মশা মুক্ত পরিবেশ চাই | Nobobarta

আজ সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ১২:২৮ পূর্বাহ্ন

মশা মুক্ত পরিবেশ চাই

মশা মুক্ত পরিবেশ চাই

Mosquito-Nobobarta

Rudra Amin Books

সফিউল্লাহ আনসারী : দেশজুড়ে বেড়েই চলেছে মশার উপদ্রপ। শীত বিদায় হতে না হতেই মশার প্রকোপ। মশা সারা বছর নগরবাসীর সংগী হলেও গরমে অসহ্য যন্ত্রনা আর জনস্বাস্থ্য হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়ে। মশার কামড়ের চেয়ে চিন্তার বিষয় হলো মশাবাহিত ভংকর রোগের আক্রমন। মশা প্রাণী হিসেবে যতো ছোট বরং গুরুত্বে দিক থেকে ততো ছোট নয়। এই মশার আতংকিত রূপ দেশবাসী দেখেছে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া নামক মহামারিতে আকান্ত হয়ে। অকালেই অনেক জীবন প্রদীপ নিভেছে এই ক্ষুদ্র অথচ ভয়ংকর প্রানী মশার কামড়ে।

গরম পড়ার আগেই বেড়ে গেছে মশার যন্ত্রনা। গ্রাম কি শহর সবখানেই বেসুরে চলছে মশক শিল্পীগোষ্ঠীর রির্হেসা ও আনাগোনা। ‘রাতে মশা দিনে মাছি এই নিয়ে ঢাকায় আছি’ মুখস্থ বচন সবাই জানে। জানেন আমাদের দুই সিটির নগরপিতা এবং তাদের দায়িত্ব প্রাপ্ত মহাশয়গন। অথচ নগরবাসী মশক যনন্ত্রনায় বেহাল অবস্থায় আছেন। মশক নিধনের উপায় উনাদের জানা থাকার পরও আমজনতার এই যে দুভোর্গ তার কি কোন প্রতিকার হবে না? ডেঙ্গু চিকুনগুনিয়ার মতো নানাবিধ রোগ এই মশার মাধ্যমে সংক্রমন হয়ে থাকে। ছেলে-বুড়ো নির্বিশেষে সকলের জীবনে নাবিশ্বাসের কারন মশা। তাহলে কি হবে নগরবাসীর?

প্রশ্ন হলো এতো মশা কেনো? বিশ্বব্যাপী কমবেশী মশার উপদ্রপ রয়েছে। বিশেষ করে আমাদের এশিয়ায় এর প্রকোপ কখনো আতংকের কারন হয়ে দাড়ায়। এর কারন কি? প্রথমেই বলতে হয় অসচেতনতা। তারপর যে বিষয়টি সবার আগে আসে তা হলো, নগর পরিকল্পনাকারীদের গাফিলতির কথা। কারন তাদের সদিচ্ছা,সঠিক ব্যাস্থাপনা, মশা নিধনে ঔষদের সঠিক প্রয়োগে ফাঁকিবাজি, মশার উৎপত্তিস্থল চি‎িন্হত না করা, ড্রেনেজ ব্যাবস্থায় কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহন না করা প্রভৃতি।

হয়তো সৃষ্টিলগ্ন থেকেই মানুষ আর মশার শত্রুতা লেগে আছে। মশা মাত্রই যে ঘাতক তা না হলেও মশার কামড় কোন আরামদায়ক বিষয় নয় তাই মশা নিধনে সিটি কর্পোরেশ অবহেলা না করে যথাযথ দায়িত্ব পালনে ব্রতি হবেন সেই দাবী এবং উদাত্ত আহবান সকল নগরবাসীর। দেশের অন্য সিটি ও জেলা-উপজেলা সদরগুলোতেও মশার কামড়ে অতিষ্ট জনসাধারন। ঢাকার নগরপিতাদের সাথেই সারাদেশে যারা মশা নিধনের মহান দােিয়ত্বে বহাল রয়েছেন তাদের সকলে প্রতিই দাবি একটাই মশার হাত থেকে জনগনকে বাঁচান এবং নিজেরাও বাঁচুন নইলে পাবলিক ক্ষেপে গেলে মশার চেয়ে ভয়াবহ অবস্থা হবে তখন সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে দাড়াবে।

সাফকথা সিটি কর্পোরেশন যদি মশার ওষুধের পরিবর্তে পানি (অভিযোগ রয়েছে!) না ছিটিয়ে ঠিকমতো মশার বংশ বিস্তার রোধ ও মশা নিধন ও নিয়ন্ত্রন করতো তাহলে মশার কামড়ের যন্ত্রনা নগরবাসীকে এতোটা কষ্ট দিতো না। ডেঙ্গু আর চিকুনগুনিয়ার মতো মহামারি ফিরে আসতোনা। সিটি কর্পোরেশনের গাফিলতির কারন এই এতো মশা! জনসচেতনা বাড়নোর কাজটিও তাদেরকেই করতে হবে। মশা নিধনে আগের মতো এইসব ওষুধ কাজ না করলে নতুন এবং কার্যকরি ওষুধ আনুন, পাবলিককে সুরক্ষা দিন। হয়তো অদুর ভবিষ্যতে আশা করা যায় সিটি কর্পোরেশনের সদিচ্ছা, দায়িত্ববোধ, সঠিক মশা নিয়ন্ত্রন ব্যাবস্থাপনার ঠিকঠাক প্রয়োগ নগরবাসীকে কিছুটা হলেও স্বস্থি দেবে। ডেঙ্গু আর চিকুনগুনিয়ার মতো মহামারি, এই ক্ষুদ্রপ্রাণী মশার কামড়ে আর যেনো ফিরে না আসে সেই কামনা আজ সকলের। মশার হাত থেকে বাঁচতে সকল আম-জনতার একটাই দাবি- মশামুক্ত পরিবেশ।

সফিউল্লাহ আনসারী- সাংবাদিক-সমাজকর্মী


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.






Nobobarta © 2020। about Contact PolicyAdvertisingOur Family DMCA.com Protection Status
Developed By Nobobarta