শ্রীনগরে সরিষা থেকে উৎপাদন হচ্ছে খাঁটি তেল | Nobobarta

আজ বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২০, ০৩:২৯ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
প্রথম রাতে ৩৭শ পরিবার পেলো খাদ্যসামগ্রী : সিসিক বস্তিতে ভরা দুপুরে কন্ঠশিল্পী নয়ন দয়া ও হাজী আরমান ৬৫ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেবে সিসিক ভালুকায় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করলেন সাদিকুর রহমান ঝালকাঠি করোনা প্রতিরোধে রক্ত কণিকা ফাউন্ডেশন জীবাণুনাশক স্প্রে করোনাঃ দুস্থদের খাদ্য দিলো কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রলীগ সিরাজদিখানে দেড় হাজার পরিবারের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ রাজাপুরে সাইদুর রহমান এডুকেশন ওয়েল ফেয়ার ট্রাষ্ট’র হতদারিদ্রদের মাঝে ত্রান বিতরণ রাজাপুরে পল্লী বিদ্যুত সমিতির গরীব মানুষদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ রাজাপুরে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করলেন ইউপি সদস্য
শ্রীনগরে সরিষা থেকে উৎপাদন হচ্ছে খাঁটি তেল

শ্রীনগরে সরিষা থেকে উৎপাদন হচ্ছে খাঁটি তেল

Rudra Amin Books

মোহন মোড়ল, শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ এখন চলছে পরো দমে সরিষা মারাইয়ের মৌসুম। ক্ষেত থেকে সরিষা কাটার পাশাপাশি চলছে খাঁটি সরিষার তেল উৎপাদনের কাজ। ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণি ও স্থানীয় রাইস মিল গুলো। এখানে অনেক রাইস মিলে ধান ভাঙানোর পাশাপাশি বছরের এই সময়ে সরিষা ভাঙ্গানোর কাজ হয়ে থাকে।

সরিষার মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে সরিষা ক্রয় করে খাঁটি সরিষার তেল উৎপাদন করেন স্থানীয় পাইকার ও মিল মালিকের অনেকেই। ভেজাল সয়লাভের বাজারে খাঁটি তেল পাওয়ার লক্ষ্যে অনেকেই খাঁটি ভোজ্য তেল খোঁজতে আসেন তাদের কাছে। চাহিদা বেশী থাকায় খাঁটি তেলের জন্য অগ্রিম অর্ডার দিয়ে রাখতে হয়। শতভাগ খাঁটি সরিষার তেল পাওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলা ও শহর থেকে গ্রামে ছুটে আসেন স্থানীয় রাইস মিল (ঘাঁনি ভাঙানোর) গুলোতে। এমনই লক্ষ্য করা গেছে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার হাঁসাড়া বাজারের একটি রাইস মিলে।

দেখা যায়, নতুন সব সরিষা ভাঙানো হচ্ছে এখানে। ব্যস্ত সময় পার করছেন মিল মালিক ও শ্রমিক। পাশেই দাড়িয়ে আছেন স্থানীয় কয়েকজন। তারা এসেছেন নিজের জমির নতুন সরিষা নিয়ে। উদ্দেশ্য তাদের সরিষা ভাঙিয়ে তেল সংগ্রহ করা। পুরো বছরের ভোজ্য তেলের জন্য সরিষা এখানেই ভাঙ্গান তারা। মাসের পর মাস এই তেল দিয়েই তাদের প্রায় সব রান্না বান্না করা হয়। এমনটাই জানান তারা। খুব একটা বেশী তেল তাদের বাজার থেকে কিনতে হয়না। এসময় স্থানীয় কৃষক আবু বখর, আহাদুলসহ কয়েক জনের সাথে আলাপ করে জানা যায়, প্রতি কেজি সরিষা ভাঙাতে তাদের খচর পরে ৬ টাকা। আর মন প্রতি ২৪০ টাকা। ভাল মানের এক মন সরিষা থেকে ১৪-১৫ কেজি খাঁটি তেল পান। এছাড়াও তেল পাওয়ার পাশাপাশি ২০-২৫ কেজি খৈইলও বিক্রি করতে পারছেন তারা। বাজারে গবাদি পশুর খাবার হিসেবে খৈইলের চাহিদা ব্যাপক থাকায় ভাল দামে বিক্রি করতে পারছেন তারা। এক কেজি খৈইল বিক্রি করা হয় ২৬-২৭ টাকা দরে। যদিও খৈইল-ভুসির দোকানে পিইউর খৈইলের দাম আরও বেশী। তাছাড়া ভাল খৈইল দোকানে খুব একটা মিলেনা। অতএব প্রতি মন সরিষা ভাঙিয়ে তাদের হাতে তেল আসার পরেও খৈইল বিক্রি করেও তারা আর্থিক লাভবান হচ্ছেন।

হাঁসাড়া বাজারে অবস্থিত রাইস মিলের মালিক হাজী মোঃ রিয়াজদ্দীন মাঝীর পুত্র ফারুক মাঝী বলেন, তার বাবা প্রায় ৩০-৩২ বছর যাবত এখানে রাইস মিলের ব্যবসা করে আসছেন। পিতার সূত্র ধরেই তিনিও দীর্ঘদিন যাবত এখানে কাজ করছেন। তাকে সহযোগিতা করার জন্য দুইজন শ্রমিকও আছেন এখানে। তিনি জানান, এই মৌসুমে তারা সরিষা সংগ্রহ করেন। উৎপাদন করেন খাঁটি সরিষার তেল। অর্ডারে তারা খাঁটি তেল উৎপাদীত করে আগ্রহী ক্রেতার কাছে পাইকারী বিক্রি করেন। প্রতি কেজি সরিষার তেল এখান থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করা হয়।

সরিষার তেল ভাল রাখার জন্য তেলের গ্যালন বা বোতল মাঝে মধ্যে শুধুমাত্র রৌদ্রে কয়েক ঘন্টা রাখলে দীর্ঘদিন তার মান ভাল থাকে। এই তেল যেকোনও খাবার দাবার ও রান্নায় নিঃসন্দেহে ব্যবহার করা যায় বলে জানান তিনি। এছাড়াও তাদের রাইস মিলে সরিষার পাশাপাশি ধান, গম, মসলাসহ ভুট্রাও ভাঙানো হয়।
খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, এই সিজনে বিখ্যাত আরিয়াল বিলে ও সাতগাও প্রচুর সরিষার আবাদ করা হয়। বিলের আশ পাশের স্থানীয় প্রায় হাট বাজার গুলোতে এমন অনেক রাইস মিল আছে। তার অধিকাংশ রাইস মিলেই সরিষা ভাঙানোর (ঘানি) ব্যবস্থা রয়েছে। অনেকেই নিজ জমির সরিষা স্থানীয় রাইস মিল গুলো থেকে তাদের সরিষা ভাঙিয়ে খাঁটি সরিষার তেল সংগ্রহ করে থাকেন।


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.






Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta