আগৈলঝাড়ায় পরিবেশ দুষনকারী পলিথিন পুড়িয়ে বঙ্গবন্ধুসহ শতাধিক ভাস্কর্য তৈরি করেছেন এমিলিয়া রায় | Nobobarta
Manobata

আজ শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২০, ১০:১৫ অপরাহ্ন

আগৈলঝাড়ায় পরিবেশ দুষনকারী পলিথিন পুড়িয়ে বঙ্গবন্ধুসহ শতাধিক ভাস্কর্য তৈরি করেছেন এমিলিয়া রায়
পরিবেশ দুষনকারী পলিথিন পুড়িয়ে বঙ্গবন্ধুসহ শতাধিক ভাস্কর্য তৈরি

আগৈলঝাড়ায় পরিবেশ দুষনকারী পলিথিন পুড়িয়ে বঙ্গবন্ধুসহ শতাধিক ভাস্কর্য তৈরি করেছেন এমিলিয়া রায়

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি :

নিছক শখ থেকে শিল্পীরা তাদের শিল্পকর্ম তৈরীর মাধ্যমে সুনাম, খ্যাতি অর্জনের সাথে সাথে নিজেদের জীবন জীবিকার প্রয়োজনে শিল্পকর্মকে বাঁচিয়ে রাখেন। শিল্পকর্ম তৈরী ও তা প্রদর্শনের মাধ্যমে খ্যাতির শীর্ষ চূড়ায় অবস্থান করেছেন দেশ-বিদেশের অনেক গুণী শিল্পী। এমনই একজন গুণী শিল্পীর দেখা মিলেছে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের রাহুৎপাড়া গ্রামে। প্রচার বিমুখ এই গুণী শিল্পী এমিলিয়া রায় জঞ্জাল ও পরিবেশ দুষণকারী পরিত্যক্ত পলিথিন দিয়ে তৈরী করেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য, সেবাদানের পথিকৃৎ মাদার তেঁরেসা, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, শেখ রাসেলসহ বিশিষ্ট জনের আকর্ষণীয় সহস্রাধিক ভাস্কর্য। ঐতিহাসিক শিল্পকর্মের মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করা শিল্পী এমিলিয়া রায়ের শেষ ইচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর হাতে তার পরম যত্নে নির্মান করা ভাস্কর্যগুলো তুলে দেয়া।

ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকা, কবিতা লেখা, গান গাওয়া ও নিজের লেখা গানে কন্ঠ দেয়ার প্রতি প্রচন্ড ঝোঁক ছিল এমিলিয়ার। এসএসসি পাশ করার পরেই বিয়ে হয় গৈলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান প্রয়াত জিতেন্দ্র নাথ রায়ের বড় ছেলে ও উপমহাদেশের বিশিষ্ট যন্ত্রশিল্পী,প্রখ্যাত টাইপিস্ট ও সাঁটলিপিকার প্রয়াত সুরেন্দ্র নাথ রায়ের ভাইপো আলফ্রেড রায়ের সাথে। সংসার জীবনে ঢুকে লেখাপড়া থেমে গেলেও থেমে যায়নি তার উদ্ভাবনী ইচ্ছা শক্তি। বিয়ের পরে সংসার জীবনেও নতুন করে এমিলিয়ার শুরু হয় ছাত্রজীবনের তার সেই উদ্ভাবনী শক্তির বহিঃপ্রকাশ। দাম্পত্য জীবনে দুই ছেলে ও তিন মেয়ের জননী এমিলিয়া রায়। স্বামী মারা যাবার পরে স্বাবলম্বী হওয়া ছেলে মেয়েদেরও দেখভাল করার সকল দায়িত্ব নিয়েছেন প্রায় ৬৫ বছরের এমিলিয়া নিজেই।

১৯৯০ সালের কোন একদিন রান্না করা গরম কড়াই পাশের পলিথিন ব্যাগের উপর রাখায় পলিথিন ব্যাগ গলতে দেখে ওই পলিথিনের মাধ্যমেই নতুন করে উদ্ভাবনী শক্তির ইচ্ছে কড়া নাড়ে তার মনে। সেদিন থেকে পরিবারের ফেলে দেওয়া পলিথিন ব্যাগ বিভিন্ন মানুষের মাধ্যমে সংগ্রহ করে তা আগুনে পুড়িয়ে শুরু করেন ভাস্কর্য নির্মাণের কাজ। নির্মাণ করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য। প্রায় ৮০ কেজি ওজনের মাদার তেঁরেসার ভাস্কর্যও তৈরি করেন তিনি। নিপুণ শিল্পদক্ষতার ছোঁয়ায় পর্যায়ক্রমে তৈরি করেন বিশ্বকবি রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাস্কর্য। নিজের রাজনৈতিক দর্শনের বহি:প্রকাশ ঘটিয়ে নির্মাণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাস্কর্য। ‘৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতার সাথে ঘাতকের বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে প্রাণপণ বাঁচার আকুতি নিয়ে দাড়িয়ে থাকা শেখ রাসেলের ভাস্কর্য। নির্মাণ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়া পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের মাধ্যমে নির্যাতনের ঐতিহাসিক ভাস্কর্য। ছোট-বড় মিলে অন্তত শতাধিক ভাস্কর্য রয়েছে তার নিজের সংগ্রহশালায়।

বর্তমানে বার্ধক্যজনিত কারণে শারীরিক অসুস্থতায় তেমন হাঁটা চলায় সমস্যা হলেও থেমে নেই তার শিল্পকর্ম নির্মাণের কাজ। নিরলসভাবে নির্মাণ করে চলেছেন ভাস্কর্য। শুধু পরিবেশ বিরূপ পলিথিন দিয়ে ভাস্কর্য নির্মাণই নয়, গুণী শিল্পী এমিলিয়া তুলা দিয়ে আঁকা ছবির মাধ্যমে তুলে ধরেছেন মুক্তিযুদ্ধের বিভীষিকাময় দৃশ্যগুলো। এছাড়াও মানুষের চুল সংগ্রহ করে তা দিয়ে তৈরি করেছেন বঙ্গবন্ধুর মুখমন্ডল সম্বলিত অপরূপ বাংলাদেশের মানচিত্র। শিল্পী এমিলিয়া রায় জানান, শেষ জীবনে তার ইচ্ছা নিজের হাতে তৈরী করা ভাস্কর্যগুলো মমতাময়ী মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেয়া। কিন্তু সকল ভাস্কর্য প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও ঘাতকের বুলেটে নির্মম হত্যার শিকার হওয়ার আগে শেখ রাসেলের বাঁচার আকুতিভরা নিপুণ ভাস্কর্যটি নিজের কাছেই রাখতে চান তিনি। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় তার তিন বছরের ছেলে তিনু রায় অসুস্থ হয়ে ডাক্তারের অভাবে বিনা চিকিৎসায় চোখের সামনে ধুঁকে ধুঁকে মারা যায়। শেখ রাসেলের আকুতিভরা ভাস্কর্যর মধ্যে তিনি খুঁজে পেতে চান তার নিজের হারানো ছেলে তিনুকে।


Leave a Reply



Nobobarta © 2020। about Contact PolicyAdvertisingOur Family DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com