আজ সোমবার, ১৭ Jun ২০১৯, ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন

টক, ঝাল, মিষ্টি হল জীবন…

টক, ঝাল, মিষ্টি হল জীবন…

  • 125
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
    125
    Shares

আব্দুর রহিম : বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের হল জীবন হাসি-কান্নামাখা জীবনের গল্পের সমষ্টি। গল্প-আড্ডা-গানে মেতে থাকার আনন্দঘন মুহূর্ত, সিনিয়র-জুনিয়র মিলে একসঙ্গে রাত জেগে আড্ডা দেয়া, ছাদে বৃষ্টিতে ভেজা, রাতের জ্যোৎস্না উপভোগ করা, বন্ধুরা মিলে হঠাৎ ঘুরতে যাওয়ার গল্প। আবার সকল বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে নিজ জীবনের লক্ষ্য অর্জনের পরিকল্পনার কথা।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে যারা হলে থাকে না তাদের মধ্যে এক ধরনের অপূর্ণতা থেকেই যায়। কেননা হলে থাকলে সব ধরনের মানুষের সাথে পরিচিত হওয়া যায়, ধনী-গরিব, সাদা-কালো, উঁচু-নিচু সবার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে থাকতে হয়। বিভিন্ন অঞ্চলের বন্ধুদের সাথে মিশে, তাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানা যায়। হল জীবনের এই অভিজ্ঞতা কর্মজীবনে অনেক উপকারে আসে।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে হলে উঠার জন্য প্রথম বর্ষই উপযুক্ত সময়। কেননা এ সময়ে নবীন শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের সবকিছুর সঙ্গে খুব সহজেই মানিয়ে নিতে পারেন। যদিও প্রথম বর্ষে হলে সিট পাওয়া খুব কঠিন, তাই অধিকাংশ নবীন শিক্ষার্থীকে গণরুমেই থাকতে হয়। এ গণরুমে থাকার অভিজ্ঞতা সত্যি অসাধারণ। ক্লাসের বাইরে গণরুমেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুগভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। এক রুমে একসঙ্গে এতগুলো ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যে মিথস্ক্রিয়া গড়ে ওঠে, তা পড়াশোনার নতুন পরিবেশকে খুব স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপক আনন্দময় করে তোলে আর গণরুমে যে বন্ধুত্ব হয়, তা পুরো ক্যাম্পাস জীবনেই টিকে থাকে। এমনকি দ্বিতীয় বর্ষে সিট পাওয়ার পর গণরুমের সবাই ভিন্ন ভিন্ন রুমে চলে গেলেও গণরুমের স্মৃতিটা মনের মধ্যে গেঁথে থাকে, তাই গণরুম ছেড়ে চলে আসার পরও অনেকেই গিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেন ও তাদের গণরুমে থাকার অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর অনেক শিক্ষার্থীর ‘হল’ জীবন আবার হরেক রকমের। টিভিরুমে প্রিয় দলের খেলা, হৈহুল্লোড়, খেলা শেষে আনন্দ মিছিলও করা হয় অনেক সময়। সে এক অন্যরকম অনুভূতি- ভাষা দিয়ে বুঝানো সম্ভব নয়। আর খেলা শেষে বিশ্লেষকের কোন অভাব হয় না। এই নিয়ে চলে অফুরন্ত আড্ডা। কমনরুমে রয়েছে ইনডোর খেলার নানা সামগ্রী। টেবিল টেনিস, ক্যারাম, দাবা, লুডু খেলায় মেতে থাকে ছাত্রীরা।বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিস্টার সিস্টেম চালু থাকলে তো পড়াশোনার চাপ আরো অনেক বেশি থাকে। সেই সঙ্গে থাকে প্রাকটিক্যাল, নোট, অ্যাসাইনমেন্ট- যা ছাত্রদের ব্যস্ততা আরও কত কি!

তারপরও আড্ডা গল্পের বিন্দুমাত্র কমতি নেই হলে। একবার শুরু হলে তা আর শেষ হবার নয়। মধুময় এ সময়গুলো খুবই মজাদার এবং কখনই ভুলবার নয়। যত গভীর রাতেই ঘুমাক না কেন সকাল ৮টায় চোখ মুছতে মুছতে সবাই ক্লাসে যায় ঠিকই।

হল জীবনের আরও একটি উপভোগ করার মতো বিষয় হলো ফ্লোর ফিস্ট, এতে অনেক আনন্দ, আড্ডা, নাচ-গান, বিকালে শাড়ি পরে ঘুরতে বের হওয়া, সন্ধ্যায় প্রতিযোগিতায় খেলা, মজার মজার খাবার খাওয়া, সবকিছু মিলে অতুলনীয়। এছাড়া হলে বিভিন্ন ধরনের মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করার সুযোগ হয়- খুব ভাল, খুব মন্দ, ধার্মিক, উচ্ছৃঙ্খল, আধুনিক, রাগী, বাঁচাল আরও যে কত ধরনের! হলের কোন ফ্রেন্ডের জন্মদিন পালন করা হয় খুব মজা করে। তাকে না জানিয়ে সবকিছু আয়োজন করে ঠিক রাত ১২.০১ মিনিটে সবাই মিলে হাজির হয় তার রুমে। তারপর হৈহুল্লোড় করে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানো, কেক কাটা, আনন্দ-উল্লাস করা হয়।

প্রতিদিনেই ক্লাস শেষ করে একটু বিশ্রাম নিয়ে প্রায় চলে আড্ডা। হল জীবন শেষ হওয়ার পর সেই আড্ডার কথা খুব মনে পড়ে সবার। আড্ডায় যেসব বন্ধুরা থাকে তারা কর্মজীবনে সবাই কর্মব্যস্ত। তখন আর কেউ বলে না ‘চল চা খেয়ে আসি’ কর্মজীবনে সবাই সবার মতো ব্যস্ত-কেউ কারও দেখা পায় না, আড্ডা দেয় না।তখন শুধু মনে পড়ে ‘কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই।’

বিকেলে পার্ক ক্যান্টিনে নুডুলস খাওয়া, টিভিকক্ষে বন্ধুদের সাথে খেলা দেখা, রাতে হলের ছাদে বসে গিটার বাজানো, রাত জেগে গল্প করা, রুমমেটদের সাথে রান্না করা এই স্মৃতিগুলো স্মরণীয় হয়ে থাকে পুরো জীবনে।

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন




Leave a Reply

কে এই যুবক? টিস্যু দিয়ে বঙ্গবন্ধুর বিকৃত ছবি পরিস্কার করছে



© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com