নিজের ভোটটিও দিতে পারেননি হিরো আলম | Nobobarta

আজ বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২০, ০৯:২০ পূর্বাহ্ন

নিজের ভোটটিও দিতে পারেননি হিরো আলম

নিজের ভোটটিও দিতে পারেননি হিরো আলম

হিরো আলম
হিরো আলম

Rudra Amin Books

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন আলোচিত ব্যক্তি । নির্বাচনের দিন সকালে ‘হামলা-মারধর ও এজেন্টকে বের করে দেওয়া’সহ একাধিক অভিযোগে এনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। ভোট গণনা শেষে জানা যায়, নিজ আসনে সিংহ প্রতীকে ভোট পেয়েছেন মাত্র ৬৩৮টি।

মোট ভোটের এক-অষ্টমাংশ না পাওয়ায় জামানত হারিয়েছেন হিরো আলমের। ওই আসনে মোট ১ লাখ ২৬ হাজার ৭২২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মোশারফ হোসেন। সামগ্রিক বিষয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আমাদের সময় দেয়া সাক্ষাতকারে হিরো আলম যা বলেছেন তা হুবুহু নববার্তার পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো। সাক্ষাতকার নিয়েছেন মো. জুবাইর।

ভোটের দিন আপনার ওপর হামলা হয়েছিল, শারীরিক কোনো ক্ষতি হয়েছে?
হিরো আলম : না না, শারীরিক কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
জেলা প্রশাসক বা রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন?
হিরো আলম : জেলা প্রশাসকের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। সেই সাথে এ বিষয়ে একটা লিখিত অভিযোগও দিয়ে এসেছি।
হামলার ঘটনায় কোনো মামলা করেছেন?
হিরো আলম : না, মামলা এখনো করিনি। তবে, মনে করেন এ ব্যাপারে সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করছি। যারা এসব করছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেব।
আপনি কি কাউকে চিনতে পেরেছেন, যারা আপনার ওপরে হামলা করেছে?
হিরো আলম : হ্যাঁ, হ্যাঁ। আমি সবাইকে চিনি।
আপনি তো ভোটের দিন কেন্দ্রে কেন্দ্রে ঘুরেছেন, জনগণের প্রতি আপনার যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, সেই অনুযায়ী কি ভোট পেয়েছেন?

হিরো আলম : আমি প্রতিটা কেন্দ্রে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হিরো আলমের প্রতি জনগণের উপচেপড়া ভিড় দেখেছি। আর গিয়ে দেখি, কোনো ব্যালটই নেই। অনেক কেন্দ্রে নৌকা ছাড়া ভোট দিতেই দেবে না। আর যদি ভোট পাবলিককে সুষ্ঠুভাবে না দিতে পারে, তা হলে তো মনে করেন ভোট পড়বে না। আমার সাথে যখন গণ্ডগোলটা হলো, তখন নন্দীগ্রাম থেকে আওয়ামী লীগের লোকজন এককভাবে সিল মেরেছে। আর একদিকে কাহালুতে বিএনপির লোকজন ব্যালটে সিল মারছে। দুইপক্ষই এটা নিয়ে চান্স নিয়েছে।

ভোটকেন্দ্রের অভিজ্ঞতা যদি বলতেন?
হিরো আলম : কেন্দ্রে কেন্দ্রে গিয়ে দেখি, ব্যালটই নাই। আমি জানতে চাইলাম ব্যালট নেই কেন? বলল, ব্যালট আনতে গেছে। এই নিয়ে কথাবার্তা বলতে বলতে ধাক্কা-ধাক্কি করতে করতে কেন্দ্রে থেকে বের হয়ে আসলাম। আরেক কেন্দ্রে আসলাম-এখানেও মারামারি। আমার সঙ্গে মারামারি লাগছে তিন কেন্দ্রে।

আপনার ওপরেই কেন আঘাত করা হলো?
হিরো আলম : আঘাতটা করা হলো মনে করেন, আমি তো হাতেনাতে ঘটনাটা ধরছি, প্রতিবাদ করছি। এদের কথা, ‘তুই চুপ থাক।’ আমি তো আবার প্রতিবাদী ছেলে। প্রতিবাদ ছাড়া থাকতে পারি না। আমার চোখের সামনে কোনো অন্যায়-অত্যাচার হলে আমি তা মুখ বুঝে সহ্য করতে পারি না। এটাই আমার অপরাধ।

আপনার বাসা-বাড়িতে হামলা হয়েছে?
হিরো আলম : না না না। আমার বাসায় কোনো হামলা হয়নি। আমাকে কেউ এখনো থ্রেট দেয়নি। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমাকে কেউ কিছু বলেনি।

