রাজাকারের তালিকা বনাম মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী | Nobobarta
Safety First

আজ শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২০, ১১:৪৩ অপরাহ্ন

রাজাকারের তালিকা বনাম মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী

রাজাকারের তালিকা বনাম মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী

তৈমুর মল্লিক : দেশ স্বাধীনের ৪৮ বছর পরে এসে রাজাকারের তালিকার ১ম ধাপ প্রকাশ করা হলো। দেশের সবাই হৈ হৈ করে উঠলো। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ঝামেলা বুঝতে পেরেই বিষয়টি চাপিয়ে দিলেন পাকিস্তানের উপর। সকলেই জিজ্ঞাসা করছে কেন মাননীয় মন্ত্রী? দেশ আপনার, মন্ত্রনালয় আপনার, রাজাকার বাংলাদেশি নাগরিক – আর তালিকা দিয়েছে পাকিস্তান?

আপনি নিজের অযোগ্যতার স্বাক্ষর এভাবে দিয়ে জাতিকে এবং প্রধানমন্ত্রীকে কোন লজ্জার মধ্যে ফেললেন? রাজাকারের তালিকা এটি কতবড় একটি স্পর্ষকাতর বিষয় সেটা বুঝতে যদি আপনার সমস্যা হয় তাহলে এমন একটি মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে আপনি কেন বসে আছেন? কথাগুলো এভাবেই প্রশ্ন হয়ে সারাদেশে ছড়িয়ে গেছে। তালিকাটা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েগেছে তখনই, যখন আপনি সেটা পাকিস্তানের প্রদান করা বলে শিকার করলেন। আপনি ভুল নন, কুটনৈতিক ভাবে পাকিস্তানের নিকট হতে তালিকা আপনি নিতেই পারেন, কিন্তু সেটার সত্যতা প্রমানের দায়তো আপনার ছিলো তাই নয়কি?

আপনি কি ২০০৭- ৮ সালের তত্বাবধায়ক সরকারের তৈরি করা রাজাকারের তালিকাটা দেখেছেন? একটু দেখলেই আপনার দেয়া পাকিস্তান তথ্য হয়তো ভুল প্রমাণ হলেও হতে পারে। যাইহোক বলেই যখন ফেলেছেন, ৪৮ বছর পরে তালিকাটা প্রশ্নবিদ্ধ করে আপনি ভবিষ্যতের কোন পথকে রুদ্ধ করলেন কিনা সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। নাম না উল্লেখ করে যদি বলি – তাহলে দৃশ্যমান বেশ কয়েকটি বড় বড় গর্ত রয়েছে যা প্রচন্ডভাবে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। আপনি বা আপনারা যদি মনে করেন রাজাকারের সাক্ষি শুধু আপনারাই, দেশের সকল মানুষ কিছুই দেখেনি, বা জানেনা সেটা ভাবা হবে সবচেয়ে বড় ভুল। কোন ভাবেই এমন সত্য আড়াল করা যাবেনা। আর তাই এমন একটি বিষয়ে অতি তড়িঘড়ি করে আপনি ক্রেডিট নিতে গিয়ে যে কাজটি করলেন সেটা যে আগামী তালিকা প্রকাশে পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে সেটাকি ভেবেছেন?

আপনারা প্রায় প্রতিটি মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী মহোদয় গণ যেভাবে একের পর এক যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে চলেছেন তাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী লজ্জায় নিজেই নিজের দিকে তাকাতে পারে বলে মনে হয়না। অথচ তিনি চান – যা সত্য, সেটাই সামনে আসুক, যা ঘটেছে সেটাই প্রতিয়মান হোক। আজ তাকে কোথায় নিয়ে দাঁড় করালেন?

আমরা সাধারণ জনগন কি ধরেনিতে পারি যে, প্রধানমন্ত্রীর সরকারে থেকে এই সব কার্যাবলী তার বিরুদ্ধে ষঢ়যন্ত্রের অংশ? যদি সেটা না হয় তাহলে সময় হয়েছে জাতির সামনে আপনার কাজের দায়বদ্ধতা স্বীকার করা এবং অযোগ্যতার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সামনে গিয়ে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেয়া। কোন ক্রমেই আপনি যাচাই বাছাই ছাড়া রাষ্ট্রিয় ভাবে কারো নাম এমন ঘৃনিত তালিকায় লিপিবদ্ধ করা বা বাদ দিয়ে প্রকাশ করতে পারেন না। এটি আপনার মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব। বাংলাদেশ ৪৮ বছর পরে একটি রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করেছে – সেই তালিকায় একটি নামও যদি মিথ্যা বা কারো প্ররোচনায় প্রবেশ করে তাহলে সেটা কতবড় ঝুকি সামনে আনতে চলেছে সেটাকি একবার ভেবেছেন?

যেহেতু এটি তালিকার ১ম ধাপ সেহেতু যাদের নাম আসেনি – তাদের নাম আসবে বলে শান্তনা যদিও খুজে নেই কিন্তু যাদের নাম এসেছে তাদের অনেকের জন্য তালিকায় যে গর্ত তৈরি হয়েছে সেটি কি দিয়ে পূর্ণ করবেন? পারবেন বলতে তালিকা এটা বাতিল, নতুন করে আবার করা হবে? এই কথা বললেইতো পরের তালিকা আগামী ৫০ বছর পরেও প্রকাশিত হবে না, যদিও হয় সেটি হবে আরো প্রশ্নবোধক তার কি হবে?

লক্ষ টাকার পান খেয়েগেলো দুই টাকার ছাগলে, কেন যাচাই বাছাই ছাড়া তাড়াহুড়ো করে তালিকা প্রকাশ করে দেশের এতো বড়ো সর্বনাশ করলেন? যে পাকিস্তানের নিকট হতে দেশ স্বাধীন হলো, সেই পাকিস্তানের তালিকায় আপনি ক্রেডিট নিতে চাইলেন মাননীয় মন্ত্রী? আজ বঙ্গবন্ধু থাকলে এতোক্ষনে কি হতো সেটা হয়তো আপনি নিজে বুঝতেও পারেন নি। যে প্রধানমন্ত্রী রাতদিন এক করেদিচ্ছে শুধু দেশের জন্য, আপনারা দল বেঁধে তাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন একবার ভাবুন। তালিকা যদি সত্যি প্রশ্নবোধক হয়, দায় স্বীকার করে দয়া করে পদত্যাগ করুন। জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে কাজটি আবার নতুন করে যাচাই বাছাই করে আবার হবে।

এর বাইরে কিছু হলে বুঝতে হবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সত্যি একা হয়ে যাচ্ছেন, আর আপনারা সেটাই করছেন। ব্যাক্তি স্বার্থ যদি বাদও দেই তাহলে, নিঃসন্দেহে আপনি যুদ্ধাপরাধী বিচার ট্রাইবুনালকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন, এর নেতি বাচক প্রভাব কতদুর যায় সেটা একবার ভেবেছেন মাননীয় মন্ত্রী? আপনি পরিস্কার ৭১ টেলিভিশনকে বলছেন, স্বররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের নথিথেকে নেয়া তালিকা কোন প্রকার যাচাই বাছাই ছাড়াই প্রকাশ করেছেন। উইস্থাপকের প্রশ্নছিলো – রাষ্ট্র যাচাই বাছাই ছাড়া এমন স্পর্শকাতর বিষয় এভাবে প্রকাশ করতে পারে কি না। আপনি সেখানে বলছেন – আপনারা বোঝার চেষ্টা করুন, তালিকা আমরা বানাইনি, স্বররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় এটি করেছে। মাননীয় মন্ত্রী তাহলে আপনার মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব কি, প্রশ্নটি এসেই যায়।

আর দয়াকরেএভাবে লোক হাসাবেন না। এখন আপনি খতিয়ে দেখার কথা বলছেন? তাহলে তার আগে আপনাকে এই তালিকা ইনভ্যালিট বা বাতিল বলে ঘোষণা দিতে হবে। অন্যথায় যারা রাজাকার নয় তারা যদি এখন মামলা করে সরকারের বিরুদ্ধে তার দায় কি আপনি নেবেন? তালিকায় এমন নাম রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রাষ্ট্র নিজেই উঠিয়ে নিয়েছে। তাহলে তার নাম ঘৃণিত তালিকায় থাকার কথা নয়। যদিও নোট হিসাবে তার বিষয়ে লেখা আছে।

আপনি কি করে বলেন, এটা থাকলে বরং তারই অহংকার হবার কথা। ধরুন আপনার নামটি নোট সহকারে তালিকায় লিপিবদ্ধ আছে, তখন আপনি মেনে নেবেন? নাকি আপনার অহংকার হবে? জানার খুব ইচ্ছা আমাদের। রাজাকারের তালিকা তৈরি করেছেন মাননীয় মন্ত্রী, কোন খেলার পুতুলের নামিয় তালিকা তৈরি করেননি। আর তাই আপনাকে অবশ্যই মানুষের সম্মান হানির জবাব দিতে হবে যদি তালিকায় একটি নামও ভুল হয়ে থাকে। অন্যথায় দেশ প্রশ্নবোধক হয়ে যাবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে এভাবে অপমান করার কোন রাইট আপনি কেন, কারোই থাকার কথা নয়।।


Leave a Reply



Nobobarta © 2020। about Contact PolicyAdvertisingOur Family DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com