ঐতিহাসিক হত্যাকান্ডের বিচারে স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল জরুরি’ : তুরিন আফরোজ | Nobobarta

আজ বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২০, ০৭:৩১ পূর্বাহ্ন

ঐতিহাসিক হত্যাকান্ডের বিচারে স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল জরুরি’ : তুরিন আফরোজ

ঐতিহাসিক হত্যাকান্ডের বিচারে স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল জরুরি’ : তুরিন আফরোজ

Rudra Amin Books

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধা ও সৈনিক হত্যাকান্ডর প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার বলেছেন, ঐতিহাসিক হত্যাকান্ডের বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা দেখা যায়। অনেক সময় রাজনৈতিক প্রভাবও কাজ করে। ফলে এসব হত্যাকান্ডের বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি করতে স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল জরুরি। বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ হলে মুক্তিযোদ্ধা ও সৈনিক হত্যার বিচারের দাবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন ও অভিমত প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। খালেদ মোশাররফ বীর উত্তম ট্রাস্ট এ সংবাদ সম্মেলন ও অভিমত প্রকাশ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ তাঁর বলেন, বাঙালির যেমন অনেক গর্বের ইতিহাস আছে, তেমনি অনেক লজ্জারও ইতিহাস আছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত যা কিছু হয়েছে, ইমডেননিটি আইন করে এসময়কার সবকিছুকে দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে। ফলে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরকে এর ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। যাতে কেউ বিচার করতে না পারে। পরবর্তীতে এই কালো আইনটি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে জাতীয় সংসদে বাতিল করা হয়। শুধু সংসদে নয়, আইনগতভাবেও এটিকে বাতিল করা হয়েছে। ৫ম সংশোধনীতে উচ্চ আদালত থেকে এই কালো আইনকে বাতিল করা হয়।

তিনি বলেন, ১৯৭৯ সালের কালো আইনটি বাতিলের ফলে এখন বলা যায়, সত্য উদ্ঘাটনে আর কোনো আইনগত বাধা নেই। আমি মনে করি, ঐতিহাসিক হত্যাকান্ডের বিচারের কোনো বিকল্প নেই। আমরা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার করেছি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছি। কাজেই যে ঐতিহাসিক হত্যাকান্ডগুলোর বিচার হয়নি, সেগুলোরও বিচার করতে হবে। বিচার প্রক্রিয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি যে লিটারেচারগুলো পড়েছি, গবেষণা করেছি কয়েক বছর ধরে, সেখানে দেখেছি আর এখনো দেখছি যে, বিচার প্রক্রিয়া ৩টি উপায়ে হতে পারে। তা হলো, তদন্ত কমিশন গঠন করে, ট্রুথ কমিশন গঠন করে এবং বিচারের মাধ্যমে।
তিনি আরো বলেন, জাতির দায়বদ্ধতা থেকে আমাদের সময় এসেছে সত্যকে স্বীকার করে নেয়ার। রাজনৈতিক বাস্তবতার উপর আমাদের ঐতিহাসিক বাস্তবতাকে স্থান দিতে হবে।

বোয়াফ সভাপতি কবীর চৌধুরী তন্ময় বলেন, ৪৪ বছর পর আজ আমরা বীর সেনানী খালেদ মোশাররফসহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধা ও সৈনিক হত্যার বিচারের দাবি জানাচ্ছি। এটি আমাদের জন্য লজ্জার। কারণ, ৭ নভেম্বরের মুল পরিকল্পনাকারী খুনী জিয়াউর রহমানকে হত্যার অপরাধে ১৩ জন সেনা কর্মকর্তার ফাঁসি হয়েছে। আর সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিরুদ্ধে, পাকিস্তানীভাবধারায় রাষ্ট্রকে ধ্বংসের বিরুদ্ধে যে খালেদ মোশাররফ রক্তপাতহীন প্রতিবাদ করেছে; সেই খালেদ মোশাররফ ও তাঁর সহকর্মীদের হত্যার বিচার জাতি আজও দেখতে পায়নি।

তিঁনি আরও বলেন, একটি ট্রুথ কমিশন গঠন করে খুনী জিয়ার ও কর্নেল তাহেরের ষড়যন্ত্র জাতীকে জানানো উচিত। আগামী প্রজন্মকে ইতিহাস বিকৃতি থেকে বের করতে হলে খালেদ মোশাররফসহ মুক্তিযোদ্ধা ও সকল সৈনিক হত্যার বিচার ও হত্যার নেপথ্যে যারা ষড়যন্ত্র করেছে, তাদেও মুখোশ উন্মোচন করা সময়ের দাবি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন খালেদ মোশাররফের জ্যেষ্ঠ কন্যা ও সাবেক সংসদ সদস্য মাহজাবীন খালেদ। তিনি বলেন, আপনারা জানেন, কোন পরিস্থিতিতে কারা, কার ইঙ্গিতে মুক্তিযুদ্ধের লড়াকু সৈনিক খালেদ মোশাররফ বীর উত্তমকে হত্যা করে। খালেদ মোশাররফ কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত ছিলেন না। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের শায়েস্তা করে সেনাবাহিনীতে চেইন অব কমান্ড ফিরিয়ে আনাই ছিল তার লক্ষ্য।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে একজন বিচার বঞ্চিত ভুক্তভোগী, ২১টি বছর যাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে বিচার শুরু করতে, ৩৪ বছর লেগেছে বিচারের রায় কার্যকর করতে। যিনি বিশ্বাস করেন, বিচার চাওয়ার অধিকার সবারই রয়েছে। যিনি বহু চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এবং দেশীয়-আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় নিয়ে এসে জাতিকে কিছুটা হলেও কলঙ্কমুক্ত করেছেন। যিনি শত বাধা পেরিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছেন। তিনি নিশ্চয়ই মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানীদের বিচারের ব্যবস্থা করবেন, সেই আশাই করছি। সংবাদ সম্মেলনে অভিমত প্রকাশ করেন সাবেক তথ্য সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা আবু ওসমান চৌধুরীর কন্যা নাসিমা ওসমান প্রমুখ।


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.






Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta