আজ শুক্রবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ১০:৪৯ অপরাহ্ন

নববর্ষে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন

নববর্ষে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন

Mahmudul Hoque Ansari

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মাহমুদুল হক আনসারী : ইংরেজী নববর্ষ ২০১৯ এসে গেল। বিগত দিনের গ্লানি মুছে ফেলে নতুন বছরকে স্বাগত। বিগত দিনের পাওয়া না পাওয়ার অনেক কিছু থেকে গেল। তবুও দিন, মাস, বছর থেমে থাকে না। অনেক উন্নয়ন এবং নান প্রতিকুলতার মধ্য দিয়ে সরকার পরিচালিত হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের অনেকগুলো সফলতা বলা যায়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্পখাতে ব্যাপক সফলতা পেয়েছে। শহর, নগর উন্নয়ন হয়েছে। লাখ লাখ রাস্তা-ঘাট, কালভার্ট, ব্রিজ হয়েছে। অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্টানের অবকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে। হাট-বাজার সম্প্রসারণ হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ঘরে ঘরে পৌঁছেছে। শহর নগরের জনগণের মৌলিক চাহিদা নাগালের মধ্যে। যাতায়াত ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নয়ন দৃশ্যমান। কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষের আয় বেড়েছে। তাদের ছেলে মেয়ে প্রাইমারি শিক্ষা থেকে উচ্চশিক্ষা পর্য্ন্ত শিক্ষার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। খাদ্য দ্রব্য বাজারজাত, প্রাপ্তি সহজলভ্য হয়েছে।

মানুষের মৌলিক খাদ্য অধিকার নিশ্চিত হয়েছে। নিত্য পণ্য জনগণের নাগালে রয়েছে। বিগত বছরে নিত্য পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ছিল, ফলে দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখায় জনগণ স্বস্তিতে ছিল। শিক্ষা প্রতিষ্টানে কোনো ধরনের হৈ হাঙ্গামা ছাত্র ধর্মঘট সেশন জট ছিল না। শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের শিক্ষা কার্য্ক্রম চালাতে পেরেছে। অভিবাবক মন্ডলী সন্তুষ্ট ছিল। ঠিক সময়ে ক্লাস পরীক্ষা বই পত্র প্রদান সম্পন্ন ছিল। দেশে বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছিল না বলা যায়। রাজনৈতিক কিছু অস্থিরতা থাকলেও সরকার তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে। সন্ত্রাস, জঙ্গি, মাদকের বিরোদ্ধে অব্যাহত অভিযান চলমান। জঙ্গি সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর মনোভাব অব্যাহত। সরকারি অফিস আদালতে জনগণের সেবা ডিজিটালাইজ হয়েছে। ঘরে বসেই সব শ্রেণী পেশার মানুষ সরকারের সেবা পাচ্ছে। ছাত্র ছাত্রীদের তথ্য রেজাল্ট সবকিছু ঘরে বসেই পাওয়া যাচ্ছে।

দেশে লাখ লাখ ছাত্র ছাত্রীদের উপবৃত্তির আওতায় আনা হয়েছে। বিকাশেই তা পেয়ে যাচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তিতে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ব্যাপক সফলতা পেয়েছে। প্রশ্নফাঁস, নকল প্রতিরোধে সরকারের সফলতা দৃশ্যমান। বলতে গেলে কৃষক থেকে শিল্পপতি পর্য্ন্ত সব শ্রেণী পেশার অগ্রগতি লক্ষ্য করার মতো। ধর্মীয় হানাহানি, গোত্রীয় সংঘাত সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির বাংলাদেশ। সব ধর্মের নর নারীর মধ্যে সম্প্রীতি আর ভালোবাসা বিদ্যমান। বাঙ্গালিজাতির উন্নয়ন অগ্রগতির শরিক এদেশের সব মানুষ। সব মানুষের দেশ সব ধর্মের সোনার দেশ বাংলাদেশ। বাংলাদেশের স্থপতি শহিদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এমন দেশটি চেয়েছিলেন। যে দেশে সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আপন কর্ম কাজে এগিয়ে চলছে। কেউ কারো দিকে তাকাবার সময় নেই। আপন আপন কাজে নিজের জন্য দেশের জন্য সব মানুষ সামনে এগোচ্ছে। বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার ইতিহাসে অনেকেই ঈর্ষান্বিত। তবুও এগিয়ে যাওয়াকে কেউ থামাতে পারবে না।

বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যার নেতৃত্বে তাঁর নিরলস অব্যাহত প্রচেষ্টায় এদেশের মানুষ এবং এদেশ বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। ক্ষুধা দারিদ্রতা এখন চোঁখে দেখার মতো নেই। মাত্র এক যুগ আগেও ক্ষুধার জ্বালায় মানুষ কাতরাচ্ছিল, আজ সে ক্ষুধা আর যন্ত্রণা নেই। বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় কৃষক, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। শহর নগরে সমান তালে উন্নয়ন হচ্ছে। ফলে কোনো দিনমজুরকে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় কাজের সন্ধানে যেতে হচ্ছে না। সারাদেশে প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। ফলে ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারিত হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির অভূতপূর্ব সফলতায় দেশের সার্বিক অগ্রগতি এগিয়ে যাচ্ছে। তবে উন্নয়নের সাথে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। জরিপে জানা যায়, দেশে প্রতিবছর লাখ লাখ শিক্ষিত বেকার জমে যাচ্ছে। তারা তাদের যোগ্যতার মাপকাঠিতে কর্মসংস্থান পাচ্ছে না। আবার যে পরিমাণ সরকারি কর্মসংস্থান হয় সেখানেও বস্তায় বস্তায় টাকার লেনদেন করে চাকরী নিতে হয়।

কৃষক শ্রমিকের ছেলে মেয়েদের চাকরীর জন্য এভাবে ঘুষ দিয়ে চাকরী পাওয়া কঠিন কাজ। এ ধরনের অনৈতিক দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। মেধার ভিত্তিতে সব এলাকা থেকে সরকারের প্রতিশ্রুতির আলোকে প্রতিটি ঘরে ঘরে চাকরী পাওয়া নিশ্চিত করতে হবে। অফিস, আদালতের ঘুষ দুর্নীতি শূন্যের কোটায় নিয়ে আসতে হবে। আগামীর বাংলাদেশে তথ্য আদান প্রদানে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা চাই না। সংবাদপত্র এবং মিডিয়াকে সম্পূর্ণভাবে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা দিতে হবে। সাংবাদিক, সংবাদকর্মী, প্রকাশক, মালিককে অযৌক্তিক হয়রানি করা চলবে না। কালোবাজারি, মওজুদদারি ব্যবসায়ীর বিরোদ্ধে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। দ্রব্যমূল্য সারা বছর নজরদারির মধ্যে রাখতে হবে। খাদ্যপ্রাপ্তি সহজলভ্য এবং নির্ভেজাল দেখতে চাই। ক্ষুধা দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ এগিয়ে যাক নতুন বছরে সে

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন




Leave a Reply

জনসম্মুখে পুরুষ নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

Nobobarta on Twitter

© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com