আজ শনিবার, ২৫ মে ২০১৯, ০৮:৫১ পূর্বাহ্ন

জাবির ৫ ছাত্রলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগ

জাবির ৫ ছাত্রলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগ

JU-Nobobarta 31032019

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  

জাবি প্রতিনিধি : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মচারীর স্বজনকে (জামাতা) ‘মারধর ও ছিনতাই’ এর অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের পাঁচ কর্মীর বিরুদ্ধে। ছিনতাইকালে তিনজন হাতেনাতে ধরে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যাওয়া হয় আর বাকি দুইজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

শনিবার ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনের পেছন থেকে তাদেরকে আটক করে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরা। তবে এই ঘটনার সাথে জড়িত অপর দুই শিক্ষার্থী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। পরে তাদেরকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা অফিসে ও সেখান থেকে পরে প্রক্টর অফিসে নেওয়া হয়।

আটককৃতরা হলো, নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ ৪৪ ব্যাচের সঞ্জয় ঘোষ, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ ৪৫ ব্যাচের মো. আল রাজী এবং ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগ ৪৫ ব্যাচের মো. রায়হান পাটোয়ারি। এদের মধ্যে রায়হান পাটোয়ারি ছিনতাইয়ের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কৃত ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাঞ্ছিত। এরা সবাই শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানার অনুসারী বলে জানা গেছে। পালিয়ে যাওয়া দুজন হলেন কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৫ তম আবর্তনের শাহ মোস্তাক সৈকত ও দর্শন বিভাগের ৪৫ তম আবর্তনের মোকাররম শিবলু। শিবলু শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চলের ফুফাতো ভাই বলে ঘনিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ভূক্তভোগীর মনির সরদার বলেন, ‘আমি ফার্মগেটে প্রাইভেটকার চালাই। ভোরে ফার্মগেটে যাওয়ার জন্য শ্বশুর বাড়ি থেকে রওনা দেই। বিশমাইলে রাস্তার ঢাল বেয়ে নামার সময় আমাকে আটকায়। এমন সময় আটককৃতরাসহ ৫ জন তাকে ধরে সঙ্গে থাকা নগদ অর্থসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে আত্মরক্ষার জন্য তিনি দৌড় দেই। তারা ধাওয়া দিয়ে আমাকে আটক করে ইজিবাইক যোগে বোটানিক্যাল গার্ডেনের পেছনে নিয়ে যান। তারা আমাকে মাদক ব্যবসায়ী বানানোর চেষ্টা করে এবং এটা আমাকে স্বীকার করতে বলে। এরপর বোটানিক্যাল গার্ডেনের পেছনে নিয়ে চেইন দিয়ে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী মারধর করে। পরে তারা আমার স্ত্রীর কাছে মুঠোফোনে ১ লাখ টাকা দাবি করে।’ ‘পরে ইজিবাইক চালকের সুত্র ধরে পরিবারের সদস্যরা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারী ঘটনাস্থলে যান।

এ সময় লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করলে তাদের তিনজনকে আটক করা গেলেও অন্য দুইজন পালিয়ে যান। এরপর তাদেরকে প্রথমে নিরাপত্তা অফিসে নিয়ে আসে কর্মচারীরা। আর ভূক্তভোগী মনির সরদারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সাভারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।’ এ বিষয়ে অভিযুক্ত সঞ্জয় ঘোষ বলেন, ‘আমি জুনিয়রদের ফোন পেয়ে বোটানিক্যাল গার্ডেনের পেছনে যাই। আমি বিষয়টি জানতাম না। গিয়ে দেখি, ওরা তাকে মারধর করেছে। তবে ছিনতাই ও মুক্তিপন দাবি করা হয়নি। অপর দুইজন মো. আল রাজী ও মো. রায়হান পাটোয়ারি মারধরের কথা স্বীকার করলেও ছিনতাই ও মুক্তিপন দাবির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।’ এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা বলেন, ‘বিষয়টা আমি শুনেছি। ছাত্রলীগের সাথে
কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রশাসনেরও দায়িত্ব আছে। সঞ্জয়কে ছাড়া বাকিদের চিনিনা। সঞ্জয় ছাত্রলীগের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, ‘প্রক্টরিয়াল বডি রিপোর্ট তৈরী করছে। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত শৃঙ্খলা কমিটির সভা ডাকব। বিশ^বিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়মে অভিযোগের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা হবে।’ পালিয়ে যাওয়া দুইজনের বিরুদ্ধেও রিপোর্ট তৈরী করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন




Leave a Reply

কে এই যুবক? টিস্যু দিয়ে বঙ্গবন্ধুর বিকৃত ছবি পরিস্কার করছে



Nobobarta on Twitter

© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com