লক্ষ্মীপুর মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে কমছে সিজারের সংখ্যা,বাড়ছে নরমাল ডেলিভারী | Nobobarta

আজ মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০, ১০:৩৮ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
বস্তিতে ভরা দুপুরে কন্ঠশিল্পী নয়ন দয়া ও হাজী আরমান ৬৫ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেবে সিসিক ভালুকায় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করলেন সাদিকুর রহমান ঝালকাঠি করোনা প্রতিরোধে রক্ত কণিকা ফাউন্ডেশন জীবাণুনাশক স্প্রে করোনাঃ দুস্থদের খাদ্য দিলো কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রলীগ সিরাজদিখানে দেড় হাজার পরিবারের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ রাজাপুরে সাইদুর রহমান এডুকেশন ওয়েল ফেয়ার ট্রাষ্ট’র হতদারিদ্রদের মাঝে ত্রান বিতরণ রাজাপুরে পল্লী বিদ্যুত সমিতির গরীব মানুষদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ রাজাপুরে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করলেন ইউপি সদস্য নিজেরা নিয়ন্ত্রন না হলে বিপদে পরতে হবে
লক্ষ্মীপুর মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে কমছে সিজারের সংখ্যা,বাড়ছে নরমাল ডেলিভারী

লক্ষ্মীপুর মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে কমছে সিজারের সংখ্যা,বাড়ছে নরমাল ডেলিভারী

Rudra Amin Books

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুর মা শিশু কল্যান কেন্দ্রে রোগীদের ভিড় বাড়ছে। কমে আসছে সিজারের সংখ্যাও। অপরদিকে নরমাল ডেলিভারীর সংখ্যা বাড়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ফিরে এসেছে স্বস্তি। গত জানুয়ারী থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ ৯ মাসে গর্ভবর্তী, সাধারন, শিশু ও কিশোরসহ এ ক্লিনিক থেকে প্রায় দেড় হাজার রোগী চিকিৎসা সেবা নিয়েছেনন। যেখানে এ ক্লিনিকে প্রতিনিয়ত একাধিক সিজার করা হতো। এ সময়ের মধ্যে সিজার হয়েছিল ১৭টি। যাহা গত বছরে এ সিজারের সংখ্যা ছিল তিনগুন। অপরদিকে নরমাল ডেলিভারী হয়েছে ৯শ ৭৬টি। নরমাল ডেলিভারীর সংখ্যা বাড়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ফিরে এসেছে স্বস্তি। এতে করে দিন দিনেই বেড়েই চলছে রোগীর সংখ্যা।

রোগী ও স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর মা শিশু কল্যান কেন্দ্রে প্রতিজন রোগী আউটডোর দেখাতে হলে ২০/৩০ টাকা টিকেট করে চিকিৎসক সেবা নিতে হতো। কিন্তু ২০১৮ সালে মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে (ক্লিনিক) মেডিকেল অফিসার হিসেব যোগদান করেন ডাঃ হ্যাপী কর্মকার। এরপর থেকে সেবার মান বেড়ে যাওয়ায় রোগীরা নানা ধরনের হয়রানী থেকে রক্ষা পায়। এছাড়া জন্ম নিয়ন্ত্রন পদ্ধতি নিতে (স্থায়ী-অস্থায়ী) আগ্রহীরা বরাদ্ধকৃত সুবিধা সময় মতো পেয়ে যান বলে জানান তারা।

এ দিকে গর্ভবতী মায়েরা প্রসব যন্ত্রনা নিয়ে ক্লিনিকে আসার পর চিকিৎসক ডাঃ হ্যাপী কর্মকার সিজার না করিয়ে নরমাল ডেলিভারী করানোর জন্য চেষ্টা করেন। যেখানে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে সিজার করতে ২০/২৫ হাজার ও নরমাল ডেলিভারী ৫/১০ হাজার টাকা খরচ হয়। সেখানে বিনা পয়সা সে চিকিৎসা সেবা নিতে পারছে এ ক্লিনিক থেকে। সিজারের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং নরমাল ডেলিভারী সংখ্যা বাড়ায় খুশি রোগী ও স্বজনরা। এতে করে সাধারন মানুষের মাঝে ফিরে এসেছে স্বস্তি। পূর্বে অভিযোগ ছিল, ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবার মান ও দূর্নীতি এবং অনিয়ম নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে শিরোনাম হতো এ ক্লিনিক। কিন্তু সে দূর্নাম কাটিয়ে এখন সেবার মান নিয়ে নেই কোন হয়ারনী ও অভিযোগ।

শনিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেবা নিতে আসা রোগীরা ভিড় করছে ক্লিনিকে। এসময় কথা হয়, রহিমা বেগম ও ছালেহা আক্তারের সাথে। তারা এ প্রতিবেদককে জানান, আউটডোরে চিকিৎসা নিতে হলেও কোন টিকেট নিতে হয়না। এর আগে আরো কয়েকবার এ ক্লিনিকে আউটডোরে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ২০/৩০ টাকায়ও টিকিটে নিতে হিমশিম খেতে হতো। এখন বিনা খরচে চিকিৎসা সেবা পেয়ে খুশি। এভাবে যেন সেবার মান বজায় থাকে, সে আশা করেন সেবা নিতে আসা রোগীরা।

লক্ষ্মীপুর মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র (ক্লিনিক) মেডিকেল অফিসার ডাঃ হ্যাপী কর্মকার জানান, যোগদান করার পর থেকে চেষ্টা করছি,যেন সাধারন মানুষ সঠিকভাবে চিকিৎসা সেবা পায়। আউটডোরে কোন টিকিট নিতে হয়না। এছাড়া বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও সকল ধরনের ঔষধ পায় সেটা নিশ্চিত করা হয়েছে। এরপরও যদি কোন মানুষ চিকিৎসা নিতে এসে ক্লিনিকের কোন কর্মচারীর মাধ্যমে হয়রানী হয়, তাহলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ দিকে জেলা স্বাচিবের সভাপতি ডাঃ জাকির হোসেন বলেন, এক সময়ে এ ক্লিনিকে তেমন সেবার মান ছিলনা। এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে শিরোনাম হয়েছিল। কিন্তু এখন সম্পূর্ণ তার উল্টো। প্রতিনিয়ত মানুষ সেবা নিয়ে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন। এতে করে সাধারন মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরে এসেছে বলে দাবী করেন তিনি। এভাবে যেন সাধারন মানুষ স্বাস্থ্য সেবা পায়, সেটি নিশ্চিত করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।

অপরদিকে জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক ডাঃ আশফাকুর রহমান মামুন জানান, লক্ষ্মীপুর মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রসহ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবার মান আগের চেয়ে অনেকগুন বেড়েছে। সিজারের সংখ্যাও অনেক কমিয়ে বেড়েছে নরমাল ডেলিভারীর সংখ্যা। এছাড়া মাতৃত্বকালীন সকল চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.






Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta