শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন

English Version
ইভিএম, আসন্ন নির্বাচন ও নতুনধারার নিবন্ধন : মোমিন মেহেদী

ইভিএম, আসন্ন নির্বাচন ও নতুনধারার নিবন্ধন : মোমিন মেহেদী



  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ঘাতক খন্দকার মোস্তাকরা ফিরে এসেছে ডিজিটাল মোস্তাক হয়ে। এরা রাজনীতিকে কলুষিত করার পাশাপাশি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনকের সকল পজিটিভ কাজকে নেগেটিভ করার মিশনে নেমে ম্মৃয়মান করে দিচ্ছে সকল ভালোকে। আর এরই মধ্যে শুরু হয়েছে সারাদেশে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ফাকাওয়াজযুদ্ধ।

এ যুদ্ধে বরাবরের মত এগিয়ে আছেন নিজস্ব স্বকীয়তা বিসর্জন করে, রাজনৈতিক দর্শনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে এগিয়ে চলা লোভি-লম্পট-ঠক-প্রতারক-লুটেরা রাজনীতিক হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে চলমান সময়ে অত্যন্ত পরিচিত কয়েক ডজন নেতা। এদের কাজই হলো হালুয়া-রুটির ভাগ কম পেলে চিল্লাচিল্লি করা, আর মন মত পেলে নিরব ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া। আর তাই ধারাবাহিকতায় একাদশ সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষতার নামে নিজেদের ‘হালুয়া-রুটির অংক’ কষতে মাঠে নেমেছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট সহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। হালুয়া-রুটি ভাগের পূর্ব পর্যন্ত তাদের দাবীগুলো হল- তফসিল ঘোষণার আগে সরকারের পদত্যাগ, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করা। স¤প্রতি বিভিন্ন সভা-সেমিনার ও পৃথক বিবৃতির মাধ্যমে এসব দাবির কথা জানিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট, যুক্তফ্রন্ট, গণফোরাম, বাম গণতান্ত্রিক জোটের আট দল ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এসব দাবি আদায়ে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানানোর পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য গড়ারও চেষ্টা চালাচ্ছে দলগুলো।

ইতিমধ্যে দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাম গণতান্ত্রিক জোটসহ কয়েকটি দল কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণকারী রাশেদ খান মেনন-এর দল ওয়ার্কার্স পার্টি ও আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জাতীয় পার্টি জেপিও আন্দোলনের ডাক দিয়েছে ইভিএম ইস্যুতে। বিষয়টা অনেকটা গাছেরটাও খায়, নিচেরটাও কুড়ায় প্রবাদের মত। অবিরত তাই বলে যেতে চাই- আগামী নির্বচনে নতুন অন্তত ২ টি রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসা উচিৎ। তার মধ্যে নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবি ও গণ সংহতি আন্দোলন থাকলে কিছুটা হলেও এগিয়ে যাবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অধিকারের পথ। যদিও গণ সংহতির প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকীর সাথে আমার অত কথা বলা হয়নি। তবে, বিএনপি, জামায়াত, তথাকথিত বাম রাজনীতিকদের চেয়ে কিছুটা ভালো বলে গত ১৬ বছর যাবৎ দেখে আসছি। আর তাই অন্তত এই দুটি দলের নিবন্ধন চাই।

দেশের রাজনীতি যখন গণভবন কেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে তখন আবারো ৪ জনের সহযোগিতায় হাঁটাচলাকারী রাজনীতিক ড. কামাল হাল ধরার কথা বলছেন, যিনি নিজের হালই ধরে রাখতে পারেন না; তিনি আবার দেশের হাল ধরার কথা বলেছেন মিডিয়াতে ঠিক এভাবে- বিভিন্ন জায়গা থেকে একই দাবি আসছে। এখন আমরা ঐকমত্য গঠনের চেষ্টা করছি। জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে বৃহত্তর ঐক্যের মাধ্যমে কিভাবে দাবি আদায়ে বাধ্য করা যায় সে ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা চলছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনের বাকি আছে প্রায় ৪ মাস। সময় যত কাছে আসছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের দাবি নিয়ে সোচ্চার হওয়ার চেষ্টা করছে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট অনেক আগে থেকেই এ চার দফাসহ আরও বেশ কয়েকটি দাবির কথা বলে আসছে। যদিও এর সঙ্গে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তি ও বিরোধী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিটি প্রধান দাবি হিসেবে বলছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সব বিরোধী রাজনৈতিক দলের দাবি একই। যে যার অবস্থান থেকে ইতিমধ্যে এসব দাবি জানিয়েছেন। আমরাও পরিষ্কারভাবে জানিয়েছি। আশা করছি সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে হলে দাবিগুলো মেনে নেবে তারা। নইলে ঐক্যবদ্ধভাবে দাবি আদায় করা হবে।

এই যখন ড. কামাল-এর কথা, তখন সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্পধারা বাংলাদেশ, আ স ম আবদুর রবের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ও মাহমুদুর রহমানের নাগরিক ঐক্যর সমন্বয়ে গঠিত যুক্তফ্রন্ট-এর বক্তব্যলো- ইতিমধ্যে দাবি আদায়ের জন্য যৌথ নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে একমতে পৌছেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও মাাুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য। আর আগ বাড়িয়ে তাঁরই বক্তব্য হলো- এসব দাবি এখন জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে। কারণ সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে হলে এর কোনো বিকল্প নেই। এর বিপক্ষে শুধু ক্ষমতাসীনরা। দাবি আদায়ে বৃহত্তর ঐক্যের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

এ চার দাবির পাশাপাশি আরও কিছু দাবিতে কর্মসূচি দিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোটে থাকা আটটি দল। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ৮ সেপ্টেম্বর মুক্তিভবনে বুদ্ধিজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে মতবিনিময় সভা, ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকাসহ সারা দেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সমাবেশ-বিক্ষোভ কর্মসূচির মাধ্যমে ‘দাবি দিবস’ পালন, ২০ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন অভিমুখে বিক্ষোভ এবং ১১ অক্টোবর ঢাকার সচিবালয় অভিমুখে বিক্ষোভ কর্মসূচি। বিএনপি-জামায়াত ঘনিষ্ট রাজনীতিক হিসেবে বাম অঙ্গণে ব্যাপক পরিচিত বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির এজমালি সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকও গণমাধ্যমকে একই সুর দিয়ে বলেছেন, আমাদের দাবিগুলো ন্যায্য ও যৌক্তিক। দাবি আদায়ে আমরা ইতিমধ্যে কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। এসব ক্ষেত্রে সংবিধানের দোহাই দেয়াটা একটি অজুহাত। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে সংবিধান সংশোধন করে বিদ্যমান সংকট সমাধান করতে পারে। বাস্তবতার নিরিখে বিশেষ প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধনেও কোনো সমস্যা নেই।

কারণ অতীতে এ রকম সংকটকালে সংবিধান সংশোধন করে সংকট সমাধানের উদাহরণ তো রয়েছে। চার দাবির সঙ্গে একমত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির আমীর ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। যার বিরুদ্ধে নিজেকে নবী দাবীর অভিযোগ সহ অসংখ্য ধর্ম রীতি ভঙ্গের অভিযোগ থাকা স্বদ্বে নির্লজ্জ বেহায়ার মত বাম-নাস্তিক(তাঁর ভাষ্যনুযায়ী) একাত্মতা পোষণ করে বলেছেন, এসব দাবি বাস্তবভিত্তিক। তাই সবাই এসব দাবির ব্যাপারে কথা বলছেন। আশা করছি সবাই পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে এর সমাধানে পদক্ষেপ নেবেন। এদিকে ইভিএম ইস্যুতে সংশয় প্রকাশ করেছে সরকারি জোটের অন্যতম দুই শরিক- জাতীয় পার্টি ও ওয়ার্কার্স পার্টিও। সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, আমাদের মানুষ তো টিপসই দিতে পারে না, ইভিএমে টিপ দেবে কিভাবে? এতগুলো আসনে যদি একসঙ্গে ইভিএম হয়, তবে তার সফলতা নিয়ে আমরা নিশ্চিত নই। অবশ্য শুধু এরশাদ সহ অনেকেই মনে করে, ইভিএমের ব্যাপারে জনমনে অনেক সন্দেহ রয়েছে। তাই এ ভোটিং পদ্ধতি চালুর আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা প্রয়োজন। সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে তা না করে ইভিএম জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয়া ঠিক হবে না। পৃথিবীর অনেক দেশে ইভিএমের ব্যবহার রয়েছে। এটি একটি আধুনিক পদ্ধতি। এ নতুন পদ্ধতি ব্যবহারের আগে সভা-সেমিনার করে এ সম্পর্কে জনগণকে ধারণা দিতে হবে। ইভিএমের ব্যাপারে জনমনে অনেক সন্দেহ রয়েছে। এ সন্দেহ দূর করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে তা না করে ইভিএম জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয়া ঠিক হবে না। তিনি আরও বলেন, আমি যতদূর জানি এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন অতটুকুও অগ্রসর হয়নি। তারপরও ১০০ আসনে ইভিএম ব্যবহারের খবরে একটা আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এসব দূর করে ইসি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে ভালো হয়।

অবশ্য স্বাধীনতার অন্যমত প্রধান সংগঠক আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন ১৪ দলের অন্যতম শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি আরো বলেছে যে, ইসির ইভিএম উদ্যোগে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রই কার্যত শক্তিশালী হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নির্বাচন কমিশন যখন স¤প্রতি অনুষ্ঠিত সিটি নির্বাচনে কয়েকটি কেন্দ্রে মাত্র ইভিএমের মাধ্যমে ভোট নিয়েছে। এতেই এটা স্পষ্ট যে, এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন নিজেই এখনও প্রস্তুত নয়। জনগণও সেভাবে প্রস্তুত নয়। সে কারণেই নির্বাচন কমিশনের এ প্রস্তাব ঘোড়ার আগেই গাড়ি জুড়ে দেয়ার শামিল। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এমনকি নির্বাচনকে বানচাল করার যে ষড়যন্ত্র রয়েছে এ ধরনের উদ্যোগ তাকেই শক্তিশালী করবে।
এই যখন নির্বাচনের পূর্ব মূহুর্তে গাছেরটা-নিচেরটা খাওয়ার প্রত্যাশীদের অবস্থা। তখন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন মহলের সংশয়-সন্দেহকে উড়িয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, নির্বাচন হবেই, কেউ বানচাল করতে পারবে না। এটা ঠেকানোর কারও কোনো শক্তি নেই। বিএনপির নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়টি তাদের দলীয় বিষয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিএনপিকে নির্বাচনে আনতেও যাব না, বাধাও দেব না। তবে, বিএনপির সঙ্গে সংলাপে বসবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি। নেপালে বিমসটেক সম্মেলনে যোগদান শেষে দেশে ফেরার দু’দিন পর এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিএনপির নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর বত্তব্য হলো- বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এতিমের টাকা চুরি করার দায়ে আদালতের রায়ে দণ্ডিত হয়ে কারাভোগ করছেন। তাকে আমি বা সরকার গ্রেফতার করেনি। রাজনৈতিকভাবেও তাকে গ্রেফতার বা মামলা করা হয়নি। তার মামলা বর্তমান সরকার করেনি। করেছে খালেদা জিয়ার প্রিয় পাত্ররাই। এক-এগারোর সময় সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদ, সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ অনেকেই খালেদা জিয়ার প্রিয়ভাজন ছিলেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, যে মামলা চলেছে ১০ বছর, এ ধরনের মামলায় এতদিন লাগে না।

সরকার যদি হস্তক্ষেপ করত এতদিন কি লাগত? উনি আদালতে আসতে চাইতেন না বলে এর শুনানিতে ১৫৪টা তারিখ পড়েছে। এখন বিএনপি বলছে তার মুক্তি ছাড়া তারা নির্বাচনে যাবে না। অথচ তার মুক্তি সম্পূর্ণ আদালতের বিষয়। আর যদি দ্রুত মুক্তি চায় বিএনপি রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। এখানে আমাদের দোষ দিয়ে লাভটা কি? তাদের নেত্রী বন্দি হয়ে আছেন, তারা আন্দোলন করুক। ডাক দিচ্ছে, হুঙ্কার দিচ্ছে- খুব ভালো কথা। এখন বলছে নির্বাচন করবে না। নির্বাচন কে করবে কে না করবে, সেটা সেই দলের ওপর নির্ভর করে, সেটা তাদের সিদ্ধান্ত। এখানে আমাদের কি করার আছে? তাদের দল যদি মনে করে, করবে না, করবে না। তারা যদি মনে করে, তাহলে করবে। এখানে তো আমাদের কোনো বাধা দেয়ার কিছু নেই বা দাওয়াত দেয়ারও কিছু নেই। পরিষ্কার কথা। তবে, যাই ঘটুক তাদের সঙ্গে বসব না। খালেদা জিয়ার ছেলে মারা যাওয়ার পরে যখন তার বাসায় দেখতে গেলাম। আমার মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিল। আমাকে ঢুকতে দিল না। সেদিন থেকেই তো আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমি অন্তত ওদের সঙ্গে বসব না। আমার সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না। প্রশ্নই ওঠে না। এটা আপনারা যে যতই বলেন। ক্ষমতায় থাকি, না থাকি, আমার কিচ্ছু আসে যায় না। কিন্তু আমার একটা আত্মসম্মানবোধ আছে। এটা মনে রাখবেন। অপমানের একটা সীমা আছে। যারা দিনের পর দিন আমাদের বাড়িতে পড়ে থাকত, তারা মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দেয়ার মতো সাহস রাখে? আমি তখন তো রিঅ্যাক্ট করিনি। কিচ্ছু বলিনি। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ মারল। তখনই আমার অ্যারেস্ট করা উচিত ছিল। তখনও আমি সহনশীলতা দেখিয়েছি। তাছাড়া নির্বাচন হবেই। নির্বাচন ঠেকানোর মতো কারও কোনো শক্তি নেই।’ আমরাও তাই মনে করে, নতুন প্রজন্ম জানে এগিয়ে গেলেন তো বিজয়ী, পিছিয়ে গেলেন তো বেঈমান। আর তাই এগিয়ে যাওয়ার পক্ষে আমরাও। কিন্তু সেই এগিয়ে চলা একলা একলা নয়। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবেদন কৃত নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির বড় প্রয়াজন আজ নিবন্ধন, কেননা, নতুনধারা নির্বাচন কেন্দ্রীক রাজনীতি করে। এই রাজনীতির হাত দিয়েই খুলে যাবে বলে আশা করছি বন্ধ বাকি দুয়ারগুলো…

লাইক দিন

Please Share This Post in Your Social Media




Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.



© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com