পলাশবাড়ীতে প্রধান শিক্ষক পদে চলতি দায়িত্ব প্রদানে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ | Nobobarta

আজ রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০, ০৬:১৮ পূর্বাহ্ন

পলাশবাড়ীতে প্রধান শিক্ষক পদে চলতি দায়িত্ব প্রদানে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

পলাশবাড়ীতে প্রধান শিক্ষক পদে চলতি দায়িত্ব প্রদানে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

Rudra Amin Books

মোঃ আশরাফুজ্জামান, গাইবান্ধাঃ গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের চলতি দায়িত্ব প্রদানে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতিসহ অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ উপে‌ক্ষিত করে মামলায় জড়িত বিদ্যালয়ে পদায়ন দেওয়ায় পলাশবাড়ী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল্যাহিশ শাফিসহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, গাইবান্ধা জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে চলতি দায়িত্ব প্রদানে নীতিমালা অনুযায়ী সবচেয়ে নিকটতম বিদ্যালয়ে পদায়নে পরিপত্রে নির্দেশ থাকলেও চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের পদায়নের বিষয়ে নীতিমালা লংঘন করে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে পদায়ন দেওয়ায় পলাশবাড়ী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে অর্থ বানিজ্যের মাধ্যমে মামলায় জড়িত বিদ্যালয়েও পদায়নের আদেশ দেওয়ায় শিক্ষকদের মাঝে চরম ক্ষােভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

সুত্রমতে, পলাশবাড়ী উপজেলায় প্রধান শিক্ষককের শুন্য পদ ৮০টি। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ৭৪ জন শিক্ষককে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে তালিকা প্রস্তুত করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠায়। তন্মধ্যে ৬৪টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে চলতি দায়িত্ব পদায়ন করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। চলতি দায়িত্ব প্রাপ্ত শিক্ষকদের প্রত্যেকের নিকটস্থ বিদ্যালয়ে পদায়নের আদেশ অমান্য করে শিক্ষক নামে একটি স্বার্থান্বেষী সিন্ডিকেট চক্র বা দালালদের মাধ্যমে মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার যোগসাজসে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে শিক্ষকদের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পদায়নের আদেশ প্রদান করেছেন। নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষকদের সবচেয়ে নিকটতম বিদ্যালয়ে পদায়ন করার কথা থাকলেও পলাশবাড়ি উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নে অবস্থিত মহদীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোছা: রেশমা বেগম গ্রেডেশন নং-২২৩, পলাশবাড়ী উপজেলা ক্রমিক নং ০৫ ইউনিয়নের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক এবং তার নিকটতম বিদ্যালয় গাড়ানাটা, লক্ষীমারী, পেপুলিজোড়, চন্ডিপুর, ছোট ভগবানপুর সপ্রবি থাকলেও তাকে পদায়ন করা হয়েছে অন্য ইউনিয়নে অবস্থিত ২০ কিলোমিটার দূরে গোপিনাথপুর বিদ্যালয়ে।

হোসেনপুর ইউনিয়নে অবস্থিত মেরীরহাট সপ্রবি সহকারী শিক্ষক সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া তার নিকটতম বিদ্যালয় শিশুদহ, সাহিনদহ, আকবর নগর, ঝাপড় সপ্রবি পদায়ন না করে ২০ কিলোমিটার দুরে কিশামত চেরেঙ্গা বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হয়েছে। মহদীপুর ইউনিয়নের বিষ্ণপুর বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো: নজরুল ইসলামকে ৩টি ইউনিয়ন পার করে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দুরে তেকানী বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হয়েছে। বেতকাপা ইউনিয়নের মাঠের বাজার সপ্রবি সহকারী শিক্ষক সায়মা ইয়াছমিনকে তার নিকটতম কয়েকটি বিদ্যালয়ে না দিয়ে অন্যত্র দুরের একটি বিদ্যালয়ে পদায়ন আদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও খামার বালুয়ার আরজুমান ফারজানা, বলরামপুরের শামিম আরা,সাকোয়ার মোস্তফা মুশকুরসহ চলতিদায়িত্বপ্রাপ্ত অধিকাংশ শিক্ষক/‌শি‌ক্ষিকা একই অভিযোগ করেছেন।

অন্যদিকে ১৫টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ নিয়ে মহামান্য হাইকোর্টে মামলা চলমান থাকার পরও স্কুলগুলো সুবিধাজনক অবস্থানে থাকায় আর্থিক সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে সেখানেও পদায়নের আদেশ দেওয়ায় শিক্ষকদের মাঝে মারাত্মক জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে বাড়াইপাড়া ১নং নবসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মশিউর রহমান জানান, আদালতে রীট পিটিশন মামলা চলমান থাকলেও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস নিয়ম বহিভূতঃভাবে আমার স্কুলে প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্ব প্রদান করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, কয়েক জন শিক্ষক নেতার মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নিয়ে শিক্ষকদের পছন্দের স্কুলে পদায়নের জন্য জনপ্রতি ১৫/২০ হাজার টাকা করে আদায় করেছে শিক্ষা অফিস।

বিষয়টি জরুরী ভিত্তিতে সুষ্ঠু তদন্তের জন্য শিক্ষা সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্ত‌ক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক ও সচেতন অভিজ্ঞ মহল। এ ব্যাপারে পলাশবাড়ী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল্যাহিশ শাফি সাহেবের মুখোমুখি হলে তিনি জানান, শুন্য পদের তালিকা যথাযথভাবে প্রেরন করেছি এবং মামলায় জড়িত ১৫টি স্কুলের তথ্য প্রদান কালে মন্তব্য কলামে মামলার কথা উলে­খ করা হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারই এসব স্কুলে পদায়নের আদেশ দিয়েছেন, এতে আমার কোন হাত নেই। যে অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে তা মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবী করে বলেন, আমি জেলায় ৪শোর উপরে পদায়ন দিয়েছি আমার মাথা ঠিক নাই, তবে কাজ করলে কিছু ভুল ক্রটি হতেই পারে। আইন অনুযায়ী যতটুকু সম্ভব স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে কাজ করেছি। আপনি আমার অফিসে আসেন।

উক্ত বিষয়ে রংপুর প্রাথমিক শিক্ষা উপ-পরিচালক মোঃ আব্দুল ওয়াহাব(ডি‌ডি) এর নিকট মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে অবশ্যই অবস্থা নেয়া হবে। তবে শিক্ষার মান উন্নয়নে আপনারদের সহযোগিতা একান্ত ভাবে কামনা করছি।


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.






Nobobarta © 2020। about Contact PolicyAdvertisingOur Family DMCA.com Protection Status
Developed By Nobobarta