দিনাজপুর হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে নেই কোনো ডাক্তার! | Nobobarta

আজ বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২০, ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন

দিনাজপুর হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে নেই কোনো ডাক্তার!

দিনাজপুর হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে নেই কোনো ডাক্তার!

Rudra Amin Books

গত দেড় মাস ধরে দিনাজপুরের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে সার্জারি চিকিৎসকের অভাবে খালি পড়ে আছে হাসপাতালের বেড। এতে সাধারণ রোগীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।

হাসপাতালে সরেজমিনে দেখা যায়, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক না থাকায় ৬০ বেডের নারী ও পুরুষ ও ওয়ার্ডের বিছানাগুলো রোগীশূন্য অবস্থায় পড়ে আছে। দেড় মাস আগে একজন সার্জারি চিকিৎসক দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০ জন রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হলেও বর্তমানে চিকিৎসক না থাকায় হাসপাতালই মুমূর্ষু অবস্থায় পড়েছে।

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে মোট ৫৮ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও সেখানে মাত্র ২৪ জন চিকিৎসক আছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এছাড়াও হাসপাতালে হৃদরোগ, চর্ম ও যৌন রোগ, নাক কান গলার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও এর বিপরীতে পদগুলো শূন্য রয়েছে বলে জানা যায়।
এতে করে গরীব ও অসহায় রোগীরা পড়েছেন বিপাকে। হাসপাতালে সেবা নিতে এসেও ফিরে যাচ্ছেন অনেকেই। হাসপাতালে সার্জারি বিভাগে ডাক্তার না থাকায় বাইরের ক্লিনিকে বা প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা করাতেও হিমশিম খাচ্ছেন গরীব ও অসহায় রোগীরা।

জেলার বিরল উপজেলার ধর্মপুর এলাকা থেকে হার্নিয়া অপারেশন করতে জেনারেল হাসপাতালে এসেছিলেন মো. ইয়াকুব আলী (৪৫)। তিনি বলেন, ‘সদর হাসপাতালে হার্নিয়া অপারেশন করতে এসেছিলাম। কিন্তু হাসপাতালে ঢুকেই দেখি এখানে কোনো চিকিৎসক নেই। ফলে বাধ্য হয়েই বাইরে অপারেশন করাতে হয়েছে।’সদরের শান্তিপুর গোবরাপাড়া থেকে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ডাক্তার দেখাতে এসেছেন নুপুর নাহার। তিনি বলেন, ‘সদর হাসপাতালে কম খরচেই চিকিৎসা পাওয়া যায় এজন্য এসেছি। কিন্তু এখানে এসে দেখি ডাক্তার নেই। তাই বাইরে ডাক্তার দেখিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করালাম।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স বলেন, ‘সার্জারি বিভাগে নারী ওয়ার্ডে ৩০টা সিট এবং পুরুষ ওয়ার্ডে ৩০টা সিট। আজ দেড় মাসের মত হচ্ছে সার্জারি চিকিৎসক না থাকায় কোনো রোগী আসছে না। সব সিট ফাঁকা পড়ে আছে। তিনি আরও বলেন, ‘সার্জারি বিভাগে মেজর ও মাইনর দুই ধরনের অপারেশন করা হয়ে থাকে। চিকিৎসক না থাকার কারণে অপারেশনও বন্ধ হয়ে আছে।’ দিনাজপুরের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আহাদ আলী বলেন, ‘এই হাসপাতালে প্রায় দেড় মাস ধরে কোনো সার্জারি চিকিৎসক নেই। ফলে প্রতিদিন যেখানে আড়াই থেকে তিন’শ রোগী ভর্তি থাকত সেখানে বর্তমানে দুই’শ রোগীও ভর্তি থাকছে না। প্রতি মাসে এখানে মেজর ও মাইনর মিলিয়ে ১৫০ থেকে ১৮০ জন রোগীর অপারেশন হত।’

তিনি আরও বলেন, গত মে মাসেই মেজর অপারেশন হয়েছে ৫৭ জনের এবং মাইনর অপারেশন হয়েছে ২৭ জনের। মেজর অপারেশনের মধ্যে হার্নিয়ার, হাইড্রোসিল, গোল ব্লাডার, লিভার কিডনি, পাইলস ইত্যাদি অপারেশন করা হত। চিকিৎসক না থাকার কারণে এসব অপারেশন বন্ধ হয়ে আছে। চিকিৎসক সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের এখানে ৫৮ জন চিকিৎসক থাকার কথা, সেখানে মাত্র ২৪ জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে চিকিৎসা সেবা। রোগীরাও ঠিকমত সেবা পাচ্ছে না। এখানে হৃদরোগ, চর্ম ও যৌন, নাক-কান গলার চিকিৎসক নেই। গুরুত্বপূর্ণ এসব চিকিৎসক না থাকায় সাধারণ মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আবার যেই অপারেশন হাসপাতালে আমরা ফ্রি করাই সেই অপারেশন বাইরে করতে গেলে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ করছে সাধারণ মানুষ।

চিকিৎসক সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে দিনাজপুর সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘শহরের মধ্যে এরকম একটি জনগুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে আমি কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।’


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.






Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta