আজ সোমবার, ১৭ Jun ২০১৯, ০৮:৩৩ পূর্বাহ্ন

ট্রাফিক আইন ও সিগন্যাল অমান্য

ট্রাফিক আইন ও সিগন্যাল অমান্য

  • 38
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
    38
    Shares

মোঃ শফিকুল ইসলাম,পিপলস ফ্রেন্ডশিপ ইউনিভার্সিটি, মস্কো, রাশিয়া থেকেঃ
প্রায় প্রতিদিনই দেশে ঘটছে ছোট বড় সড়ক দূর্ঘটনা। কখনও চালকের কারণে কখনবা ঘটছে পথচারীর অসচেতনার কারণে। কিছু দিন আগে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্রাফিক পুলিশ একটি বিশেষ ব্যবস্থা চালু করেছেন। কেউ যদি যত্রতত্র রাস্তা পারাপার হয় , কেউ যদি ফুটওভার ব্রীজ ব্যবহার না করে, জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার না করে, রাস্তা পারাপারের সময় মোবাইল ফোনে কথা বলে, কানে ইয়ার ফোন লাগিয়ে রাস্তা পারাপার হয়, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করে , ট্রাফিক পুলিশ তাদেরকে নির্দিষ্ট পুলিশ বক্সে নিয়ে ১ ঘন্টার ডিটেনশন ট্রাফিক সচেতনা মূলক ক্লাস নিয়েছেন ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা। এবং তারা মুচলেকা দিয়ে ছাড় পাচ্ছেন। এটি একটি অবশ্যই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কিন্তু তাদের এই উদ্যোগ সড়কে কতটা শৃঙ্খলা ফেরাতে পেরেছে??

ট্রাফিক আইনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এই আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন না করা। ঢাকাসহ দেশের সকল জেলা ও উপজেলা শহরেও একই সাথে একই রকমের পদক্ষেপ না নেওয়া।
আমরা দেখতে পাই যে পরিমাণ ফিটনেসবিহীন গাড়ি আছে সেই পরিমাণ গাড়ি ডাম্পিংয়ে রাখার মত ডাম্পিং গ্রাউন্ড না থাকায় শহরে অনেক সময় ট্রাফিক পুলিশ জরিমানা করেই গাড়িটিকে ছেড়ে দিচ্ছেন। সেই জন্য ঢাকাতে অবশ্যই ১/২টি গ্রাউন্ড স্টেশন নির্মান করা প্রয়োজন।
স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক ব্যবস্থা ঢাকাসহ সব জেলা শহরেও চালু করতে হবে এবং একই সাথে সকল ট্রাফিক সিগনালে ক্যামেরা বসিয়ে নজরদারী বাড়াতে হবে।

ট্রাফিক সপ্তাহ চলাকালে যেমন তৎপরতা দেখতে পাই কিন্তু অন্যসময়গুলোতে এমন তৎপরতা চোখে পড়ে না।ট্রাফিক আইনে বলা আছে কেউ যদি অতিরিক্ত গতি বা নির্ধারিত গতির চেয়ে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে গেলে জরিমানা ৩০০ টাকা। এ অপরাধ আবার করলে জরিমানা ৫০০ টাকা।কিন্তু কেউ যদি একবার কেনো একাধিকবারও যদি এই অপরাধ করে তাহলে তার পূর্ববর্তী অপরাধ দেখার কোন সিস্টেম চালু নেই। এই কারনে চালক একই অপরাধ বার বার করলেও যথাযথ শাস্তি পাচ্ছে না।কালো বা অতিরিক্ত ধোঁয়া বের হওয়া মোটরযান সড়কে ব্যবহার করলে ১৫০ ধারায় জরিমানা ২০০ টাকা। কিন্তু আমরা হরহামেসাই দেখতে পাই এই ধরনের গাড়ি শহরে চলাচল করছে কিন্তু তেমন কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয় না।কিছু অসাধু ট্রাফিক পুলিশ রয়েছে যারা কিছু অর্থের বিনিময়ে অপরাধীদের ছেড়ে দেয়। তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা।
কারনঃমানুষ ধরেই নেয় ট্রাফিক নিয়ম ভঙ্গ করলে তাদের কিছুই হবে না।আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন না থাকার কারনেই এইগুলো প্রতিনিয়তই ঘটেই চলেছে।আমাদের দেশের মানুষ ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জ্ঞাত নয়। তারা জানে না কোন চিহ্নগুলোর ব্যবহার কি। তাই তারা হরহামেশাই ট্রাফিক নিয়ম ভঙ্গ করছেন। রাস্তা পারাপারের জন্য নিরাপদ জেব্রা ক্রসিং না থাকা।
স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগনাল না থাকা। ব্যস্ততম সড়কে ফুটওভার ব্রিজ/ আন্ডার পাস না থাকা।
শারীরিক ভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য ফুটওভার ব্রীজে উঠা কিংবা আন্ডার পাস দিয়ে যাওয়ার জন্য এক্সেলেটর( স্বয়ংক্রিয় সিড়ি) না থাকা।ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়া।সব জায়গায় ফুটপাত না থাকা।
অপ্রয়োজনীয় জায়গায় ফুটওভার ব্রিজ নির্মান করা

সমাধানঃ
কথায় বলে আমরা নিয়ম মানতে অভ্যস্থ নই যতক্ষন না পর্যন্ত কেউ আমাদের নিয়ম মানতে বাধ্য না করে। এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে কেউ যদি এই ডিটেনশন ক্লাস করার পরও আবার নিয়ম ভঙ্গ করে তাহলে কি করা হবে? মনে করুন এই ব্যবস্থা যাত্রাবাড়ীতে নেওয়া হয়েছে এবং কেউ যাত্রাবাড়ীতে ট্রাফিক নিয়ম ভঙ্গের জন্য ১ ঘন্টার ডিটেনশন ক্লাস করলেন, এই একই ব্যক্তি ফার্মগেট গিয়ে একই নিময় ভঙ্গ করেন এবং সেখানেও যদি ট্রাফিক পুলিশের ১ ঘন্টার ডিটেনশনে যায়, তারপরও যদি ঐ ব্যক্তি যদি সংশোধন না হয় তাহলে কি করা যাবে?সমাধান অবশ্যই আছে। ঐ পথচারীকে বাধ্য করতে হবে ট্রাফিক নিয়ম মানতে। সড়কে শৃঙ্খলা বিষয়ে আইন করে এটাকেও অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে জেল অথবা জরিমানার বিধান করতে হবে। এর জন্য দরকার হবে ডিজিটাল ডিভাইসের। যেখানে সকল ট্রাফিক পুলিশের এই ডিভাইসগুলো একটি নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকবে। এখানে সকল ট্রাফিক নিয়ম দেয়া থাকবে।প্রথমে যদি কেউ সড়কে ট্রাফিক নিয়ম ভঙ্গ করে তাহলে তাকে ডিটেশনের ক্লাসের পর তার ফিঙ্গার প্রিন্ট রেখে দেয়া এবং লিখে রাখা যে সে তার ডিটেনশন শেষ করেছে।
তারপর যখন সে আবার নিয়ম ভঙ্গ করবে তখন তার ফিঙ্গার প্রিন্ট নিলেই তার পেছনের সব ডাটা চলে আসবে। তখন তাকে নিয়ম অনুযায়ী শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এছাড়াও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে একেবারে গ্রাউন্ড থেকে কাজ শুরু করতে হবে। সেক্ষেত্রে পাঠ্যপুস্তকে ট্রাফিক আইন সম্পর্কিত বিষয় তুলে ধরা। স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগনাল চালু করা। রাস্তা পারাপারের জন্য নিরাপদ জেব্রা ক্রসিং নির্মান করা।শারীরিক ভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য ফুটওভার ব্রীজে উঠা কিংবা আন্ডার পাস দিয়ে যাওয়ার জন্য এক্সেলেটর( স্বয়ংক্রিয় সিড়ি) নির্মান করা।প্রয়োজনীয় জায়গায় ফুটওভার ব্রীজ নির্মান করা।ফুটপাত দখলদার মুক্ত করা।অদক্ষ চালক যেনো কোনক্রমেই লাইসেন্স না পায় সে জন্য বিআরটিএ কে আরো বেশি নজরদারী এবং দায়িত্বশীল হতে হবে।
নির্দিষ্ট জায়গায় বাস দাড়ানোর জন্য জায়গা নির্ধারন করা। নির্দিষ্ট জায়গা ব্যতীত যাত্রী উঠানামা বন্ধ করা। একটি আইন করে শহরের সকল বাসগুলোকে নির্দিষ্ট কয়েকটি কোম্পানির মাধ্যমে নম্বর ও রং ভিত্তিক সার্ভিস চালু করা।স্পীড গানের মাধ্যমে যানবাহনের বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রন করা।
জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য গণমাধ্যমগুলোতে বাধ্যতামূলকভাবে প্রতিদিন ট্রাফিক সচেতনতা মূলক বিজ্ঞাপন প্রচার করা। তাহলেই সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব হবে।

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন




Leave a Reply

কে এই যুবক? টিস্যু দিয়ে বঙ্গবন্ধুর বিকৃত ছবি পরিস্কার করছে



© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com