচ্ছেদের ক্রন্দনরত উৎসবের ছায়াছবি দেখি…

তবুও, রাস্তায় সুন্দরী মেয়ে দেখলে মনে হয়..
ভালোবাসা পেলে বেশকিছুকাল আমিও বাঁচতে পারি।

এইসব নিয়ে আমি আর ভাবতে চাচ্ছিনা।
এখন ভাবছি পাথরের
ঘর্ষনে আগুনের উৎপত্তি কেনো হয়েছে..?
টাকা হলে কি হতো?
ভালোবাসা হলে কি হতো?
প্রশান্তি হলে কি হতো?
এইসব নিয়ে ভাবছি।ভাবছি-
মানুষ মানুষের ঘর্ষণে কেনো ভালোবাসা হয় না?

বুয়া
– অং মারমা

উটেরা নক্ষত্র চিনে,আর পাখিরা চিনে গাছ। ঠিক একইভাবে,
আমিও একজন রান্নাকরা বুয়া’কে চিনি তার খয়েরী মনের রঙ,
কপালে বয়েসের ছাপ,চোখের নীচে চিন্তার ছায়া। সেই চোখের তলে তার জীবন,ভাঙা নিবাস। তিনি তরকারি কুটতে কুটতে ভাবেন- আজ তো তার রোগাটে স্বামীর ওষুধ শেষ। চাল কুলাবে না রাত্রে,আলু আছে তিন চারটে তেল আছে,লংকা নেই। যাগ’জ্ঞে,পানিতেও সেইসব সেদ্ধ করে খাওয়া যাবে। চাল ধুতে গিয়ে তিনি নিজের চোখ’ই ধুয়ে,চুপচাপ – উনুনে বসিয়ে দেন ভাতের পাতিল। তাই তো বলি,ভাতের কাছে মাঝেমাঝে এতো বালু কেনো,পাথর কেনো, গন্ধ কেনো। আজ তার নিজের বলে কিছু নেই জেনে গেছে,যেকারণে- এখন কোনো অভাব আর তাকে তেমন করে কখনো দুঃখবোধ করাতে পারে না। এখন শুধু ঝোল তুলে মুখে নেই নুন কম হলে নুন দেই,বেশি হলে কিছুই করেনা। মাঝেমাঝে ছেলে স্কুল বেতনের কথা ভাবতে ভাবতে ঠিকঠাক ভাত ফুটেছে কি ফুটেনাই তার খবর ও তিনি নিতে জানেন না। আমি জানি,রান্না করতে করতে তারও সাধ করে আজ বাসায় মলা মাছের রান্না হবে খিচুরি দিয়ে মুর্গী হবে। ছেলের নতুন জামা হবে,স্বামী আগের মতো’ই ক্ষেতে যাবে সবজি বেঁচবে।
গরু নিয়ে বাড়ি ফিরবে সন্ধ্যায়…. আসলে, বুয়ারাও চাই,তার ও একজন বুয়া হোক।

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন




Leave a Reply

জনসম্মুখে পুরুষ নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

Nobobarta on Twitter

© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com