আজ শনিবার, ২৫ মে ২০১৯, ০৯:১৫ পূর্বাহ্ন

জাবিতে ‘কেমন বিশ্ববিদ্যালয় চাই’ শীর্ষক সম্মেলন

জাবিতে ‘কেমন বিশ্ববিদ্যালয় চাই’ শীর্ষক সম্মেলন

শিক্ষক সম্মেলন 2

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  

জোবায়ের কামাল, জাবি প্রতিনিধি : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কেমন বিশ্ববিদ্যালয় চাই: উচ্চশিক্ষা, নীতিমালা ও কাঠামো’ শীর্ষক সম্মেলন অনুষ্টিত হয়েছে। সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় অর্ধশত শিক্ষক ও বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের গ্যালারি রুমে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের স্বমন্বয়ে গঠিত ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক’র উদ্যোগে দু’দিনব্যাপী সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সকাল ১০ টায় আয়োজনের আহবায়ক অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌসের স্বাগত বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে অধিবেশন শুরু হয়। প্রথম অধিবেশনে অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানার সঞ্চলনায় ‘বিশ্ববিদ্যালয়, সমাজ ও রাষ্ট্র’ শীর্ষক আলোচনা করেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ ও অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘কেমন বিশ্ববিদ্যালয় চাই এর উত্তর এককথায় বললে হবে, যেমন বিশ্ববিদ্যালয় চলছে সে রকম বিশ্ববিদ্যালয় আমরা চাই না। বাংলাদেশে বহু রকমের বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৩এর অধ্যাদেশ দ্বারা পরিচালিত হয়। এটা শুধু অধ্যাদেশ নয়, এটা একটা ইতিহাস।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যদি চিন্তা করার সক্ষমতা, প্রশ্ন করার আগ্রহ, সমাজ ও রাষ্ট্র বিষয়ে মনযোগ বৃদ্ধি পায়, তাহলে সেটা স্বৈরতন্ত্র, নিপীড়ক, রাষ্ট্র এবং সমাজের প্রভুদের জন্য হুমকি। রাষ্ট্র চায় রোবট সোফিয়ার মতো শিক্ষার্থী। তাদেরকে যেভাবে বলা হবে ঠিক সেভাবে চলবে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ থেকেই শিক্ষার্থীদেরকে নির্যাতন করে অনুগত করা। আর এখান থেকেই মাস্তান ও মেরুদÐহীন তৈরি হচ্ছে।’

অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন বলেন, ‘কেমন বিশ্ববিদ্যালয় চাই এ বিষয়টি সামনে আসলেই আমরা যে উত্তর পাই তা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশ্ববিদ্যালয় অর্থাৎ বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ধারনাটি আসলে কি এ বিষয়টি আমাদের কাছে অস্পষ্ট হতে হতে খুব বেশি আর আমাদের সামনে উপস্থিত নেই। উচ্চ শ্রেণিই এখন তাদের পুঁজিতন্ত্র ধরে রাখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিভাবে চলবে তা নির্ধারণ করে। প্রাচীন চীন সা¤্রাজ্যে যেমন বিশ্ববিদ্যালয়কে আমলা তৈরির কারখানায় পরিণত করা হয়, তেমনই বাংলাদেশেও একবিংশ শতাব্দিতে এসে আমরা একই রূপ দেখতে পাই। এখন মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমলা হওয়ার জন্য পড়াশোনা করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যে একটা স্বাধীনতা তার সীমাবদ্ধতা আমরা বৈশ্বিকভাবেই দেখছি। মুক্ত ও স্বাধীন শব্দ দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আর অবস্থান করছে না। এগুলো ফিরিয়ে আনতে হলে বিশ্ববিদ্যালয় যে বিভাজন তৈরির কারখানায় পরিণত হয়েছে তা যেকোনো মূল্যে বন্ধ করতে হবে।’

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যেমন বিশ্ববিদ্যালয় চাই এর জন্য দুটি জিনিস দরকার। মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষা এবং ছাত্র সংসদ। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা মাধ্যমে পড়ানো হয়। মাতৃভাষার মাধ্যমে যে উচ্চ শিক্ষা এ চ্যালেঞ্জ আমরা গ্রহণ করিনা। প্রয়োজন ছিল মৌলিক বইয়ের, গবেষণার এবং অনুবাদের। কিন্তু তা আমরা তা করতে পারিনি বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষারমান দুর্বল হয়ে পড়েছে।’ দুপুর ১২ টায় পরবর্তী অধিবেশনে সহযোগী অধ্যাপক পারভীন জলী সঞ্চলনায় ‘বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন: কৌশলপত্র’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক বখতিয়ার আহমদ। আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক তানজিম উদ্দীন খান, অধ্যাপক এ কে এম শাহনেওয়াজ, অধ্যাপক রায়হান রাইন, অধ্যাপক আইনুন নাহার।

দুপুরের খাবারের বিরতির পর শিক্ষকেরা ১৯৭৩ এর অধ্যাদেশ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্তশাসন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে প্রাাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতা ও নিওলিবারেল রুপান্তরে বিশ্ববিদ্যালয় শীর্ষক কয়েকটি সেশনে কর্মশালায় অংশ নেন। আগামীকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান সেমিনার কক্ষে সম্মেলনের ২য় ও শেষ দিনের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠান শেষে শনিবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সম্মেলনের গৃহিত প্রস্তাব সরকার ও ইউজিসির কাছে তুলে ধরা হবে বলে জানান আয়োজকরা।

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন




Leave a Reply

কে এই যুবক? টিস্যু দিয়ে বঙ্গবন্ধুর বিকৃত ছবি পরিস্কার করছে



Nobobarta on Twitter

© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com