আপনার ওপর কেন এত আক্রোশ দেখানো হলো?
হিরো আলম : আমার ওপর আক্রোশটা হলো, আওয়ামী লীগের লোকেরা এক তরফা সিল মারছে। এখন আমি ঠেকাতে গেল তারা দেখছে যে, আমি জনপ্রিয়তায় দিকে একটু এগিয়ে আছি। লোকজন আমাকে একটু জনপ্রিয়তায় এগিয়ে রেখেছে। তো হিরো আলম যদি না থাকে তাহলে সে তো ফট করে বের হয়ে যেতে পারে। এ জন্য এমন আশঙ্কা থেকে আমাকে আটকাতে গেছে।

আপনি বলতে চাচ্ছেন, আপনাকে তারা অনেকাংশে ভয় পেয়েছে?
হিরো আলম : আমরা তো এটাই মনে হয়। কারণ, আমি তো স্বতন্ত্র প্রার্থী। আমাকে আটকাতে যাবে কেন, তাই না? তাছাড়া তো আমার সঙ্গে কারো দ্বন্দ্ব থাকার কথা না।

আপনি তো ভোট বর্জন করেছেন। আপনি কি মনে করেন, ভোটে থাকলে জয় পেতেন?
হিরো আলম : আমি ভোটে থাকলে অবশ্যই জয়যুক্ত হতাম।

নিজের ভোট দিতে পেরেছিলেন?
হিরো আলম : আরে না। নিজে ঢুকতেই তো ওখানে মারামারি লেগে গেল। এজন্য মনে করেন, কিছু করতে পারিনি।

আপনি প্রথমে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন কিনেছিলেন, হামলার পর তাদের কেউ যোগাযোগ করেছিল?
হিরো আলম : জাতীয় পার্টি-বিএনপি-আওয়ামী লীগ সবদল থেকেই এ বিষয়ে আমার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে। তারা বলে যে, তোমার মতো লোকের সঙ্গে এটা করা ঠিক হয়নি। যারা আওয়ামী লীগের ভোট করে তারা মনে করেন, হিরো আলমের সঙ্গে তোমাদের এটা করা ঠিক হয়নি। আওয়ামী লীগ বলেন, জাতীয় পার্টি বলেন, আর বিএনপি বলেন-সব দল থেকেই আমাকে সান্ত্বনা জানিয়েছে।

আপনি তো আওয়ামী লীগ নিয়ে অনেক কথা বলেছেন। তাদের পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়েছে?
হিরো আলম : না, অন্য কিছু বলা হয়নি।

আপনার ওপর হামলা নিয়ে নিক্সন চৌধুরী কিছু বলেছেন?
হিরো আলম : বিষয়টা নিয়ে সান্ত্বনা দিয়েছে আমাকে। কারণ বিষয়টা নিয়ে তো কেউ আমাকে মেনে নেয়নি।

আপনার পরবর্তী পরিকল্পনা কী?
হিরো আলম : দেখেন এখনো যেহেতু আমাদের এলাকায় যে এমপি হয়েছে, তিনি তো শপথ নেননি। এখানে তো উপনির্বাচন হবে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেখব। যদি দেখি অবস্থা ভালো আছে, তাহলে ভোটে আসব। আর যদি দেখি যে নেই-তাহলে যাবো না।

আগামী মার্চে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে, ওই নির্বাচন করার ইচ্ছা আছে?
হিরো আলম : এখন দেখেন সবকিছু পরিবেশের ওপর নির্ভর করবে। পরিবেশ যদি ভালো হয় তাহলে নির্বাচনে আসব। আর যদি পরিবেশ ভালো না হয় তাহলে নির্বাচনে যাবো না।

ব্যবসা তো চলছেই, মিউজিক ভিডিও বা সিনেমা করবেন?
হিরো আলম : হ্যাঁ। সামনের সপ্তাহ থেকে সেগুলো আবার শুরু করব। নাটক-গান-সিনেমা শুরু করব। আর আমি পাস করলে কী, আর ফেল করলে কী। আমি তো এ জগৎ ছাড়তাম না।

ভোট নিয়ে এলাকার লোকজন কী বলছে?
হিরো আলম : এ বিষয়ে অনেকেই দুঃখ প্রকাশ করেছে। অনেকেই ভোট দিতে যেতে পারেনি।

আপনার মতে নির্বাচন কেমন হয়েছে?
হিরো আলম : এটা সবাই তো দেখেছে যে, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি।


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.






Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta