আজ শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন

১লা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৭ই রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী
National Election
মুন্সীগঞ্জ – ১ জোটের হাওয়া ভোটে

মুন্সীগঞ্জ – ১ জোটের হাওয়া ভোটে

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সালাহউদ্দিন সালমান: মুন্সীগঞ্জ-১ আসনটি শ্রীনগর ও সিরাজদিখান উপজেলার ২৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত।শ্রীনগর উপজেলায় ভোটারসংখ্যা ২ লাখ ১৭ হাজার ৯৬৯। আর সিরাজদিখান উপজেলায় ভোটার আছেন ২ লাখ ২২ হাজার ৩১০ জন।২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী শাহ মোয়াজ্জেমকে পরাজিত করেন সুকুমার রঞ্জন ঘোষ। ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচনে না এলেও এই আসনে ভোট হয়। জাতীয় পার্টির প্রার্থী নুর মোহাম্মদ খানকে হারিয়ে সাংসদ হন সুকুমার রঞ্জন ঘোষ।এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উষ্ণ হাওয়া বইছে চতুর্দিকে।দেশের অন্যসব আসনের মতো আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জমে উঠেছে মুন্সীগঞ্জ-১ নির্বাচনী এলাকার শ্রীনগর-সিরাজদিখান উপজেলা। চায়ের দোকান থেকে তরুণ তরুণীদের জ¤েপশ আড্ডায় আবাল বৃদ্ধ বণিতাদের কথায় ঢাকার অদূরে মুন্সীগঞ্জ-১ এর এই ভিআইপি আসনে কে হচ্ছেন জাতীয় সংসদের এমপি এখন কেবল এই আলোচনাই সরগরম পাড়ায় পাড়ায় এলাকা এলাকায়। বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে রয়েছে হেবিওয়েট নেতাদের উপচেয়েপড়া ভিড়।কালপরিক্রমায় সময়ের প্রেক্ষাপটে এখন অনেক তরুণ নেতাও এই আসনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে দলীয় মনোনয় পত্র সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন।

শ্রীনগর-সিরাজদিখান উপজেলা নিয়ে গঠিত হয়েছে মুন্সীগঞ্জ-১ আসন। যার সংসদীয় আসন নং-১৭১।এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য শ্রীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুকুমার রঞ্জন ঘোষ।তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ্যতার কারণে এলাকায় আসতে পারছেন না বলে জানাযায়।আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এতোদিন আসনটি থেকে বিভিন্ন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী নির্বাচনের প্রচার প্রচারনা চালিয়ে গেছেন। আসনটি এক সময় বিএনপির ঘাটি হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে আওয়ামী লীগের বিস্তর আধিপত্য রয়েছে এখানে।তাছাড়া এলাকায় বিকল্প ধারা বাংলাদেশ দলের সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ বি. চৌধুরীর জন্মভূমি শ্রীনগওে হলেও প্রায় ১ যুগেও তিনি এলাকায় আসেননি। তার ছেলে সাবেক সংসদ সদস্য মাহী বি. চৌধুরী বিগত সময়ে নিজ এলাকায় কয়েকটি সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করা ছাড়া মুন্সিগঞ্জ-১ আসনে তার নির্বাচনী এলাকায় দলীয় কোন প্রকার কার্যক্রম করতে চোখে পরেনি। তবে তিনি নির্বাচন উপলক্ষে এলাকায় প্রচারে আসবেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জাকের পার্টির ২-৪ জন নেতা কর্মীর এলাকায় আনাগোনা চোখে পরলেও জামায়াত ও বিকল্পধার বাংলাদেশসহ অন্যান্য ছোট খাটো দলের কোন চিহ্ন নেই বললেই চলে। একক দলীয় প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন জাতীয় পার্টির এডঃ শেখ সিরাজুল ইসলাম। ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে রয়েছে ইসলামী আন্দোলনের কন্দ্রেীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক স¤পাদক আলহাজ্ব কেএম আতিকুর রহমান। জাকের পাটির মনোনীত প্রার্থী হাজী আতাউর রহমান শেখ।মুন্সিগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ কমিটির সাবেক সহ-স¤পাদক গোলাম সারোয়ার কবীর। তিনি তৃনমূল নেতাকর্মীদের সু-সংগঠিত করে তোলে এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত দলীয় মিছিল, সভা, মিটিং,গণসংযোগ ও বর্তমান সরকারের প্রাধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নে ধারা অব্যাহত রাখতে এলাকায় কাজ করছেন। ইতিমধ্যেই গোলাম সারোয়ার কবীর তারণ্যের প্রতিক হিসেবে সর্বস্তরে তার নাম শুনা যাচ্ছে। দলীয় মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক স¤পাদক অধ্যাপক ডাঃ বদিউজ্জামান ভূইয়া ডাবলু, সিরাজদিখান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মহিউদ্দিন আহমেদ।এছাড়াও আওয়ামী লীগের নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন শ্রীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ স¤পাদক হাজী তোফাজ্জল হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক সচিব মোঃ সামসুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি গোলাম সারোয়ার খান মামুন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ কমিটির বন পরিবেশ ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সদস্য মাকসুদ আলম ডাবলু, বাংলাদেশ ক¤িপউটার সমিতির সভাপতি সুব্রত সরকার, বিশিষ্ট লেখক হাজী সালাম আজাদ। তারা সকলেই দলীয় মনোনয়ন পত্র
জমা দিয়েছেন সূত্রমতে জানাযায়। অন্যদিকে এতোদিন আসনটি পুনরুদ্ধারে বিএনপির নেতা কর্মীরা হতাশায় থাকলেও বিএনপি আসন্ন নির্বাচনে অংশ গ্রহনের কারণে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে আনন্দ ও উল্লাস বিরাজ করতে দেখা গেছে। দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব- কোন্দল থাকার কারণে মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীরা মাঠে না নামলেও তাদের অনুসারীরা এতোদিন ব্যানার, ফেস্টুন, পোষ্টার ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার চালিয়ে গেছেন। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি দলীয় মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করার মধ্যে দিয়ে গত ১৩ নভেম্বর মঙ্গলবার শ্রীনগর উপজেলার নিজ গ্রামে মা-বাবার কবর ও চাঁন মস্তানের মাজার জিয়ারত করতে আসেন। বিএনপির অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী শ্রীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপি সভাপতির দাবিদার আলহাজ্ব মমিন আলী। তিনি এই নির্বাচনী এলাকার বিএনপির দলীয় নেতা কর্মীদের একটি বড় অংশ নিয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। গত মঙ্গলবার বিপুল নেতাকর্মী ও সমর্থক নিয়ে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন পত্র ক্রয় করেছেন। এছাড়াও মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক স¤পাদক মীর সরাফত আলী সপু,আল-মুসলিম গ্রুপের কর্ণধার ও জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ, কেন্দ্রীয় সাবেক ছাত্রদল নেতা মোঃ ফরহাদ হোসেন।

বিকল্প ধারা বাংলাদেশের সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রপতি ডাঃ বি. চৌধুরী দলীয় মনোনয়ন না নিলেও আসনটিতে তার ছেলে মাহী বি. চৌধুরী নির্বাচনে অংশ নিবেন বলে খবর পাওয়া গেছে।তবে শেষ মূহুর্তে জোট মহাজোটের কারণে পাল্টে যেতে পারে প্রতিক ও প্রার্থীর নাম। সে ক্ষেত্রে ঐতিহ্যবাহী এই আসনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে জোট নয় জনগণের ভোটের রাজনীতি।

লাইক দিন

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Nobobarta on Twitter

© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com