বীরগঞ্জে নদী খননের বালু অনুমোদন ছাড়াই যাচ্ছে ব্যবসায়ীর কাছে | Nobobarta

আজ বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২০, ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন

বীরগঞ্জে নদী খননের বালু অনুমোদন ছাড়াই যাচ্ছে ব্যবসায়ীর কাছে

বীরগঞ্জে নদী খননের বালু অনুমোদন ছাড়াই যাচ্ছে ব্যবসায়ীর কাছে

Rudra Amin Books

মো: তোফাজ্জল হোসেন, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) সংবাদদাতাঃ দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের বলদিয়াপাড়া এলাকায় আত্রাই নদী খননের বালু অনুমোদন ছাড়াই নিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী। পানি উন্নয়ন বোর্ড বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া নদী খননের বালু নিয়ে যাওয়ার কোন প্রকার নিয়ম না থাকলেও স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী মো. আনারুল ইসলাম নদী খননের বালু বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

আত্রাই নদীর খননকৃত বালু দিয়ে নদীর ধারের বাঁধ বাধার কথা থাকলেও সেই বালু উত্তোলনের পর ইজারা নেওয়ার নাম করে বিক্রি করছেন বালু ব্যবসায়ী আনারুল ইসলাম। নদী খননের এসব বালু প্রতি ট্রলি ২০০ থেকে আড়াই’শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অথচ নদীর খননকৃত এই বালু দিয়ে দুই ধারে বাঁধ বাধার কথা থাকলেও সেটা হচ্ছে না। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছেন, নদীর খননকৃত বালু অনুমোদন ছাড়া কিংবা জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা ব্যতিত কেউ নিয়ে যেতে পারবে না। যদি কেউ নদীর খননকৃত বালু নিয়ে যায় সেটা সর্ম্পূন্ন অবৈধ হবে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের আত্রাই নদীর ঝাড়বাড়ী-জয়গঞ্জ খেয়াঘাটে নদীর খননকৃত বালু অবৈধভাবে বিক্রি করছেন মো. আনারুল ইসলাম। তিনি নদীর খননকৃত বালু কেন বিক্রি করছেন জানতে চাইলে বলেন, ‘আমি খননকৃত জায়গার পাশেই বালু মহাল ইজারা নিয়েছি। কিন্তু যেখানে আমি বালু উত্তোলন করি সেই জায়গায় নদীর খননকৃত বালু ফেলায় ট্রলি ঢুকছে না। ফলে নদীর খননকৃত বালু নিয়ে যাচ্ছি। তবে এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে লিখিত আবেদন জানিয়েছি। তারা আমাকে মৌখিকভাবে বালু নিতে বলেছেন।’

এসব অভিযোগ নাকচ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড, পঞ্চগড়ের খননকাজের কার্য সহকারি (ওয়ার্ক এসিস্টেন্ট) আব্দুল মতিন বলেন, ‘আমি যখন সাইডে যাই তখন তো কাউকে বালু নিয়ে যেতে দেখি না। তবে লিখিত অনুমোদন ছাড়া নদী খননের বালু ব্যবসার কাজে নিয়ে যাওয়ার কোন নিয়ম নেই। কিন্তু আনারুল ইসলাম নদী খননের কাছেই বালু মহাল ইজারা নেওয়া কারণে তার কিছুটা ব্যাঘাত ঘটেছে। তিনি যে লিখিত আবেদন দিয়েছিলেন সেটা আমাদের কাছে আছে। চিঠিটি আমি উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দিব। তারপর কর্তৃপক্ষ যা সিদ্ধান্ত নিবেন সেটাই হবে।’

এ বিষয়ে পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারি প্রকৌশলী তৌহিদ সারোয়ার বলেন, ‘নদী খননের পর উত্তোলিত বালু নদীর পাড় বাধার কাজে ব্যবহার করা হবে। কেউ যদি স্কুল, রাস্তা, মসজিদ ও মাদ্রাসার জন্য বালু নিতে চান তাহলেও আমাদের কাছে অনুমোদন লাগবে। কিন্তু কেউ নদীর খননকৃত বালু বিক্রি করতে পারবেন না। যেহেতু আমরা পঞ্চগড় থেকে কাজটির তদারকি করছি, তাই আজকালকের মধ্যেই সরেজমিন গিয়ে বিষয়টি দেখে বালু বিক্রি করা বন্ধ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.






Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta