আজ সোমবার, ২৪ Jun ২০১৯, ০৮:১০ অপরাহ্ন

দখল দূষণে ছাত্র রাজনীতি : মাহমুদুল হক আনসারী

দখল দূষণে ছাত্র রাজনীতি : মাহমুদুল হক আনসারী

Mahmudul Hoque Ansari

  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
    2
    Shares

ছাত্র আর রাজনীতি দুটোই পবিত্র বিষয়। ছাএের প্রথম কাজ ছাএত্বের দায়িত্ব পালন করা। লেখাপড়া, ক্লাস ও নিরাপদে শিক্ষাবর্ষ সমাপ্ত করা। ছাএের মৌলিক দায়িত্ব নির্দিষ্ট বিষয় ও সেশন শেষ করা। শিক্ষার সাথে সামাজিক সৃজনশীলতামূলক কর্মকান্ড ক্লাব, সংগঠন, খেলাধুলার সাথে নিজ প্রয়োজন ও সামাজিক দায়বদ্ধতায় কিছু সময় অতিবাহিত করা যায়। বাস্তবে একজন শিক্ষার্থীর মূল দায়িত্ব হলো নির্দিষ্ট কøাস ও শেসন শেষ করা।

একজন ছাত্রের নিজের নিরাপদ শিক্ষার জন্য যেরকম ক্যাম্পাস চায়, অনুরূপ অপর সতীর্থের জন্য সেরকম হওয়া চাই। একজন নিরাপদ অপরজন অনিরাপদ তেমন ধরনের বিদ্যাপীঠ কাম্য নয়। ছাএদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, ভালোবাসা, শৃংখলাবোধ থাকতে হবে। একে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা ও স্নেহবোধ থাকাটা একটা ক্যাম্পাসের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাপ্রতিষ্টানের অন্যতম দায়িত্ব হলো শিক্ষার সার্বিক পরিস্থিতি বজায় রাখা। ছাএছাএী সতীর্থদের মধ্যে শৃংখলাবোধ প্রতিষ্টা করা।

এটাও বিদ্যাপীঠ ও প্রতিষ্টানের অন্য্রতম দায়িত্ব। সমাজ বাস্তবে কী দেখতে পাচ্ছে? আমাদের ছাএ প্রজন্ম কোথায় গিয়ে দাড়াচ্ছে? শিক্ষাদীক্ষায় বিজ্ঞান গবেষণায় পৃথিবী যখন ঘন্টায় ঘন্টায় নতুন নতুন আবিষ্কারের দিকে যাচ্ছে, তখন আমাদের মতো দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ক্ষুধা দারিদ্র শিক্ষায় পিছিয়ে থাকা জাতি কোনদিকে যাচ্ছি! ভাবতে অবাক লাগে, স্বাধীনতার পর এ জাতির অনেক কিছু আশা ও স্বপ্ন ছিল। বাস্তবে আশা স্বপ্ন বাস্তবায়নে অসংখ্য বাধাঁ রাজনীতির মারপ্যাঁেচ। দেশ স্বাধীন হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লক্ষ মা বোনের তাজা রক্ত আর সম্ভ্রমের বিনিময়ে। তরুণ যুবক যুবতী তাদের তাজা রক্ত ঢেলেছিলো সেদিন। বুক ভরা আশা আর হাজার স্বপ্ন ছিলো সেদিন তাদের চোঁখে মুখে। স্বাধীনতার ৪৮ বছরের বাংলাদেশ নানাভাবে নানাক্ষেএে সফলতা অর্জন করলেও মানবীয় গুণে শিক্ষা, সমাজ, ক্যাম্পাস গড়ে উঠতে পারে নি।

প্রশাসনের লাগামহীন দুর্নীতির সাথে শিক্ষার নীতি নৈতিকতা পর্যদস্ত। প্রাতিষ্টানিক শিক্ষায় শিশু থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত কোথাও শৃংখলা দেখছে না সমাজ। শিক্ষাকেন্দ্রিক প্রতিষ্টান বেপরোয়া। স্বাধীনতার পর থেকে অদ্যাবধি শিক্ষা প্রতিষ্টানগুলোকে কোনোভাবেই শৃংখলাপূর্ণ পরিবেশে আনা যাচ্ছে না। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ছাএ রাজনীতির একটা গৌরবউজ্জল অধ্যায় থাকলেও কিন্তু সে ইতিহাস এখন ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যাচ্ছে। দেশের অন্যান্য সেক্টরের সাথে ছাএ রাজনীতি কলুষিত হয়ে পড়ছে। ছাএ যৌবনকে ব্যবহার করে একটি অশুভ শক্তি ক্ষমতার প্লাটফর্ম পরিবর্তন চায়। ছাএকে ক্ষমতায় উঠার অথবা ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত করার অস্্র্ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। যা অভিভাবক ও সমাজের জন্য উদ্বিগ্নের কারণ। ছাএ সমাজ তাদের ভালো মন্দ বুঝতে পারে না, পারে না বলেই এ শক্তিকে ব্যবহার করে অশুভ শক্তি তাদের হীন উদ্দেশ্য হাসিল করে। দেশী-বিদেশী এসব ষড়যন্ত্রে শিকার দেশের গোটা শিক্ষা সমাজ। এদেশের রাজনীতি ও শিক্ষা প্রতিষ্টানে ধারাবাহিকভাবেই লেগে রেখেছে বিশৃংখলা ও মারামারি। রাজনীতি, শিক্ষা প্রতিষ্টান কোথাও শৃংখলা মিলছে না।

