আজ সোমবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন

লক্ষ্মীপুরে এক মাসে মেঘনার তীর রক্ষা বাঁধে ৩ বার ধস

লক্ষ্মীপুরে এক মাসে মেঘনার তীর রক্ষা বাঁধে ৩ বার ধস

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি :
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মাতাব্বরহাট এলাকায় মেঘনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ গত এক মাসে তিন বার ধসের ঘটনা ঘটেছে। এনিয়ে গত এক বছরে ৮ বার বাঁধে ধস নামে। কয়েকদিন পর পর বাঁধে ধস দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। নিম্মমানের বাঁধ নির্মাণ ও দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু না হওয়ায় এমনটি ঘটছে বলে অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর।

রোববার ( ১২ আগস্ট) রাতে কমলনগর মাতাব্বর হাট এলাকায় নির্মাণাধীন তীর রক্ষা বাঁধের ৩ নম্বর পয়েন্টের উত্তর পাশে ১০০ মিটার, ৯ ও ১০ নম্বর পয়েন্টের দক্ষিণ পাশে ১০০ মিটার মিলে একরাতে প্রায় ২০০ মিটার ধস নামে। সোমবার (১৩ আগস্ট) বিকালে লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) দুপুরে ওই বাঁধের উত্তর পাশের ৫০ মিটার ধস দেখা দেয়। ১৫ জুলাই ভোররাতে বাঁধের দক্ষিণাংশের প্রায় দুইশ’ মিটারে ধস নামে।

স্থানীয়রা জানায়, দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু না হওয়ায় বাঁধের দুই পাশের এলাকায় অব্যাহতভাবে ভাঙছে। আশপাশের এলাকায় ভাঙনের কারণে বাঁধ ধসে পড়েছে। গত বর্ষা মৌসুমেও ওই বাঁধে পাঁচ বার ধস নামে। অনিয়ম আর নিন্মমানের কাজ করায় বার-বার বাঁধে ধস নামছে বলে স্থানীয়রা দীর্ঘদিন থেকে অভিযোগ করে আসছে। অনয়িমের প্রতিবাদে ও কমলনগর রক্ষায় আরো ৮ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের দাবিতে গত ২৪ জুলাই মানববন্ধন করা হয়।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রকল্প ইনচার্জ মো. আফছার বলেন, রাতে জোয়ার ও তীব্র ¯্রােতে প্রায় ২০০ মিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার পর বাঁধ রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হয়। জিও ব্যাগ (বালু ভর্তি বিশেষ ব্যাগ) ডাম্পিং অব্যাহত রয়েছে।

লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মুসা বলেন, নির্মাণাধীন বাঁধের অদূরে চর জেগে উঠেছে। যে কারণে পানির গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। তীব্র জোয়ারের কারণে বাঁধের কিছু অংশে ধস দেখা দিয়েছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ জানানো হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ধস ঠেকাতে কাজ চলছে। তিনি আরো বলেন, ভাঙন প্রতিরোধে এক কিলোমিটার বাঁধ যথেষ্ট নয়। দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু না হলে বাঁধ রক্ষা করা কঠিন হয়ে যাবে। ভাঙন প্রতিরোধে আরো সাড়ে ১৫ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে মেঘনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধের জন্য ১৯৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। বরাদ্দকৃত টাকায় কমলনগরে এক কিলোমিটার, রামগতির আলেকজান্ডারে সাড়ে তিন কিলোমিটার ও রামগতিরহাট মাছঘাট এলাকায় এক কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ হওয়ার কথা। ২০১৫ সালের ১ফেব্রুয়ারিতে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ১৯ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন আলেকজান্ডার এলাকায় ভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করে সাড়ে তিন কিলোমিটার সফলভাবে বাস্তবায়ন করে। এদিকে ওই বরাদ্দের ৪৮ কোটি টাকায় কমলনগরে এক কিলোমিটার কাজ পায় নারায়নগঞ্জ ডকইয়ার্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিঃ। অর্থ বরাদ্দের দুই বছর পর ২০১৬ সালের শুরুর দিকে প্রতিষ্ঠানটি ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিংকে দিয়ে কাজ শুরু করে। ওই বছর নিম্মমানের বালু ও জিও ব্যাগ দিয়ে কাজ শুরু করায় স্থানীয়দের চাপের মুখে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। অনিয়মের প্রতিবাদে ও যথাযথভাবে কাজ করার দাবীতে বিভিন্ন সময় মানববন্ধন করে স্থানীয় এলাকাবাসী।

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন




Leave a Reply

জনসম্মুখে পুরুষ নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

Nobobarta on Twitter

© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com