আজ বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ০১:১২ অপরাহ্ন

উন্নয়ন অগ্রগতিতে কর্মসংস্থানের বিকল্প নেই : মাহমুদুল হক আনসারী

উন্নয়ন অগ্রগতিতে কর্মসংস্থানের বিকল্প নেই : মাহমুদুল হক আনসারী

Mahmudul Hoque Ansari

  • 4
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
    4
    Shares

দেশে সবগুলো সেক্টরে উন্নয়ন হচ্ছে। এখানে উন্নয়ন অগ্রগতির দুর্নীতির কথা না বললেও টেকসই উন্নয়নের কথা বলতে হয়। উন্নয়নের সাথে অপচয় কম হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় উন্নয়ন অপ্রয়োজনীয় অপচয়ের মাধ্যমে বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা নষ্ট হচ্ছে। উন্নয়ন কাজের অর্থ ভাগ ভাটোয়ারা হয়ে অনেকেই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে।

দলীয় ও রাজনৈতিক চিন্তা চেতনায় টেন্ডার ও মানহীনভাবে উন্নয়ন কাজ করতে দেখা যায়। রাষ্ট্রীয় অর্থ যেনতেনভাবে খরচ করার একটা নিয়ম দেখা যাচ্ছে। শিক্ষায় অগ্রগতি সেটাও জাতীয় একটি বিষয়। বলা বাহুল্য দেশে এখন শিক্ষার বিপ্লব ঘটছে। প্রতিবছর শিক্ষার হার বাড়ছে। প্রাথমিক শিক্ষা থেকে উচ্চশিক্ষা পয্র্ন্ত এখন প্রচুর সংখ্যক ছাএছাএীর অংশগ্রহণ দেখা যায়।

প্রতিবছর হাজার হাজার উচ্চশিক্ষিত ছাএছাএী ডিগ্রি নিয়ে বের হচ্ছে। শিক্ষায় গণ বিপ্লব অর্জিত হলেও এক্ষেএে আদর্শিক ও মানসম্পন্ন শিক্ষার অভাব ফুটে উঠছে। আবার কর্মসংস্থান ক্রমান্বয়ে ছোট হয়ে আসছে। শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত লাখ লাখ বেকার করুণ সময় পার করছে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা আগ্রাসীভাবে বাড়ছে। এর পাশাপাশি রয়েছে বিপরীত চিএ। দক্ষ কর্মীর অভাবও দেশে প্রকট। যে অভাব পূরণে দেশি বা বহুজাতিক প্রতিষ্টানগুলোয় হাজার হাজার বিদেশি কাজ করছেন। দক্ষ লোকের অভাব থাকায় উদ্যোক্তারা বিদেশি কর্মীদের উপর ভরসা করতে বাধ্য হচ্ছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৬টি দেশের নাগরিকরা এক বছরে বৈধ উপায়ে প্রবাসী আয় বা রেমিটেন্স হিসেবে বাংলাদেশ থেকে নিয়ে গেছেন ২০১ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশী মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৬ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা।

