আজ বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ১২:৪৫ অপরাহ্ন

আমাদের সাহিত্য বাংলা সাহিত্য : আজহার মাহমুদ

আমাদের সাহিত্য বাংলা সাহিত্য : আজহার মাহমুদ

Bangla Sahittyo

  • 9
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
    9
    Shares

সাহিত্য বলতে আমরা কোন লিখিত বিষয় বস্তুকে বুঝি। সাহিত্য শিল্পের একটি অংশ বলে বিবেচিত। আরো সুন্দর করে বলা যায়, যে লেখনিতে শিল্পের বা বুদ্ধিমত্তার আঁচ পাওয়া যায়, কিংবা যা সাধারণ লেখনি থেকে আলাদা। মোটকথা ইন্দ্রিয় দ্বারা জাগতিক বা মহাজাগতিক চিন্তা চেতনা, অনুভূতি, সৌন্দর্য্য ও শিল্পের লিখিত বা লেখকের বাস্তব জীবনের অনুভূতি হচ্ছে সাহিত্য।

ধরন অনুযায়ী সাহিত্যকে কল্পকাহিনী বা বাস্তব কাহিনী কিংবা পদ্য, গদ্য এই দুইভাগে ভাগ করা যায়। পদ্যের মধ্যে ছড়া, কবিতা ইত্যাদি, গদ্যের মধ্যে প্রবন্ধ, নিবন্ধ, গল্প, উপন্যাস ইত্যাদি শাখা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। এছাড়াও অনেকে নাটককে আলাদা প্রধান শাখা হিসাবে অন্তর্ভূক্ত করেন। নাটকের মধ্যে নাটিকা, মঞ্চনাটক ইত্যাদিকে ভুক্ত করা যায়।

এসকল বিষয়কে বাংলায় অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে সৃষ্টি হয় বাংলা সাহিত্য। অর্থাৎ বাংলা ভাষায় রচিত যেসকল সাহিত্যকর্ম রয়েছে তাকে এককথায় বাংলা সাহিত্য বলা যায়। আনুমানিক খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীর মাঝামাঝি বাংলা ভাষায় সাহিত্য রচনার সূত্রপাত হয়। খ্রিষ্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে রচিত বৌদ্ধ দোহা-সংকলন চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন। আবিষ্কারক হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আরও তিনটি গ্রন্থের সঙ্গে চর্যাগানগুলি নিয়ে সম্পাদিত গ্রন্থের নাম দেন “হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় রচিত বৌদ্ধ গান ও দোহা”। মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্য ছিল কাব্যপ্রধান। হিন্দুধর্ম, ইসলাম ও বাংলার লৌকিক ধর্মবিশ্বাসগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল এই সময়কার বাংলা সাহিত্য। মঙ্গলকাব্য, বৈষ্ণব পদাবলি, শাক্তপদাবলি, বৈষ্ণব সন্তজীবনী, রামায়ণ, মহাভারত ও ভাগবতের বঙ্গানুবাদ, পীরসাহিত্য, নাথসাহিত্য, বাউল পদাবলি এবং ইসলামি ধর্মসাহিত্য ছিল এই সাহিত্যের মূল বিষয়। বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার সূত্রপাত হয় খ্রিষ্টীয় অষ্টাদশ শতাব্দীতে। ঊনবিংশ শতাব্দীতে বাংলার নবজাগরণের যুগে কলকাতা শহরকে কেন্দ্র করে বাংলা সাহিত্যে এক নতুন যুগের সূচনা হয়।

এই সময় থেকে ধর্মীয় বিষয়বস্তুর বদলে মানুষ, মানবতাবাদ ও মানব-মনস্তত্ত্ব বাংলা সাহিত্যের প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে ওঠে। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর বাংলা সাহিত্যও দুটি ধারায় বিভক্ত হয়: কলকাতা-কেন্দ্রিক পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্য ও ঢাকা-কেন্দ্রিক পূর্ব পাকিস্তান-বাংলাদেশের সাহিত্য। বর্তমানে বাংলা সাহিত্য বিশ্বের একটি অন্যতম, সমৃদ্ধ সাহিত্যধারা হিসেবে পরিগণিত হয়ে থাকে। সাহিত্যের যুগ বিভাজন করতে গেলে পাওয়া যায়, আদিযুগ বা প্রাচীন যুগ, মধ্যযুগ, ত্রয়োদশ শতাব্দী (যাকে বাংলা সাহিত্যের “অন্ধকার যুগ” বলা হয়), আধুনিক যুগ। বাংলা সাহিত্যে বিভিন্ন সময়ের বিশেষায়িত সাহিত্যধারা রয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে চর্যাপদ, শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, মধ্যযুগীয় বাংলা অনুবাদ সাহিত্য, বৈষ্ণব পদাবলি, মঙ্গলকাব্য, রাজসভার সাহিত্য, শিবায়ন কাব্য, শাক্তপদাবলি, নাথ সাহিত্য, বাউল সাহিত্য, বাংলা লোক সাহিত্য।

বাংলা গদ্যের উন্মেষপর্ব শুরু হয়েছে রবীন্দ্রসাহিত্য, আধুনিক বাংলা কবিতা, বাংলা কথাসাহিত্য, বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যের মাধ্যমে। পরিশেষে বলা যেতে পারে, বাংলা সাহিত্যের পরিধি অনেক বিস্তৃত এবং বিশাল। যার ভেতর প্রবেশ করলে বুঝা যাবে এর শেষ কতদূরে। তাই সাহিত্য বিষয়টিকে ছোট করে না দেখে এর প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা রেখে এই শিল্পকে আরো এগিয়ে নেওয়াই আমাদের অঙ্গিকার হতে হবে। তবেই বাংলা সাহিত্যের জয় হবে। সকলে যেনো মুক্তচিন্তায় সাহিত্যচর্চা করতে পারে এটাই কামনা করি।

লেখক : আজহার মাহমুদ । প্রাবন্ধিক, কলামিষ্ট ও ছড়াকার

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন




মন্তব্য করুন



© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com