আজ বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০২:০৩ পূর্বাহ্ন

৫ই পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১১ই রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী
National Election
বিএনপি’র রাজনীতিতে যার এতো অবদান, তবুও ষড়যন্ত্র?

বিএনপি’র রাজনীতিতে যার এতো অবদান, তবুও ষড়যন্ত্র?

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

কিশোর কুমার দত্ত, লক্ষ্মীপুর :
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা রাজনীতির সাধ নিচ্ছে ভিন্ন আমেজে। ভিন্ন সাধ নিতে গিয়ে আবার ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছেন। তারা মনে করেন, দলের জন্য জেল-রিমান্ড, মামলা-হামলার শিকার হয়েও স্বাধীনতার ৪৭ বছরের ইতিহাসে যত অর্জন, যার অবদানে নেতা-কর্মীরা উজ্জিবিত এবং এতো অর্জন। তবুও তারা কেন ষড়যন্ত্রের শিকার। যারা দল ও কর্মীদের জন্য এতো ত্যাগ স্বীকার করেছে, সেই নেতাদের বিরুদ্ধে ৪৭ বছর ধরে কেন এতো ষড়যন্ত্র ঘুরপাক খাচ্ছে? দলে দলে কেন এতো গ্রুপিং? এতো অবদান, তবুও কেন ষড়যন্ত্র? ঘুরে ফিরে সেই প্রশ্ন আজ রামগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের?

স্থানীয় নেতা-কর্মীদের দেওয়া তথ্য মতে, রামগঞ্জ বিএনপি’র অভিবাবক হিসেবে যেমন নাজিম উদ্দিনের কৃতিত্ব দাবি করতে পারে। কারন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদীদল বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটিতে লক্ষ্মীপুরের ৮ নেতার নাম থাকলেও আগের নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আহম্মেদকে বাদ দেয়া হয়। ২০১৩ সালের ১৯ জুলাই কাঞ্চনপুর বাজারে দলীয় ইফতার মাহফিলে যোগ দিতে আসার পথে মরহুম জিয়াউল হক জিয়ার অনুসারী জামাল, মামুন, রাসেল, কাউসার মালের নেতৃত্বে একদল নাজিম উদ্দিন আহমদের ব্যবহৃত (ঢাকা মেট্রো-গ-১৩৪৩৯৪) গাড়িটি ভাঙচুর করে। পরে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় চালক বাবুল হোসেন বাদী হয়ে জামাল হোসেনকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। ২০১২ সালের ০৮ সেপ্টেম্বর জেলা যুবদলের সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য রামগঞ্জ থেকে লক্ষ্মীপুর শহরে আসার পথে প্রথমে রামগঞ্জ টেম্পুস্ট্যান্ড এবং দ্বিতীয় দফায় পানপাড়া রোডে নাজিম উদ্দিন আহম্মদের গাড়ি বহরে গুলি বর্ষণ ও হামলা চালিয়েছে দুবৃত্তরা। এ সময় তাদের হামলায় বিএনপি ও যুবদলের ১০ কর্মী আহত হয়েছে।

২০১৫ সালের ০৪ ফেব্রুয়ারী মতিঝিলের জীবন বীমা কর্পোরেশনের সামনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কর্মসূচিতে সংহতি জানাতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হন তিনি এবং আশ্ররাফ উদ্দিন নিজান। ১ ফ্রেবুয়ারী মতিঝিল এলাকায় গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়। এ ঘটনায় লক্ষ্মীপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছে বিএনপির কর্মীরা। পরে ০৫ ফ্রেবুয়ারী মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য মতিঝিল থানা পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পল্টন থানায় দায়ের করা মামলায় তাদের বিরুদ্ধে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মহানগর হাকিম এমদাদুল হক। বিভিন্ন কারনে উপজেলা শহরের কোথাও একটি অফিস পর্যন্ত দিতে পারেনি সে সময়ে। ফলে কোন রাজনৈতিক কর্মকান্ড তিনি রামগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দুরে ভাদুরের নাজিম উদ্দিন আহম্মেদের নিজ বাসভবনে চালাতে হয়েছে। ফলে আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্থ হতে হয়েছে বেশ ক্ষতি হয়েছেন তিনি। এছাড়া নাজিম উদ্দিন আহম্মেদের বাড়ীতে অনুষ্ঠান করতে গিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের হামলা শিকার হতে হয়েছে বেশ কয়েকবার। উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব নাজিম উদ্দিনের নাম ব্যাবহার করে, কিছু কুচুক্রী মহল (আলহাজ্ব নাজিম উদ্দিন) নামে ফেইসবুক বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। তাতে বলা হয়েছে তিনি “রামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদ থেকে অব্যহতি নিয়েছেন”। এ সম্পর্কে আলহাজ্ব নাজিম উদ্দিন জানান, একটি কুচুক্রী মহল আমার নামে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।

সর্বশেষ বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্দলীয়, নিরপেক্ষ নির্বাচন, নির্বাচণে কালে সেনা মোতায়েন দাবী জানিয়ে ঢাকা সরোয়াদী উদ্যোণে নাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে রামগঞ্জ উপজেলার বিএনপি হাজারো উৎসক নেতা-কর্মী অংশ গ্রহন করেন।

স্থানীয় নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নিজ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন নাজিম উদ্দিন আহমেদ । কিন্তু সরকার গঠন করতে পারেনি তার রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ২০০৬ সালের অক্টোবরের পর থেকে তার সরকার না থাকলেও ৫ বছর ধরে সংসদ সদস্য ছিলেন তিনি। গত নির্বাচনে যখন সারাদেশে পানিতে ভাসা ধানের শীষের ওপর দিয়ে নৌকা চলেছে দুর্বার গতিতে, তখনও লক্ষ্মীপুর জেলায় ভাটার টানে হারিয়ে গেছে আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কা। তবে যে জনগণ আর নেতাকর্মী ধানের শীষে বাঁশি বাজিয়েছেন, তাদের আপন করেছেন লক্ষ্মীপুরের ১ আসন (রামগঞ্জ) থেকে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আহমেদ ।

বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের মেয়ে হওয়ায় লক্ষ্মীপুরবাসীর দুর্বলতা রয়েছে ধানের শীষ প্রতীকের। এছাড়াও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকাকালে এ অঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেন। জেলায় শিক্ষিতের হার ৪৯ দশমিক ৪ শতাংশ। ভোটারদের অনেকেই প্রার্থী নয়, বরং ধানের শীষ প্রতীক দেখেই ভোট দিয়েছেন ।

জানা যায়, ২০০৮ এর নির্বাচনে ধানের শীষে রায় দিয়ে আবারো নিজেদের রামগঞ্জ বিএনপি ঘেষা বলে প্রমাণ করে দেয় নাজিম। মামলা হামলায় কারো কোন সহযোগীতায় এগিয়ে আসতে পারেননি তিনি। এ ক্ষেত্রে অবশ্য স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে তৃণমূল কর্মীদের। গত নির্বাচনে জয়ের পর এলাকাবাসী আর স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে থাকা এই বিএনপি প্রার্থীর ভাগ্য আগামী নির্বাচনে পাল্টেও যেতে পারে বলে ধারণা স্থানীয়দের।

দলের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে সংসদে তেমন যাননি এই সংসদ সদস্য। ফলে ভোটারদের কথাও সংসদে বলতে পারেনি তিনি। ওয়ান-ইলেভেনের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সাবেক এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী জিয়াউল হক জিয়ার দেশান্তরি দলের নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে লক্ষ্মীপুর-১ আসনে (রামগঞ্জ) বিএনপি থেকে মনোনয়ন নিয়ে বিজয়ী হয় নাজিম উদ্দিন আহমেদ। এ আসনে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪২০ জন ভোটারের ৫৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ ভোট দিয়েছিলেন তাকে। তবে নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. শাহজাহান পেয়েছেন ৪১ দশমিক ১৮ শতাংশ ভোট।

জিয়ার পতন আর দলের হাল ধরেন নাজিম ,
নির্বাচনের বেশ কিছুদিন পর প্রায় ডজন খানেক মামলা ও গ্রেফতারি ফরোয়ানা কাঁধে নিয়ে এলাকায় ফিরে আসেন জিয়া উল হক জিয়া। গ্রেফতার হয়ে জেলে যান। জেলে থাকাবস্থায় আক্রান্ত হন ক্যান্সারে। দুই বছর পর নিজ গ্রামে এসে হতবাক হয়ে যান মানুষের ভালোবাসা দেখে। কর্মীদের আশাহত হতে নিষেধ করেন তিনি। নেত্রী ডাকলে তিনি অবশ্যই উপস্থিত হবেন। অথছ খালেদা জিয়া তাকে বার বার বলার পরও তিনি কথা রাখেন নি। সাধারন জিয়া সমর্থিতর হতাশায় মুসড়ে পড়েন। ক্যান্সারের চিকিৎসায় চলে যান ব্যাংককে। সেখান থেকে দীর্ঘদিন পর আবারো ফিরে আসেন এলাকায়। নিজ বাসভবনের সামনে এক সভায় আর রাজনীতি করবো না বলে ঘোষণাও দেন । তিনি সবসময় আছেন, থাকবেন। রাজনীতির সাথে আর জড়াবেন না। এ কথা বলার সাথে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন হাজার হাজার নেতাকর্মী।

পরে শুনা যায়, তিনি তার রামগঞ্জস্থ বাসভবন অন্যত্রে বিক্রি করে দিয়েছেন। নেতার্কর্মীরা হতাশ হয়ে জিয়াউল হক জিয়ার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। কয়েকজনের কাছে জিয়াউল হক জিয়া ব্যাংকক থেকে ফোন করলেও নেতাকর্মীরা তার সাথে কথা বলেন নি। জিয়ার সাথে সাধারন মানুষের এক প্রকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অনেকটা দূর্বল হয়ে পড়ে জিয়া সমর্থিত র্কর্মী সমর্থকরা। ঠিক তথনই দলীয় সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের আপদে বিপদে পাশে দাঁড়িয়ে দলের হাল ধরেন নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ।

দলীয় সুত্রে জানা যায়, ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত একটানা এ আসনটি দখলে ছিল বিএনপির। তখন থেকে দলের কর্মীদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধ ছিলেন নাজিম উদ্দিন আহমেদ। ১/১১ পট পরিবর্তনের পর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে সারাদেশে বিএনপির ভরাডুবি হলেও এ আসনটি তাদের হাত ছাড়া হয়নি। ওই নির্বাচনে জিয়াউল হক জিয়াকে মনোনয়ন দেয়নি বিএনপি। বিএনপির টিকেট নিয়ে নাজিম উদ্দিন আহমদ আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী মো. শাহজাহানকে ৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

লাইক দিন

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Nobobarta on Twitter

জনসম্মুখে পুরুষ নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com