নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরস্মরণীয় : অধ্যাপক নিম চন্দ্র ভৌমিক | Nobobarta

আজ সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২০, ০২:২২ পূর্বাহ্ন

নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরস্মরণীয় : অধ্যাপক নিম চন্দ্র ভৌমিক

নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরস্মরণীয় : অধ্যাপক নিম চন্দ্র ভৌমিক

Rudra Amin Books

বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরস্মরণীয় বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট শিক্ষঅবিদ ও সাবেক রাষ্ট্রদূত অধ্যাপক নিম চন্দ্র ভৌমিক। তিনি বলেন, বাঙালি সমাজের নারী-পুরুষের অসঙ্গতির বিরুদ্ধে প্রথম যে কণ্ঠটি আওয়াজ করেছিলো সেটি বেগম রোকেয়া। নারী স্বাধীনতার পক্ষে প্রথম প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরও বেগম রোকেয়াকেই আমরা গণ্য করতে পারি। তিনি বাঙালির নব জাগরণের সূচনা লগ্নে নারী শিক্ষা ও নারী জাগরণে নেতৃত্ব দেন।

সোমবার (৯ডিসেম্বর) তোপখানার সাংবাদিক নির্মল সেন মিলনায়তনে উপমহাদেশের প্রখ্যাত মহিয়সী নারী, নারী শিক্ষার দূত বেগম রোকেয়ার ১৩৯তম জন্মবার্ষিকী ও ৮৭তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, নারী শিক্ষার মাধ্যমেই দেশ ও জাতি উন্নত পরিবেশের আধুনিক আইনের শাসনের রাষ্ট্র গঠন করতে পারে। সেই লক্ষ্যেই বেগম রোকেয়া তার জীবনে নারী জাগরণের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং নারীদের শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য ব্রত নিয়েছিলেন। আসুন আমরা বেগম রোকেয়ার মত নারী শিক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা রাখি এবং সেই নারী শিক্ষার মাধ্যমেই দেশ হবে একটি আধুনিক উন্নত পরিবেশের আইনের শাসনের বাংলাদেশ।

জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগের সভাপতি এম.এ জলিলের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহন করেন বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদের সভাপতি লায়ন মো. গনি মিয়া বাবুল, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, এনডিপির মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ নেতা আ.স.ম মোস্তফা কামাল, বাংলাদেশ জাসদ নেতা হুমায়ুন কবির, সিনিয়র সাংবাদিক মিজান শাজাহান, বাংলাদেশ উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান শরিফুর রহমান, সংগঠনের সহ সভাপতি জাহানারা বেগম, সাধারণ সম্পাদক সমীর রঞ্জন দাস, দপ্তর সম্পাদক কামাল হোসেন প্রমুখ। লায়ন গনি মিয়া বাবুল বলেন, বেগম রোকেয়া বাংলাদেশের বাঙালি হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছেন বলেন, আজ আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী নারী, বিরোধী দলের নেতা নারী এবং স্পিকার নারীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নারীর অগ্রাধিকার হয়েছে। তাই আমরা নারীকে আরো উন্নত শিক্ষার আওতায় নিতে চাই। আর যদি এই কাজটি আমরা করতে পারি তাহলেই বেগম রোকেয়াকে সঠিক সম্মান দেখানো হবে।

গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরস্মরণীয়। সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না পেলেও বাড়িতে বড় ভাইদের সহায়তায় পড়ালেখার সুযোগ লাভ করেন। শুধু তাই নয়, সাহিত্য চর্চা করার যথেষ্ঠ উপযুক্ত পরিবেশও বেগম রোকেয়া ছোটবেলা থেকেই পেয়েছিলেন। আর তাই সামাজিক পশ্চাৎপদতা আর কুসংস্কারের বিরুদ্ধে, নারী সমাজের বহুমাত্রিক অধিকার আদায় ও নারী শিক্ষার পথ নির্দেশক হতে পেরেছিলেন বেগম রোকেয়া। নানা প্রতিবন্ধকতাকে অগ্রাহ্য করে তিনি এই প্রতিষ্ঠানটিকে সে যুগের মুসলমান মেয়েদের শিক্ষা লাভের অন্যতম বিদ্যাপীঠে পরিণত করেন। এ যেন ছিল তার স্বপ্নের বাস্তবায়ন।

তিনি আরো বলেন, বেগম রোকেয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েছেন রোকেয়ার সম-সাময়িক ও রোকেয়া পরবর্তী নারী সমাজ। কিন্তু আজও যখন দেখি, শিক্ষিত ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন হয়েও অনেক নারী নিজের অধিকার টুকুও আদায় করতে পারছেন না, তখন ভীষণ কষ্ট হয়। নারীরা আজো মানুষ হয়ে বেড়ে উঠতে পারছে না। নারীর উপর থেকে কি অনাচার, অবিচার আদৌ বন্ধ হয়ে গেছে? বিজ্ঞাপনের নামে নারীকে নেয়া হচ্ছে পণ্য হিসাবে। গার্মেন্টস কর্মী আর গৃহকর্মীরাও কোনোভাবেই পুরুষদের হাত থেকে নিরাপদ নয়। একমাত্র পুরুষদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যই তাকে নিতে হয় নানা নিরাপদমূলক ব্যবস্থা। মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন, আজ যদি বেগম রোকেয়া বেঁচে থাকতেন তাহলে নারীর এ অবমাননায় কতো দুঃখই না পেতেন। তিনি তো চেয়েছিলেন, মেয়েরা ছোট বেলা থেকেই বড় হবে একজন মানুষের মর্যাদা নিয়ে। নিজেকে তৈরি করবে মানবিক গুণ সম্পন্ন, উচ্চতর মূল্যবোধ বিশিষ্ট, সকল প্রকার কুসংস্কার ও অন্ধ বিশ্বাস থেকে দূরে সরে আসা একজন আদর্শ মানুষ হয়ে।

সভাপতির ভাষণে এমএ জলিল বলেন, বেগম রোকেয়া যেই স্বপ্ন নিয়ে নারী জাগরণ সৃষ্টি করেছেন তার মূলে ছিল শিক্ষা। আসুন আমরা শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে নারী শিক্ষাকে বিশেষভাবে জাগরণ সৃষ্টি করি। সেই কাজটিই করেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি প্রাথমিক শিক্ষা থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত নারী শিক্ষা ফ্রি করে দিয়েছেন। সাথে সাথে আমি বলতে চাই, এই শিক্ষার মাধ্যমে ৩টি জিনিসকে অগ্রাধিকার দিতে হবে তাহলো- ভাষা শিক্ষা, এক- মাতৃভাষা বাংলাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ইংরেজি ও আরবী ভাষা শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে এবং অংকের যোগ-বিয়োগ ভাগ পূরণ শিক্ষার মাধ্যমেই জাতি পাবে নতুন দিশারী। আর আমাদের শ্রমিকরা বিদেশে গিয়ে কোনদিন নির্যাতিত-নিপীড়িত হবে না।


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.






Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta