কলমের উল্টোরথ : ডা. জয়প্রকাশ সরকার | Nobobarta

আজ সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ১২:৫১ পূর্বাহ্ন

কলমের উল্টোরথ : ডা. জয়প্রকাশ সরকার

কলমের উল্টোরথ : ডা. জয়প্রকাশ সরকার

Rudra Amin Books

ডা.জয়প্রকাশ সরকার : একটি কবিতার জন্মই বলি কিংবা একটি অকবিতার জন্মই বলি;প্রতিটি সৃষ্টির পেছনেই সুনির্দিষ্ট কারণ থাকে। কবির বেদনা-বিদ্ধ হৃদয়ই মূলত কবিতার জন্ম-ভূমি। অর্থাৎ, সময়-বিশেষে কোন একটি বিশেষ সূত্রকে অবলম্বন করে কবির আনন্দ-বেদনা যখন প্রকাশের পথ পায়, তখনই কবিতার জন্ম। কবি বেদনাকে আস্বাদ করে রস-মূর্তি দান করেন। ব্যক্তিগত বেদনার বিষপুষ্পের উপরে কবি যখন কল্পনার মৌমাছি উড়িয়ে আনন্দমধু আস্বাদন করতে পারেন, তখন বেদনা পর্যন্ত রূপান্তরিত সুন্দর ও মধুময় হয়ে উঠে। বেদনার যিনি ভোক্তা তিনি অথবা এটার দ্রষ্টা যিনি তিনিও এর অন্তর্নিহিত অংশে পৌছতে না পারলে তাঁর দ্বারা কাব্য-সৃষ্টি সম্ভব নয়। দূরদর্শী কল্পনাকারী কিংবা দ্রষ্টারাই কবি।

আজ অবধি কবিদের উৎপত্তি রহস্য অজ্ঞাত ও অজানাই রয়ে গেছে। সেই অনাদিকাল থেকে আধুনিক কাল পর্যন্ত যুগ-যুগ ধরে তাঁরা তাদের নিজস্ব চিন্তা-ভাবনাগুলোকে মনের মাধুরী মিশিয়ে সৃষ্টি করে চলেছেন নিত্য-নতুন কবিতা। কবিতাগুলো একত্রিত করে তাঁরা কবিতাসমগ্র বা কাব্যগ্রন্থ রচনা করেছেন। কখনো কখনো কাব্যগ্রন্থটি বিরাট আকার ধারণ করে সৃষ্টি করছেন মহাকাব্য।পৃথিবীর প্রায় সকল ভাষায়ই কবিতা রচিত হয়েছে। ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি ও ভিন্ন ভিন্ন সময়কে উপজীব্য করে রচিত হওয়ায় এগুলোর আবেদন, উপযোগিতা এবং ভাবও সাধারণতঃ ঐ সময়ের জন্য উপযোগী।

তবে অনেক কবিতাই কালজয়ী ভূমিকা পালন করেছে। প্রত্যেক সমাজ-সভ্যতা ও নির্দিষ্ট ভাষায় রচিত হওয়ায় কবিরা বহুমাত্রিক, বিচিত্র ভঙ্গিমা, সৃষ্টিশৈলী প্রয়োগ করেছেন তাদের কবিতায় যা কালের বিবর্তনে যথেষ্ট পরিবর্তিত, পরিমার্জিত হয়ে বর্তমান রূপ ধারণ করেছে। পরবর্তীকালে এই প্রায়োগিক বিষয়াদিই ঠাঁই করে নিয়েছে বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসের পর্দায়। সাহিত্যের ইতিহাসে উৎপাদিত এই বৈচিত্র্যময় শিল্প শৈলীই বর্তমান সাহিত্যকে যথেষ্ট সমৃদ্ধ করেছে। অতীত ইতিহাসে দেখা যায়, কবি শব্দটি অতীব সম্মানের। কবিকে মনে করা হতো দিব্যজ্যোতির মানুষ। কবির আছে উচ্চমার্গের নৈতিকতা ও মহত্ত্ব,তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তগুলোও স্বকীয়তায় ভরা — এমনই মনে করা হতো। রাজনৈতিক কিংবা রাষ্ট্রীয় মহাবিপর্যয়েও কবিদের পরামর্শ প্রার্থনা করা হতো; এমন বহু নজির আছে।

চলতি সময়ে কবির সেই শুদ্ধ ভাবমূর্তি অসততায় আক্রান্ত ও লোভে ভূলুণ্ঠিত হয়ে গেছে। সকল গৌরব, মহিমা ও গগনস্পর্শী সম্মান ধূলিসাৎ হয়েছে। কবিকে এখন দুশ্চরিত্র, নীতিহীন, লম্পট, কপট, ফাঁকিবাজ, প্রলাপী, পদলেহী, মতলববাজ,মিথ্যাবাদী ইত্যাদি ইত্যাদি বহুবিধ নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যের সমাহার বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে। এমনকি একদল কবিরাও আরেকদল কবিদের সম্পর্কে বহু বদনামই গেয়ে বেড়ান। আসলে কবিতা লিখলেই যে কবি হওয়া যায় না এমন কথা মানতেও বর্তমানের কবিতা লিখিয়েরা নারাজ। কবিরাও (স্ব-উল্লেখিত)এখন নির্দিষ্ট রাজনীতি করে বেড়ান, পদক বিক্রীর দালালী করেন! শিরোনাম অর্ডারে কবিতা লেখেন! আরও কত কি! কোনটাতে নাই তারা! (ব্যতিক্রম কেউ কেউ আছেন, সন্দেহ নাই তবে সংখ্যাগুরুরাই সমধিক বিবেচ্য)

এমন তো হবার কথা ছিলো না। নিপীড়িতের জন্য লেখার কথা থাকলেও চরম প্রতিষ্ঠিতদের জন্যই এখন লেখেন তারা! প্রকৃতিতে প্রেম খুজে বেড়ানোর কথা থাকলেও দেহের মাঝেই প্রেম খুজেন তারা। পদক তাদের পেছনে ঘুরার কথা থাকলেও পদকের পিছনেই ঘুরেন তারা! কালের সকল দোষ নিজে ধারণ করে রোমন্থন আর স্থলনে জগদ্ধাত্রী হওয়ারই’তো কথা ছিল কবির! কিন্তু হলো আর কৈ! কবি এখন টাউট ছ্যাঁচড়া ধরনের নতুন আদলের কেউ হয়তো!!!

ডা.জয়প্রকাশ সরকার, চিকিৎসক,কবি ও লেখক।


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.






Nobobarta © 2020। about Contact PolicyAdvertisingOur Family DMCA.com Protection Status
Developed By Nobobarta