আজ সোমবার, ২৭ মে ২০১৯, ০৩:৩৫ অপরাহ্ন

আমি গর্বিত, আমি ছাত্রলীগের কর্মী

আমি গর্বিত, আমি ছাত্রলীগের কর্মী

Rakib Hasan

  • 407
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
    407
    Shares

রাকিবুল হাসান রাকিব : বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুপ্রাজ্ঞ রাজনীতির সুদূরপ্রসারী রূপকল্প। বাঙালির অধিকার আদায়ে ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে কার্যকর তরুণ শক্তি হিসেবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জন্মলগ্ন থেকে বিনিসুতোয় সাফল্যের মালা গেঁথেছে। ছাত্রলীগ মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার আদায় করেছে। চুয়ান্নর নির্বাচনে ছাত্রলীগ কর্মীদের পরিশ্রমই ভোটের ব্যবধান বাড়িয়ে বিজয় নিশ্চিত করেছে। উনিশ শ’ বাষট্টি সালে শরিফ কমিশনের বিরুদ্ধে দুর্বার শিক্ষা আন্দোলন ও গণজোয়ার তৈরি করে ছাত্রলীগ।

ছাত্রলীগের ইতিহাস, বাঙালির ইতিহাস ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’ বাঙালি জাতির বিনির্মাণে তার শোণিতে কীভাবে মিশে আছে তা বোঝাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি বাণীই যথেষ্ট। আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আজও সেই কর্মময় দিনসমূহ জারি রেখেছে। দেশ রক্ষা ও গঠনে তারা আজও অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা রেখে চলেছে।

১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠা হওয়া এই ছাত্রলীগের বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের উন্মেষকাল মাতৃভাষা রক্ষার আন্দোলন “মহান ভাষা আন্দোলন”-এ নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে রক্তাক্ত ও সংগ্রামী যাত্রা পথের সূচনা হয়। এরপর থেকে সংগঠিত প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রলীগ তার এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সফল হয়। আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে ছাত্রলীগের গৌরবদীপ্ত ও অবিস্মরণীয় ভূমিকা আজ সর্বজনস্বীকৃত ইতিহাসের অংশ৷

১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অবদান ছাত্রলীগের ইতিহাসকে দান করেছে অনন্য বৈশিষ্ট৷ জাতির স্বাধিকার ও স্বাধীনতা আন্দোলনে ছাত্রলীগ একটি সংগঠিত প্রতিষ্ঠান হিসাবে নিজেকে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত করতে অত্যন্ত সফলভাবে সমর্থ হয়। তারুণ্যের উচ্ছল প্রাণ বন্যায় ভরপুর বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা দেশের ইতিহাসকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, লড়াই করেছেন প্রতিটি অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে। ঠিক এই কারনেই বঙ্গবন্ধু বলেছেন, ‘ছাত্রলীগের ইতিহাস বাঙালি জাতির ইতিহাস, বাংলাদেশের ইতিহাস।’

বাংলা ও বাঙালির প্রায় সাত দশকের সংগ্রাম, গৌরব ও সাহসের সারথী বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বাংলাদেশের ইতিহাস আর ঐতিহ্যের গর্বিত অংশীদার এই ছাত্র সংগঠনটি। জাতির ইতিহাসের প্রায় প্রতিটি অধ্যায়েই রয়েছে ছাত্রলীগের প্রত্যক্ষ ভূমিকা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এ দেশের মানুষকে লাল সবুজের একটি পতাকা, ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’- জাতীয় সঙ্গীত, ও স্বাধীন ভূখণ্ডের বাংলাদেশ উপহার দিয়েছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৮ হাজার নেতাকর্মী শহীদ হয়।

মেধাবী ও আধুনিক মনা ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দেশে আবারও প্রজ্জ্বলিত হবে ছাত্রলীগের গৌরব কথা, ছাত্রলীগের ঐতিহ্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামের কথা। ছাত্রলীগ মানেই গভীর দেশপ্রেম, আদর্শবোধ ও ত্যাগের মহিমায় পড়াশোনার পাশাপাশি জাতি গঠনে অনন্য সাধারণ ভূমিকা রেখে যাওয়া একটি সাহসী ছাত্র সংগঠন। যা পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে নেই। ছাত্রলীগের যে ত্যাগ, যে অর্জন তা অন্য কারো নেই। ছাত্রলীগের ইতিহাস ছাত্রলীগই। ছাত্র সমাজের নেতৃত্বদানকারী এই ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠাতালগ্ম থেকেই ছিল গৌরবদীপ্ত ও মহিমানিত্ব। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর ১৯৮১ সালে ১৭ মে দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা মায়ের মমতায় ছাত্রলীগকে সুসংগঠিত করেন, আরো গতিশীলতা দিয়েছেন, করেছেন শক্তিশালী। ছাত্রলীগের নেতৃত্ব ছাত্রদের হাতেই তুলে দিয়েছেন। অবিবাহিত নিয়মিত ছাত্ররাই এবং বয়সসীমা ২৯ বছরের নিচে যাদের তারাই নেতৃত্বে আসবেন।

ছাত্রলীগ শুধু বিরোধী দলেই নয়, মূল দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরও ছাত্রলীগ প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এবং মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়িয়েছে। ছাত্র সমাজের ন্যায্য দাবি আদায়ে জোরালো ভূমিকা রেখেছে। হলের সমস্যা নিয়ে আন্দোলনে নেমেছে। যখনই অশুভ শক্তি মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করেছে তখনই রাজপথে সক্রিয় ছিল ছাত্রলীগ।

ছাত্রলীগ মেধাবী ছাত্রদের সংগঠন। সমাজের সব স্তরেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীর বিচরণ রয়েছে। সাবেক ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের নিজস্ব মেধা ও কর্মের মাধ্যমে আজকে সমাজের বিভিন্ন স্তরে সুপ্রতিষ্ঠিত। আজকে ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন দৃঢ়তা, সততা নিষ্ঠা এবং সাহসিকতার সঙ্গে। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রশংসা করছেন বিশ্ব নেতারা। সবাই জানতে চাইছেন, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মিরাকলটা কী? কী চমক আছে জননেত্রীর নেতৃত্বে? শেখ হাসিনা ভালো থাকলেই বাংলাদেশ ভালো থাকবে। ভালো থাকবে ১৬ কোটি মানুষ-এই বিশ্বাস সমগ্র দেশবাসীর।

জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু।

রাকিবুল হাসান রাকিব, সাধারন সম্পাদক, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন




Leave a Reply

কে এই যুবক? টিস্যু দিয়ে বঙ্গবন্ধুর বিকৃত ছবি পরিস্কার করছে



Nobobarta on Twitter

© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com