অসচেতনতা ডেকে আনতে পারে ভয়াবহ বিপদ | Nobobarta

আজ মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০, ১০:৪৮ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
বস্তিতে ভরা দুপুরে কন্ঠশিল্পী নয়ন দয়া ও হাজী আরমান ৬৫ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেবে সিসিক ভালুকায় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করলেন সাদিকুর রহমান ঝালকাঠি করোনা প্রতিরোধে রক্ত কণিকা ফাউন্ডেশন জীবাণুনাশক স্প্রে করোনাঃ দুস্থদের খাদ্য দিলো কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রলীগ সিরাজদিখানে দেড় হাজার পরিবারের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ রাজাপুরে সাইদুর রহমান এডুকেশন ওয়েল ফেয়ার ট্রাষ্ট’র হতদারিদ্রদের মাঝে ত্রান বিতরণ রাজাপুরে পল্লী বিদ্যুত সমিতির গরীব মানুষদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ রাজাপুরে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করলেন ইউপি সদস্য নিজেরা নিয়ন্ত্রন না হলে বিপদে পরতে হবে
অসচেতনতা ডেকে আনতে পারে ভয়াবহ বিপদ
কোয়ারেন্টাইন বিষয়ে

অসচেতনতা ডেকে আনতে পারে ভয়াবহ বিপদ

Rudra Amin Books

-সফিউল্লাহ আনসারী-

কোয়ারেন্টাইন বিষয়ে অসচেতনতা ডেকে আনাতে পারে ভয়াবহ বিপদ। হোম কোয়ারিন্টাইন বিষয়ে সচেতন হোন সাবধান থাকুন। সুফল আসবেই। বিশ্বজুড়ে একটি অচেনা ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় দু‘শোর কাছাকাছি দেশ এই মরনব্যাধি মোকাবেলায় হিমশিক খাচ্ছে। বাংলাদেশেও বিদেশ ফেরতদের মাধ্যমে ইতমধ্যে বেশ কয়েকজন আক্রান্ত হয়েছে, মারা গেছেন তিনজন। বিপুল জনসংখ্যার দেশ আমার মাতৃভুমি আজ মহামারি করোনায় উদ্বেগ উৎকন্ঠায়। সহজ সরল মানুষগুলো তেমন সচেতনতার ধার ধারেনা, কিন্তু গাফিলতি বাদ দিয়ে জানতে হবে মানতে হবে। রাষ্ট্র এবং সরকার বিশেষ ব্যাবস্থা গ্রহন করতে পিছপা হচ্ছেনা। কিন্তু অসচেতনতার কারনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বিদেশ থেকে সদ্য দেশে আসা ব্যক্তিরা কোয়রেন্টাইনে না থাকা বা সঠিক নিয়নে নির্দেশনা না মানায় ভয়ের কারন হয়ে দাড়াচ্ছে। হোম কোয়ারেন্টাইন না করলে কতোটা ভয়াবহ পরিবেশ তৈরী হতে পারে তা বলার আপেক্ষা রাখেনা। কষ্ট হলেও হোম কোয়ারেন্টাইন অতিব জরুরী। পৃথিবিতে করোনা আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন দেশগুলোতে এই ভাইরাস রোধে কোয়ারেন্টাইন ও হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে জোড় দিয়ে বলা হচ্ছে এবং বাধ্য করা হচ্ছে। দেশেও স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় বিদেশ ফেরত ও তাদের সংস্পর্সে আসা ব্যক্তিদের হোম কোয়ারেন্টাইনের বিষয়ে দিক নির্দেশনা দিয়েছে। যা দেশ জুড়েই কার্যকরি, কিন্ত গাফিলতি আর অজ্ঞতার বশে মানছে ক‘জন?

ইতমধ্যে বেশ কয়েকজনকে জরিমানা গুনতে হয়েছে। মানবতার চরম আতংক আর দুর্দিন নিজের একটু কষ্ট হলেও নিজের পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র তথা বিশাল জনগোষ্টির সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে নিজের বিবেকে জাগ্রত করে হোম কোয়ারেন্টাইন থাকাটা জরুরী।

হোম কোয়ারেন্টাইন একটু সদিচ্ছাটা যথেষ্ট- মাত্র ১৪ দিনের জন্য পরিবারের অন্যদের থেকে আলাদা থাকা, আলাদা গোসল, বিনোদন, দুগ্ধপানের জন্য মায়েরা মাস্ক পরিধান, পশুপাখি থেকে দুরত্ব, কাশি-হাঁচির সময় মুখ ঢেকে রাখা, হাল্কা ব্যায়াম, বাইরের কাউকে বাড়িতে ডেকে না আনা, জ্বর-কাশি বাড়লে আইইডিসিআরে যোগাযোগ করা। নিজের ভালোর জন্য অন্যদের সরক্ষা দিতে এইটুকু কষ্ট করতেই হবে।
প্রতিষেধক বা ঔষধে সরাসরি চিকিৎসা না থাকলেও সচেতনতা, সাবধানতা, সন্দেহভাজনদের হোম কোয়ারেন্টাইন করোনার বিস্তার রোধে সহায়ক
ভুমিকা রাখতে পারে। জনসচেতনতায় ও প্রাথমিক চিকিৎসায় চিনসহ
অনেক দেশ ও এলাকা ভাইরাসমুক্ত রাখা যাচ্ছে, নয়তো আরও ব্যাপকতা দেখা দিত। তাই সকল দেশ তাদের নাগরিকদের করোনার হাত থেকে বাঁচাতে আপাতত কিছু নিয়ম, বিদেশ ফেরতরা হোম কোয়ারেন্টাইন ( স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরাও নিজেদেরকে বাড়িতে অবস্থান রাখতে পারেন, যার সুফল পাওয়া যাবে) ও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা মেনে চলছে এবং জনগনকে মানতে বলছে। স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা দিনরাত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন করোনা প্রতিরোধ ও প্রতিকারের প্রতিষেধক-ঔষধ আবিষ্কার করতে।

প্রতিষেধক ও ঔষধ আবিষ্কারের আগে সেই অবধি আমাদের সুরক্ষায়, নিজেদের বাঁচাতে স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা অবশ্যই মানতে হবে। সচেতন হোন, সাবধান থাকুন বিশেষ করে বিদেশ ফেরত ও তাদের সহচর্যে আসা ব্যক্তিরা। দেশে এর আক্রমন আমাদের মতো অসচেতন-গাফিলতিতে অভ্যস্ত জনগনের জন্য চরম আতংক আর মৃত্যুর ঝুঁকির কারন করোনা মোকাবিলায়, আসুন নিজে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকি সন্দেহভাজনদের বুঝিয়ে-
শুনিয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখি প্রয়োজনে প্রশাসনের সহযোগীতায় থাকতে বাধ্য করি। আতংকিত ও অবাধ্য না হয়ে, গুজবে কান না দিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের দিক নির্দেশনা মোতাবেক সচেতন হয়ে সাবধানতা অবলম্ভন করি।

অন্যান্য দেশের মতো নেয়া সময়োপযোগী ব্যবস্থাগুলোর বাস্তবায়ন করা, প্রশাসনের আরো কঠোর হওয়া, করোনা আক্রান্ত দেশ থেকে লোক গমনে অনুৎসাহিত করা, এলেও স্বেচ্ছায় গৃহবন্দি থাকার বিষয়ে উৎসাহি করা।
মানুষের সাময়িক সমস্যা হলেও হোম কোয়ারেন্টাইন মানা বাধ্যতামুলক করতে সকল ধরনের ব্যবস্থা গ্রহন অতিব জরুরী। হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে রাষ্ট্র আর প্রশাসনের চেয়ে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখতে পারে তার পরিবার। পরিবারের সদস্যরা কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যাক্তির ঘরে থাকা নিশ্চত করতে সবচেয়ে বড় ভুমিকা রাখতে পারেন। কারন করোনা এখন বলা যায় অপ্রতিরোধ্য বৈশ্বিক সমস্যা, নিদিষ্ট কোন দেশ বা অঞ্চলের নয়। প্রয়োজনে হোম কোয়ারেন্টাইন ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করতে হবে।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন আর ‘আতংকিত না হয়ে আরও বেশী সচেতন হোন, সাবধান হোন’ বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিরা ব্যাপকভাবে কাযকরি ভুমিকা পালন করতে পারেন। করোনা মোকাবিলার এই কঠিন যুদ্ধে নিজেকে সম্পৃক্ত করুন, পাশের জনকে উৎসাহিত করতে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করার এখনই সময়।
বিশেষ করে এনজিওগুলোকে করোনা মোকাবিলায় সরকারি নির্দেশ দিয়ে তাদের কর্মীদের প্রয়োজনীয় সচেতনতামুলক প্রশিক্ষন, স্যানিটাইজার, মাস্কসহ পাড়া-মহল্লায় সেবাদানে নিয়োগ করা দরকার। কারন দেশের প্রায় সব এলাকাতেই দেশী-বিদেশী এনজিও সমাজসেবামুলক কাজ আগে থেকেই করছে। তাদের কর্মীদের পুর্ব ধারনা রয়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকাতে কোন কোন বাড়ির লোকজন বিদেশে থাকেন, বিদেশ ফেরত এসেছেন, কোন পরিবার কতোটা স্বচ্ছল বা অস্বচ্ছল। সে অনুযার্য়ি তারা দ্রুুত ব্যাবস্থা নিতে এবং প্রশাসনকে সহায়তা করতে পারবে। কোয়ারেন্টাইনের বিষয়েও এনজিও কর্মীরা সচেতন করে তুলতে ব্যাপক সহায়ক ভুমিকা রাখতে পারেন।

বিদেশ ফেরত নাগরিকদের বুঝাতে হতে তারা যেমন করে বিদেশ থেকে টাকা আয় করে রেমিটেন্স বাড়াতে সাহায্য করছে তেমনি আমাদের ছোট্ট এই দেশটি, দেশের মানুষগুলো সুস্থ থাকার জন্য ভালো থাকার জন্য করোনার মতো মহামারি থেকে রক্ষা পেতে তাদের আরও একটু কষ্ট করতে হবে। হোম কোয়ারেন্টাইনে জীবন বাঁচাতে প্রবাসীদের সচেতনামুলক প্রচারনা কাজে আসবে বলে আশাবাদী। কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বা তার প্রয়োজন মেটানোর ব্যবস্থাও রাখা দরকার। সরকারের নির্দেশ, স্বাস্থ্য বিভাগের দিক নির্দেশনা, আমার আপনার সচেতনতা-সাবধানতাই করোনা বিস্তার রোধে সবচেয়ে কার্যকরি ভুমিকা রাখতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপুর্ণ কথা হচ্ছে- হোম কোয়ারেন্টাইনের ১৪দিন পর যেনো কেউ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বাড়ি থেকে বের না হন, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। ইতিমধ্যে সরকার, স্কুল-কলেজ-মাদরাসা, সরকারি-আধাসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষনা করেছে। বিভিন্ন মহাসড়কে বাস চলাচলে বিধি নিষেধ আরোপসহ নানান পদক্ষেপ নিয়েছে।

মাইকিং করে আরও বেশী জনগনের কানে করোনা সচেতনতানা পৌছে দিতে ইউনিয়ন পরিষদ গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখবে। পাশাপাশি হোম কোয়ানেন্টাইনে থাকতে মাইকে, মসজিদের বয়ানে, মসজিদের আজানের পূর্বে ঘোষনা বেশ কাজে আসবে। সরকার মসজিদের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিলে আরও আক্রান্ত হওয়ার আশংকা কমে আসবে। মসজিদগুলোতে ওজুর পর একই গামছা বহুজনে ব্যবহার জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে নিষেদ করা দরকার। কারখানা সমৃদ্ধ এলাকাগুলো কর্মরত শ্রমিক ছাড়া বহিরাগতদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ, প্রয়োজনে অতিরিক্ত পুলিশ টহলে থাকলে মঙ্গলজনক হবে। কারখানা বন্ধেও দ্রুত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন, সাথে সাথে শ্রমিকদের বেতন বন্ধের সময়ও যেনো অব্যহত থাকে তার নির্দেশনা আশাটাও জরুরী। শহর ও গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষদেরকে আর্থিকভবে সহায়তার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে সরকার বিবেচনা করবে বলে আমরা আশাবাদি। সর্বোপরি বিদেশ ফেরতসহ দেশের সকল পর্যায়ের জনগনকে ঘরে অবস্থান করতে সরকারি নির্দেশনা শীঘ্রই দরকার। যেহেতু প্রায় সকল অফিস-আাদালত বন্ধ তাই হোম কোয়ারেন্টাইন/ঘর-বাড়ি- বাসাতে অবস্থান সহজ। সচেতন নাগরিক মাত্রই করোনা মোকাবিলায় এগিয়ে আসা জরুরী।

করোনা মোকাবিলায় আসুন একটু কষ্ট-ত্যাগ স্বীকার করি, যার যার অবস্থান থেকে কাজ করি। সন্দেহভাজনদের হোম কোয়ারেন্টাই ও সাধারন জনগনের বাসা-বাড়িতে অবস্থান ব্যবস্থার দুর্বলতায় যেনো বিপদ ডেকে না আনে, সেদিকে কঠোরভাবে খেয়াল রাখতে হবে, এটা নিজের জন্য, নিজের স্বজনদের জন্য, মানবতার জন্য।

#সফিউল্লাহ আনসারী
সম্পাদক-সংগঠক


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.






Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta