সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০:২৩ পূর্বাহ্ন

English Version
সংবাদ শিরোনাম :
সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা : আইনের বাস্তবায়ন জরুরি! মোস্তাফিজের অবিশ্বাস্য বোলিংয়ে বাংলাদেশের জয় এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ বাছাইপর্বে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের মেয়েরা জাবি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের একাংশের ইমরুল-মাহমুদউল্লাহ নৈপুণ্যে টাইগারদের চ্যালেঞ্জিং স্কোর শ্রীনগরে হেরোইনসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার রাজাপুরে কবর জিয়ারত এর মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় কেন্দ্রীয় নেতা মনিরুজ্জামান। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ পিবিআই’র তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন রিনা ষড়যন্ত্রকারীরা রাজনীতি নয় দুর্নীতির রাঘব-বোয়াল -মোমিন মেহেদী
আজ আবদুল আলীমের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী

আজ আবদুল আলীমের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী

Abdul Alim-Nobobarta



আজ ৫ সেপ্টেম্বর বাংলা গানের মরমী ও লোক সংগীত শিল্পী আবদুল আলীমের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক এই শিল্পী লোক সংগীতের নানা ঘরানায় গান গেয়ে বাংলা গানের জগতকে সমৃদ্ধ করেছেন।

শিল্পী আবদুল আলীম একাধারে পল্লীগীতি, লোক সংগীত, মরমী গান, বিচ্ছেদ, ভাওয়াইয়া, লালন, হাছন রাজার গান, প্রেম ও চলচ্চিত্র’সহ বিভিন্ন ধারার গান পরিবেশন করেন। শিল্পীর ভরাট ও শ্রতিমধুর কন্ঠ এবং পরিবেশনায় নিজস্ব গায়কী ঢঙের ফলে লোকগানের একজন শিল্পী হিসেবে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জণ করেন।

শিল্পী আবদুল আলীম ১৯৩১ সালের ২৭ জুলাই তৎকালীন ভারতের পশ্চিবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার তালিবপুরে জন্মগ্রহণ করেন। মাধ্যমিক স্কুলে অধ্যয়নকালেই তিনি গান গাওয়া শুরু করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে শিল্পী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকায় এসেই তিনি তৎকালীন ঢাকা রেডিওতে নিয়মিত গান গাওয়া শুরু করেন। সেই থেকে আজীবন তিনি একজন মেধাবী শিল্পী হিসেবে লোকসংগীত পরিবেশন করে অগণিত মানুষের মন জয় করেন।

১৯৪২ সালে শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক যান কলকাতা আলিয়া মাদরাসায়। তখন উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন কেবল শুরু হয়েছে। শেরে বাংলার আগমণ উপলক্ষে সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বড় ভাই শেখ হাবিব আলী আব্দুল আলীমকে নিয়ে যান সেই অনুষ্ঠানে। তিনি ধীর পায়ে মঞ্চে এসে গাইলেন, ‘সদা মন চাহে মদিনা যাবো।’এ সময় আবদুল আলীমের গান শুনে ‘শেরে বাংলা’ শিশুর মতো কেঁদে ফেলেন। কিশোর আলীমকে বুকে জড়িয়ে ধরেন। এরপর বাজারে গিয়ে পাজামা, পাঞ্জাবী, জুতা, পুটি, মোজা সব কিনে দেন।

শিল্পী আবদুল আলীলের গাওয়া জনিপ্রয় গানের মধ্যে রয়েছে চিরদিন পোষলাম এক অচিন পাখি, এই যে দুনিয়া কিসেরও লাগিয়া, সর্বনাশা পদ্মা নদী, হলুদিয়া পাখি সোনারই বরণ, নাইয়ারে নায়ের বাদাম ত্ইুলা, দুয়ারে আইসাছে পালকি, আমারে সাজাইয়া দিও, পরের জায়গা পরের জমি, মনে বড় আশা ছিল, সব সখিরে পার করিতে নেব আনা আনা, উজান গাঙের নাইয়া, এই সংসারে কেউ নাই আপন জনা প্রভৃতি। বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’সহ বিভিন্ন বাংলা চলচ্চিত্রের গান করেছেন আব্দুল আলীম। এরমধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ‘লালন ফকির’। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০০টির মতো গান রেকর্ড হয়েছিল তার।

শিল্পীর কন্ঠ দেয়া প্রায় ৩ শত গানের রেকর্ড রয়েছে। প্রকাশ পেয়েছে কয়েকটি এ্যালবাম। বাংলা চলচ্চিত্রের প্রথম (সবাক) ছবি ‘মুখ ও মুখোশ’ থেকে শুরু তিনি শতাধিক চলচ্চিত্রে গান গেয়েছেন। ‘সুজন সখি’ ছবির গানে কন্ঠ দেয়ার জন্য আবদুল আলীম ১৯৭৪ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ১৯৭৭ সালে একুশে পদক (মরণোত্তর) এবং ১৯৯৭ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন। ১৯৭৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর শিল্পী তৎকালীন ঢাকার পিজি হাসপাতালে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ) ইন্তেকাল করেন। তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

শিল্পী আবদুল আলীমের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শিল্পী আবদুল আলীম ফাউন্ডেশন এবং তার পরিবারেরপক্ষ থেকে সকালে বনানী কবরস্থানে শিল্পীর সমাধিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণের মধ্যদিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হবে। পরে রয়েছে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। বিটিভি ও বেসরকারি টিভিতে শিল্পীকে নিয়ে অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media




Leave a Reply



© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com