ভাষা সৈনিক মোহাম্মদ সুলতান এর ৩৬তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ | Nobobarta
Manobata

আজ রবিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২০, ০৪:৫১ অপরাহ্ন

ভাষা সৈনিক মোহাম্মদ সুলতান এর ৩৬তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ভাষা সৈনিক মোহাম্মদ সুলতান এর ৩৬তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ভাষা সৈনিক মোহাম্মদ সুলতান

আজ ৩১ ডিসেম্বর, ৫২’র ভাষা আন্দোলনের অন্যতম ভাষা সৈনিক মোহাম্মদ সুলতান এর ৩৬তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯২৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার মাঝগ্রামে তিনি জন্মগ্রহন করেন।

বৃটিশ আমলের পুলিশ বিভাগের ঝানু অফিসার ডেপুটি সুপারিনন্টেন্ডেন্ট অব পুলিশ পিতা মরহুম মোহাম্মদ শমসের আলী ছিলেন কর্তব্যপরায়ন এবং স্বাধীনচেতা। মোহাম্মদ সুলতান যশোর জেলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার আগেই মাকে হারান। স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে। তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৩ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন।

মোহাম্মদ সুলতান কৈশোরেই ‌’ভারত ছাড়’ বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে প্রথম আকৃষ্ট হন রাজনীতিতে। ১৯৪৬ সালে পাকিস্তান আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীকালে ১৯৪৮ সালে রাজশাহীতে ভাষা আন্দোলন এবং ছাত্র আন্দোলনে মোহাম্মদ সুলতান অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৫১ সালে যুবলীগে যোগ দেন এবং যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। মোহাম্মদ সুলতান ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম কালো পতাকা উত্তোলনকারী ছাত্র। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ১৪৪ ধারা ভংগ না করার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর যে ১১ জন সংগ্রামী ছাত্রনেতা ফজলুল হক হলের পুকুর পাড়ের সিঁড়িতে বসে রাত্রি ১টায় ১৪৪ ধারা ভাংগার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মোহাম্মদ সুলতান ছিলেন তাদের অন্যতম।

রাজনৈতিক আন্দোলনের সাথে সাথে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সুলতান বিশেষভাবে ওয়াকিবহাল ছিলেন এবং আন্দোলনের ইতিহাসকে লিপিবদ্ধ করে রাখার উপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেন। ভাষা আন্দোলনের পর তিনি এমআর আক্তার মুকুলের অংশীদারিত্বে প্রধানত রাজনৈতিক উদ্দ্যেশে পুস্তক বিক্রয় কেন্দ্র ‘পুথি পত্র’ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে কবি হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক সংকলন ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ প্রকাশ করেন। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসকে সাহিত্যের মাধ্যমে ধরের রাখার ঐতিহাসিক দায়িত্ব তিনি পালন করেন। অবশ্য প্রকাশনার কিছুদিন পরেই মুসলিম লীগ সরকার ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ বইটি বাজেয়াপ্ত করেন।

১৯৮৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলাবাসীকে কান্নার সাগরে ভাসিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ৩নং ওয়ার্ডের করিডোরে চিরতরে বিদায় নেন সর্বজন শ্রদ্বেয় ব্যক্তিত্ব, রাজনীতিক, ভাষা সৈনিক মোহাম্মদ সুলতান।


Leave a Reply



Nobobarta © 2020। about Contact PolicyAdvertisingOur Family DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com