অস্থিরতা যেমনি রাজনৈতিক অঙ্গনে তেমনিভাবে দেশের সবগুলো উচ্চশিক্ষা ক্যাম্পাসে দখল ও ছাএদের শিক্ষা হননে ওই শক্তি লেগে আছে। ফলে সতীর্থ ছাএ সংগঠনের মধ্যে হানাহানি, বিভাজন, মারামারি নিত্য দিনের সঙ্গী। সেখানে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও ছাএদের পবিএ জীবন ও জীবনহানির আশঙ্কা থাকছে। শিক্ষার্থীরা এসব প্রতিষ্টানে কখনো নিরাপদ থাকছে না। তাদের থাকতে দিচ্ছে না। রাজনীতির মোড়লবাজ, ধান্ধাবাজ তথাকথিত নেতারা ক্ষমতার সিড়ি ধরে রাখার জন্য ছাএ সমাজকে ব্যবহার করে। দুর্ভাগ্য ও দু:খজনকভাবে বলতে হয় প্রতিবেশী দেশের কোথাও ছাএ রাজনীতি চোখে পড়ে না। আমাদের ছোটদেশ, গরিবদেশ, সে অপছাএ রাজনীতির শিকার। এদেশের খেটে খাওয়া শ্রমজীবি দু:খী কৃষক, মেহনতি মানুষের সন্তানরা শিক্ষার্জনের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়ে মাতা পিতার নিকট লাশ অথবা পঙ্গু হয়ে ফিরে আসে।

মর্মান্তিক এসব ক্যাম্পাস দৃশ্য আর দেখতে ভালো লাগে না। দেশের সবগুলো সেক্টরের উন্নয়ন অগ্রগতি দৃশ্যমান হলেও ছাএ রাজনীতির কোনো আমূল পরিবর্তন দেখছি না। সঠিক ভাবে বেড়ে উঠার জন্য যদি ছাএ রাজনীতি হয় তাহলে কোনো কথা নেই। যদি দেশের শাসনের জন্য দুর্নীতির বিরোদ্ধে প্রতিরোধের স্প্রিড নিয়ে ছাএ রাজনীতি চলতে থাকে তাহলে সেখানে আমার কোনো কথা নেই। অন্যায়, অবিচার, দুর্নীতি, অপশাসনের বিরোদ্ধে ছাএ আন্দোলন সেটার প্রতি সাধুবাদ আছে। কিন্তু ‘ যখনি দেখি ছাএ রাজনীতিকে ব্যবহার করছে অশুভ শক্তি ক্ষমতা দখলের জন্য অথবা খাসজমি, পাহাড় টিলা, নদী খাল চর ক্যাম্পাস দখলের জন্য তখন আর কোনো অভিভাবক স্থির থাকতে পারে না। সাম্প্রতিক চট্টগ্রামের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে সতীর্থ ছাএসংগঠনের মধ্যে যেসব রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ সংঘটিত হচ্ছে, এসব কার্যকলাপে অভিভাবক ও সমাজ মারাত্মকভাবে উদ্বিগ্ন না হয়ে পারছে না। কারণ বলতে গেলে এখন ক্ষমতাসীন ছাএ সংগঠনি ক্যাম্পাসে সক্রিয়।

অন্যরা গাঁ ঢাকা দিয়ে আছে। বিরোধী রাজনীতি তাদের মত প্রকাশ ও গণতাএিক প্রক্রিয়ায় সভা সমাবেশ করতে অনেকটা বাঁধা প্রাপ্ত হচ্ছে। এ সময় স্বাধীনভাবে সবখানেই বিচরণ ও সভা সমাবেশ ক্ষমতাসীন সমর্থনরাই করে যাচ্ছে। তাদেরকে অন্যকোনো বিরোধী প্রতিপক্ষ বাঁধাও দিচ্ছে না। তবুও তারা নিজেদের মধ্যে অন্ত:কোন্দলে প্রতিদিন কোনো না কোনো প্রতিষ্টানে সংঘাত সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। এসবের জন্য তাদের নেতারাই দায়ী, সেটাই মনে করছে সচেতন মহল। ছাএ রাজনীতি আমাদের মতো দেশে ক্ষমতায় উঠানামার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। সেটা দেশ, জাতি, অভিভাবক কারো জন্য সুখকর নয়। জাতি এ ধরনের রাজনীতি থেকে ছাএ সমাজের নিরাপদ শিক্ষা ও ক্যাম্পাস প্রত্যাশা করে।

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন




Leave a Reply

কে এই যুবক? টিস্যু দিয়ে বঙ্গবন্ধুর বিকৃত ছবি পরিস্কার করছে



© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com