চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধ ভেঙে ১৫ বসতঘর নদীগর্ভে | Nobobarta

আজ বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২০, ০৮:১০ পূর্বাহ্ন

চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধ ভেঙে ১৫ বসতঘর নদীগর্ভে

চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধ ভেঙে ১৫ বসতঘর নদীগর্ভে

Rudra Amin Books

চাঁদপুর শহররক্ষা বাঁধের পুরানবাজার হরিসভা অংশে আবারো মেঘনার ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। আজ রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ওই এলাকার সেমিপাকা ও টিনের ১৫টি বসতঘর ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে মানুষের বসতঘর, হরিসভা মন্দিরসহ চলাচলের সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা। হুমকির মুখে থাকা অনেক বসতঘর ভেঙে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ওই এলাকার বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

এর আগে গতকাল শনিবার রাত ৯টার পরে হরিসভা মন্দির কমপ্লেক্স গেইটের সামনে দিয়ে হঠাৎ ভাঙনে পাঁচটি বসতঘরসহ শহর রক্ষা বাঁধে ৩শ’ মিটার মুহূর্তের মধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এছাড়াও ভাঙনে হরিসভা এলাকার ৩শ’ মিটার এলাকাজুড়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। রাতেই পানি উন্নয়ন বোর্ড ঘটনাস্থলে বালিভর্তি ৫শ’ জিও টেক্সটাইল ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করে।

নদীর পাড়ের মাটিতে দেখা দিয়েছে বড় বড় চিড়। ভাঙনের ঝুঁকিতে হয়েছে আরও প্রায় ২৫-৩০টি বসতঘর ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও কর্তব্যে অবহেলার কারণে এই ভয়াবহ ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। নদী ভাঙনের কবলে পড়া পরিবারগুলো হলো- হরিসভা এলাকার গুপিনাথ সাহা, আদিনাথ সাহা, সম্ভুনাথ দে, সুশান্ত দে, মানিক সাহা, সঞ্জয় চক্রবর্তী, বিমল দে, দ্বীপক দে, ধ্রুবরাজ সাহা, সুনীল দে, শ্যামল দে, ওয়াদে আলী শেখ, অঞ্জু শেখ, আমজাদ আলী মুন্সি ও কার্তিক সাহা। চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারি প্রকৌশলী মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন জানান, প্রচণ্ড স্রোতের কারণে হঠাৎ করে এ ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমাদের পর্যাপ্ত পরিমানে বালিভর্তি জিও ভ্যাগ মজুদ রয়েছে। শিগগিরই তা ভাঙনস্থানে ফেলা হবে।

এদিকে ভাঙ্গনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাফাজ্জল হোসেন পাটওয়ারী, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বাবুল, চাঁদপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র ছিদ্দিকুর রহমান ঢালী, কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলী মাঝি। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং তাৎক্ষণিক মানুষের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে সহযোগিতা করেন। ভাঙনস্থানে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুরানবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর শহীদ হোসেন ও এসআই জাহাঙ্গীর আলমসহ ফাঁড়ির পুলিশ টহলে রয়েছে। বর্তমানে পুরানবাজার হরিসভা এলাকার বড় একটি অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যাবার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এর আগেও কয়েক দফা ভাঙনের শিকার হয় হরিসভা এলাকা। প্রতিবারই পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন ঠেকাতে কাজ করেছে। আবারও সেখানে ভাঙন শুরু হওয়ায় হরিসভা, মধ্য শ্রীরামদী ও পশ্চিম শ্রীরামদী এলাকা ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। নদী ভাঙন প্রতিরোধ কমিটির চাঁদপুর দক্ষিণাঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের খামখেয়ালীপনা ও উদাসীনতাই ভাঙনের মূল কারণ। এক মাস আগে নদী ভাঙন প্রতিরোধ কমিটির নেতাদের এলাকাটি পর্যবেক্ষণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের এলাকাটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে অবহিত করেন, যে কোনো সময় এলাকাটি নদীতে বিলীন হতে পারে। তারা তখন আমাদের বলেছেন, তাদের সকল প্রকার প্রস্তুতি রয়েছে। কিন্তু এরপরে তারা আর কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। যার ফলে আজকে এই নদী ভাঙন। পানি উন্নয়ন কর্মকর্তাদের অবহেলায় আজকে পুরানবাজার এলাকা হুমকির মুখে পড়েছে।


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.






Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta