আজ সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ০৪:২৫ অপরাহ্ন

শ্রীনগরে কেনাবেচা হচ্ছে আশ্রায় প্রকল্পের ঘর

শ্রীনগরে কেনাবেচা হচ্ছে আশ্রায় প্রকল্পের ঘর

  • 4
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
    4
    Shares

মোহন মোড়ল, শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি: শ্রীনগরে সরকারের দেয়া হতদরিদ্রদের আশ্রায় প্রকল্পের ঘর কেনাবেচা করা হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। উপজেলার রাঢ়ীখাল ইউনিয়নের নতুন বাজার (কলাগাইচ্ছা) এলাকায় সরকারি অর্থায়নে ওই প্রকল্পে তৈরী করা হয় হতদরিদ্রদের জন্য ৪৫টি ঘর।

বসবাসের জন্য পরিপূর্ণভাবে শোবার ও রান্না করাসহ সব ধরনের সুযোগ সুবিধা রয়েছে ওই টিনসেট ঘরগুলোতে। খবর পাওয়া গেছে আশ্রায় প্রকল্পের সভাপতি নুরু শেখ ও সদস্য আজিবরসহ একটি সিন্ডিকেটের কারসাজিতে টাকার বিনিময় ঘর কেনাবেচা করা হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আরিয়ালবিলের পাশে আশ্রয় প্রকল্প কেন্দ্রটিতে বসবাস করছেন বিভিন্ন পরিবার। লক্ষ করা গেছে ঘরের মধ্যে শোবার ও রান্না করার সুযোগ সুবিধা রয়েছে। তার পরেও বসবাসকারীর অনেক পরিবার সরকারি আইন লঙ্গন করে ওই ঘরের সিস্টেম ভঙ্গ করে বাহিরে তাদের ইচ্ছে মতো জায়গা দখল করে আবাসন তৈরী করছেন। এসময় আশ্রয় প্রকল্পে বসবাসকারী আজিবর শেখ, নারগিস বেগম, শাহিন শেখ, কল্পনা বেগম মনখুশিসহ অনেকেই বলেন, ঘরের ভিতর থেকে রান্না করার রুম ভেঙ্গে বাহিরে নিয়ে এসেছি। এখানকার সবাই তা করছেন। পাশেই নতুন টিনের ঘর তোলার বিষয়ে জানতে চাইলে আজিবর বলেন, থাকার সমস্যা তাই ঘর তুলেছি। টাকার বিনিময় এখানে ঘর বিক্রির বিষয়ে তিনি জানান, ৮০ থেকে ১ লাখ টাকার বিনিময়ে এখানে ঘর বিক্রি করা হয়েছে। আজিবর আরো বলেন, কমিটির সভাপতি মোঃ নুরু শেখও ঘর ক্রয়সূত্রে এখানে বসবাস করছেন। তার মতো অনেকেই এখানে ঘর কেনাবেচা করেছেন।

অনুসন্ধানে জানাযায়, স্থানীয় ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা সরেজমিনে গিয়ে আশ্রয় প্রকল্পের ঘরের মধ্যে কোন প্রকার সিস্টেম ভেঙ্গে আলাদা ভাবে স্থাপনা করতে নিষেধ করলেও মানা হচ্ছেনা। উপজেলার সদর ইউনিয়নের হরপাড়ার আজিবর ওই আশ্রয় প্রকল্পের এফ-৫ রুমে বসবাস করছেন। তিনি এর বাহিরেও আলাদা ভাবে টিনের ঘর, রান্না ঘর তুলেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ নূরু ও আজিবর ঘর কেনাবেচায় সহযোগিতা করে সুবিধা ভোগ করেন। এমন আনেকেই রয়েছেন কেন্দ্রের সিস্টেম ভঙ্গ করছেন। এছাড়া কেউ কেউ ভাড়া দিয়েছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের নজরে নেয়া উচিত।

প্রকল্পের সভাপতি মোঃ নূরু শেখের কাছে জানতে চাইলে ঘর কেনাবেচার বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করে তিনি বলেন, আমি এখানকার সভাপতি হওয়ার আগেও ঘর বিক্রি হয়েছে এখনো হয়। তার ঘরটিও তার নামেই বরাদ্দ হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের ঘর কেনাবেচা করার কোন সুযোগ নেই। যদি কেউ না থাকতে চায় তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যানাবে। পুনরায় অন্য কোন হতদরিদ্র পরিবাকে সেখানে থাকার বন্ধব্যবস্থা করা হবে। যদি কেউ প্রকল্পের ঘর কেনাবেচা করে থাকে তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন




Leave a Reply

জনসম্মুখে পুরুষ নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

Nobobarta on Twitter

© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com