শনিবার, ১৮ অগাস্ট ২০১৮, ০১:১৭ অপরাহ্ন

English Version
আগৈলঝাড়ায় বখাটেদের বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেল কেড়ে নিল মেধাবী ছাত্রীর প্রাণ

আগৈলঝাড়ায় বখাটেদের বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেল কেড়ে নিল মেধাবী ছাত্রীর প্রাণ



অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল)# বরিশালের আগৈলঝাড়ায় বখাটেদের বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলের কারণে অকালে ঝড়ে গেল এক মেধাবী ছাত্রীর প্রাণ। স্থানীয় এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ্’র উদ্যোগে তিন দিন আইসিইউ’তে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অবশেষে গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় মারা গেছে উপজেলার পূর্ব পয়সা গ্রামের টিএম নজরুল ইসলামের মেয়ে গৈলা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের ১০ম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী মিনহাজ হাসান মিলি। তার অকাল মৃত্যুতে স্কুলসহ এলাকা জুড়ে নেমেছে শোকের ছায়া।

নিহত মিলির বাবা টিএম নজরুল ইসলাম জানান, গত মঙ্গলবার বিকেলে তিনি উপজেলা সদর থেকে তার মেয়ে মিলিকে ডাক্তার দেখিয়ে মাহিন্দ্র যোগে সন্ধ্যার সময় নিজের বাড়ি সামনে নেমে ভাড়া পরিশোধ করছিলেন। এসময় পশ্চিম দিক থেকে বেপরোয়া গতিতে পাঁচটি মোটর সাইকেল যাবার সময় একটি মোটরসাইকেল তার মেয়ে মিলিকে ধাক্কা দিয়ে তাকে ১০-১৫ হাত ছেঁছড়ে নিয়ে যায়। এসময় মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীরা মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়।

স্থানীয় লোকজন এ ঘটনা দেখে সাথে সাথে এগিয়ে এসে মিলিকে রক্তাক্ত ও গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিলে সেখানের চিকিৎসকরা মিলিকে দ্রুত উপজেলা হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেয়। দ্রুত মিলিকে উপজেলা হাসপাতালে নিলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করেন। মঙ্গলবার রাতেই স্থানীয় এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ’র উদ্যোগে মিলিকে বরিশাল শেবাচিম হাসাপাতালের আইসিইউ’তে ভর্তি করা হয়। আইসিইউ’তে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দশটার দিকে মিলি মারা যায়। মিলি জেএসসি’তে গোল্ডেন এ (+)পেয়েছিল।

নিহত মিলির চাচা জব্বার তালুকদার জানান, বখাটেদের ফেলে যাওয়া বরিশালে রেজিস্ট্রেশন করতে দেয়া মোটরসাইকেলের কাগজ অনুযায়ী মালিকের নাম রিফাত হোসেন। তার বাড়ি মুলাদীর তুলচর এলাকায়। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, মোটরসাইকেল চালক মুলাদী উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের আতাহার আকনের ছেলে রিফাত আকন ঘটনার সময় নিজে গাড়ি চালাচ্ছিল। রিফাত একটি ঔষধ কোম্পানীতে কর্মরত রয়েছে। থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা জানান, তিনি দুর্ঘটনার খবর পেয়ে এসআই জাহিদুর রহমান ও এএসআই রাজু আহম্মেদকে পৃথকভাবে মোটরসাইকেলটি থানায় আনা ও মামলা করার জন্য পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু তারা মোটরসাইকেলটি পুলিশের কাছে দেয়নি। এঘটনায় মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান ওসি। মিলির মৃত্যুতে স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ সমগ্র পয়সা গ্রামে শোকের ছায়া নেয়ে এসেছে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

Please Share This Post in Your Social Media




Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.



© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com