বিপুল এই অর্থের সবচেয়ে বেশি গেছে চীন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও ভিয়েতনামে। বাংলাদেশে বর্তমানে কমবেশী প্রায় ১০ লাখ বিদেশী নাগরিক কাজ করছেন। আর আর্থিক খাত সংশ্লিষ্টদের মতে বৈধ পথের বাইরে প্রতি বছর প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে রেমিটেন্স হিসেবে চলে যাচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বাইরে চলে যাওয়ার হার ও পরিমাণ প্রতিবছরই বাড়ছে। কারণ প্রতিদিন গড়ে বাংলাদেশে আসা ৮ হাজার বিদেশী নাগরিকের প্রায় অর্ধেকই দীর্ঘমেয়াদে অর্থ উপার্জনের সঙ্গে জড়িত হচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন বেসরকারি প্রতিষ্টানগুলোর শীর্ষস্থানীয় পদগুলো চলে যাচ্ছে বিদেশীদের দখলে, তেমনি বাংলাদেশের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা চলে যাচ্ছে সীমানার বাইরে। সরকার বেকারত্ব দূরীকরণকে চ্য্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে এবং আগামী পাঁচ বছরে দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতিও দেয়া হয়েছে সরকারের নীতি নির্ধারকদের পক্ষ থেকে। তবে এ সংক্রান্ত কর্মপরিকল্পনা কতটা জুতসই তা সংশয়ের উর্ধ্বে নয়। পূর্ণাঙ্গ কর্মসংস্থান নীতিমালা ছাড়া এক্ষেএে কতটা সফল হওয়া যাবে তাও ভাবার বিষয়। প্রতিবছর যে পরিমাণ শ্রমশক্তি যুক্ত হচ্ছে কর্মসংস্থানের বাজারে, তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশকে বেকার থাকতে হচ্ছে। দেশে বেকারের সংখ্যা এখন ২৬ লাখ ৮০ হাজার। যা মোট জনসংখ্যার দেড় শতাংশেরও বেশি।

বাংলাদেশের মোট বেকার সংখ্যা বিশ্বের বহু দেশের জনসংখ্যার চেয়ে বেশি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর শ্রমশক্তি জরিপে বেকারত্ব বৃদ্ধির জানান দিয়ে বলা হয়েছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে ১৪ লাখ শ্রমশক্তি যুক্ত হয়েছে। কিন্তু এ সময় দেশের অভ্যন্তরে নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে মাএ ১৩ লাখ। ফলে এক বছরেই প্রায় এক লাখ বেকার বেড়েছে। সব মিলিয়ে দেশে বেকার সংখ্যা ২৬ লাখ ৮০ হাজার। বেকারত্বের হার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশে উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারের হার বাড়ছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তরুণ বেকারদের মধ্যে উচ্চশিক্ষিতদের হার ছিল ১২ দশমিক ১১ ভাগ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এই হার দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৪ ভাগে। সংখ্যার হিসাবে ৩ লাখ ৯০ হাজার তরুণ উচ্চশিক্ষিত বেকার রয়েছে যাদের বয়স ৩০ বছরের নিচে। তাদের মধ্যে ১১ দশমিক ২ ভাগ ২ বছরের বেশী সময় ধরে বেকার রয়েছেন। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী যারা সপ্তাহে অন্তত এক ঘন্টা কর্মে নিয়োজিত তারা বেকার নন। বাংলাদেশে সপ্তাহে এক ঘন্টাও কাজ করতে পারেন না এমন বেকারের সংখ্যা বেড়ে ২৬ লাখ ৮০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। প্রকৃত বেকারের সংখ্যা আরো বিশাল।

এ সংখ্যা ৪১ লাখ ৮০ হাজার বলে মনে করা হচ্ছে। দেশে উচ্চশিক্ষার হার দ্রুত বাড়লেও সে হারে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি না পাওয়ায় সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। কর্মমুখী শিক্ষার অভাবে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বহু প্রতিষ্টান যোগ্যকর্মী খুঁজে পাচ্ছেন না। বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেএে হাজার হাজার বিদেশী কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট ক্ষেএে দক্ষ কর্মীর অভার থাকার কারণে। দেশে যুব সমাজের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করছে বেকারত্বের হার দ্রুত বৃদ্ধি। উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় কম বেতনে তাদের কাজে লাগাচ্ছেন নিয়োগকারীরা। বেকারত্বের অবসানে কর্মসংস্থানের কোনো বিকল্প নেই। দেশে নতুন নতুন কলকারখানা ও শিল্প প্রতিষ্টান স্থাপন করে এ অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে হবে। স্থিতিশীলতার স্বার্থে বেকারত্ব মোচনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, বেকারত্ব কমাতে কর্মমুখী শিক্ষার ক্ষেএে সরকারকে আরো উদ্যোগী হওয়া চাই ।

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন




মন্তব্য করুন



© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com