মঙ্গলবার, ১৭ Jul ২০১৮, ০২:০৫ অপরাহ্ন

English Version


জাবিতে লাখ টাকায় চান্স: ভাইভায় এসে ১৪জন কারাগারে

জাবিতে লাখ টাকায় চান্স: ভাইভায় এসে ১৪জন কারাগারে



জোবায়ের কামাল, জাবি প্রতিনিধি# জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে ১৪জনকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তিন দিনব্যাপী (১২ থেকে ১৪ নভেম্বর) মৌখিক পরীক্ষায় তারা আটক হন। তাদের আশুলিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ভর্তি পরীক্ষার লিখিত অংশের উত্তরপত্রে পরীক্ষার্থীদের বাংলা এবং ইংরেজীতে দুটি বাক্য লিখতে হয়। পরবর্তী সময়ে মোখিক পরীক্ষায় ওই বাক্য দুটি আবার লিখতে হয়। প্রাথমিকভাবে হাতের লেখার সঙ্গে মিল দেখে প্রকৃত পরীক্ষার্থী যাচাই করা হয়। কিন্তু তাদের হাতের লেখায় অমিল পাওয়া গেছে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন আইন ও বিচার অনুষদের ভর্তি-ইচ্ছুক নিশাদ আহমেদ, ইমাম হোসেন, আশিকুল হাসা রবিন। বিজনেস স্টাডিজ অনুষদে ভর্তি-ইচ্ছুক মাহবুব হোসেন, নাঈমুর রহমান ও মাহমুদুল বশির সৌরভ। কলা ও মানবিকী অনুষদে ভর্তি-ইচ্ছুক আশরাফুজ্জামান নয়ন, ইয়াছিন আরাফাত, শেখ পারভেজ আহমেদ, রাকিব হোসান, আবু রায়হান। আইআইটি বিভাগে ভর্তি-ইচ্ছুক অমিত হাসান। নিশাদের সঙ্গে আসা তার বড় ভাই নাঈমুর রহমান সরকারকেও আটক করা হয়। তারা সকলেই জালিয়াতির কথা স্বীকার করে। এছাড়া রিজওয়ান নামের এক ব্যক্তিকেও আটক করা হয়। তবে সে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলে, নিশাদ ও নাইমুর আমাকে সঙ্গে নিয়ে এসেছে। জালিয়াতির বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না।

প্রক্টর অফিস সূত্রে জানা যায়, আইন ও বিচার অনুষদে (এফ ইউনিট) জালিয়াতির অভিযোগে আটক করা হয়েছে নিশাদ আহমদকে। তিনি ৩ লক্ষ টাকার বিনিময়ে শান্ত নামের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে চুক্তি করে। চুক্তি মোতাবেক আইন ও বিচার বিভাগে শান্ত পরীক্ষা দিলে ৪২তম স্থান লাভ করে। দ্বিতীয়জন ইমাম হোসেন ছয় লাখ টাকার বিনিময়ে রাহাত নামের এক ব্যক্তির সাথে চুক্তি করে। চুক্তি মোতাবেক রাহাত পরীক্ষা দিলে ৩য় স্থান লাভ করে। অন্যজন আশিকুল হাসা রবিন। তিনি পরীক্ষায় ১৬তম স্থান লাভ করে। তার লেখার সাথে পরীক্ষার কাগজের লেখার মিল না পাওয়ায় তাকে আটক করা হয়। সে জালিয়াতির কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কোন জালিয়াতি করি নাই। আমাকে এখন পরীক্ষা দিতে দিলে আমি পরীক্ষা দিব। আমি নারভাস থাকার কারণে ঠিক মতো লেখতে পারিনাই।

বিজনেস স্টাডিজ অনুষদে (ই ইউনিট) জালিয়াতির অভিযোগে আটক করা হয়েছে মাহবুব হোসেনকে। তিনি সাড়ে ৩লক্ষ টাকার সনদ নামের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে চুক্তি করে। চুক্তি মোতাবেক সনদ পরীক্ষা দিলে ৪২তম স্থান লাভ করে। দ্বিতীয়জন নাঈমুর রহমান। তিনি সুবির নামের এক ব্যক্তির সাথে দুই লক্ষ টাকা চুক্তি করে। চুক্তি মোতাবেক সুবির ১৫২তম স্থান লাভ করে। অন্যজন মাহমুদুল বশির সৌরভ। তিনিও ৫লক্ষ টাকার চুক্তিতে চান্স পায়। এতে তিনি পরীক্ষায় ১৫৬তম স্থান লাভ করে।

কলা ও মানবিকী অনুষদে (সি ইউনিট) জালিয়াতির অভিযোগে আটক করা হয় আশরাফুজ্জামান নয়নকে। তিনি এক ব্যক্তির সাথে ১লক্ষ টাকার চুক্তি করে চান্স পায়। এতে সে সি ইউনিটে ১৭তম স্থান লাভ করে। অন্যজন শেখ পারভেজ আহমেদ। তিনি এক ব্যক্তির সাথে সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকার চুক্তিতে চান্স পায়। এতে তিনি ১৫৫তম স্থান লাভ করে। আরেকজন রাকিব হোসেন। তিনি এক ব্যক্তির সাথে দুই লক্ষ টাকার চুক্তিতে চান্স পায়। এতে তিনি ৫৮তম স্থান লাভ করে। একই ইউনিটে চান্স পায় ইয়াছিন আরাফাত ৫ম স্থান লাভ করে ও আবু রায়হান ১৩তম স্থান লাভ করে। তারা উভয়েই জালিয়াতির কথা অস্বীকার করে।

আইআইটি বিভাগে জালিয়াতির অভিযোগে আটক করা হয় অমিত হাসানকে। তিনি সনেট নামের এক শিক্ষার্থীর সাথে ছয় লাখ টাকার চুক্তি করে। চুক্তি মোতাবেক সনেট ১১তম স্থান লাভ করে।

প্রক্টর তপন কুমার সাহা বলেন, তাদের হাতের লেখা মেলেনি। তা ছাড়া মেধা তালিকায় তাদের অবস্থান অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক প্রশ্নের উত্তরও তারা দিতে পারেন নি। তারা ভর্তি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকায় তাদেরকে আশুলিয়া থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক মো. লোকমান হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগে তাদেরকে আটক করা হয়েছে। থানায় নিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

Please Share This Post in Your Social Media




ফুটবল স্কোর



© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com