ছাত্রলীগ নেতার হাতে মারধরের শিকার জাবির সিনিয়র শিক্ষার্থী | Nobobarta

আজ সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২০, ০২:২০ পূর্বাহ্ন

ছাত্রলীগ নেতার হাতে মারধরের শিকার জাবির সিনিয়র শিক্ষার্থী

ছাত্রলীগ নেতার হাতে মারধরের শিকার জাবির সিনিয়র শিক্ষার্থী

Rudra Amin Books

জোবায়ের কামাল, জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক সিনিয়র শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। ওই সময় এক শিক্ষক ও সাবেক ছাত্রীকে লাঞ্ছিত করে ওই ছাত্রলীগ নেতা। অভিযুক্ত নাজিমুল হাসান বরণ শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক। তিনি অর্থনীতি বিভাগের (৪২তম ব্যাচ) ও বঙ্গবন্ধু হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।

ভুক্তভুগি আহমেদ মুসা শাকির কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইনজিনিয়ারিং বিভাগের (৪০তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী। তিনি ছাত্রলীগ নেতা কর্তৃক ৩০তম ব্যাচের এক সিনিয়র আপুকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদ করায় মারধরে শিকার হন।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসের কমিউনিটি বাসে ঢাকা থেকে আসছিলেন শাকির। নিয়মনুযায়ী কমিউনিটি বাসে যাত্রীদের ১০টাকা ভাড়া দিতে হয়। কিন্তু ওই বাসে ৪২তম ব্যাচের বরণ ১০টাকা ভাড়া দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ নিয়ে বাসের স্টাফের সাথে ভাড়া নিয়ে তিনি দুর্ব্যবহার করেন। তা দেখে পাশে থাকা ৩০তম ব্যাচের সাবেক এক ছাত্রী প্রতিবাদ করেন। এবং বাস স্টাফের সাথে দুর্ব্যবহার করতে নিষেধ করেন। প্রতিবাদ করায় ওই সাবেক ছাত্রীকে লাঞ্ছিত করেন বরণ। এসময় একজন শিক্ষকের সাথেও খারাপ ব্যবহার করেন তিনি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা শাকির সিনিয়র আপুকে লাঞ্ছিত করার কারণে বরণকে আপুর কাছে ক্ষমা চাইতে বলে। কিন্তু সে তার সাথেও খারাপ ব্যবহার করতে শুরু করে। একপর্যায়ে বরণ আপুর কাছে ক্ষমা না চাইলে বাস থেকে নামায়ে দিবে। শাকিরের এমন কথার পরিপ্রেক্ষিতে বরণ ক্ষমা চায়।

ঘটনা শেষে শাকির তার আসনে গিয়ে বসে। কিন্তু বাস ক্যাম্পাসে ঢুকে বঙ্গবন্ধু হলের সামনে দাড়াতেই বরণসহ ৭-৮ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী শাকিরকে বেধড়ক মারধর করে। এলোপাতারি কিল-ঘুসিতে শাকিরের মাথা ও চোখ মারাত্মক জখম হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাজিমুল হাসান বরণ বলেন, ‘আমি ক্ষমা চাওয়া শর্তেও উচ্চবাচ্চ করে শাকির ভাই। আমার হলের জুনিয়ররা জানতে পেরে তার সাথে খারাপ আচরণ করেছে। মারধরের ঘটনা ঘটেনি।’

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা বলেন, ‘আমি শুনেছি যে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। বড় কোন ঘটনা ঘটেনি’।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৬ সালে ২৬ আগস্ট সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন তিনি। এ ঘটনার জের ধরে নাজিমুল হাসান বরণকে তৎকালীন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুর রহমান জনি ও সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহমেদ রাসেল বহিষ্কার করে।


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.






Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta