আজ বুধবার, ২২ মে ২০১৯, ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন

ইবিতে মানববন্ধন ঠেলে বিক্ষোপ মিছিল, গায়ে কেরোসিন ও আমরণ অনশন

ইবিতে মানববন্ধন ঠেলে বিক্ষোপ মিছিল, গায়ে কেরোসিন ও আমরণ অনশন

জনসম্মুখে পুরুষ নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  

আদিল সরকার, ইবি প্রতিনিধি : বেতন, পরিবহন, হল, সেশন ও ভর্তি ফি সহ অন্যান্য ফি কমানোর দাবিতে দীর্ঘ দিন ধরে আন্দোলন করে আসছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ ও ১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। প্রশাসন থেকে আন্দোলনের কোন সমাধান না খুজে পেয়ে মঙ্গলবার কঠিনতর আন্দোলনের নামে তারা। গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে অবস্থান কর্মসূচী, মিছিল, মানববন্ধন, আমরণ অনশন, মেইন গেট অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা। ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখে তারা।

আন্দোলনকারী সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে ভর্তি ফিসহ অন্যান্য ফি ৪ গুন বৃদ্ধি করে সাড়ে ৩হাজার থেকে ১৪ হাজার করা হয়। এখন প্রতি বছর সাড়ে ৯হাজার টাকা অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে নিন্ম-মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আশা শিক্ষার্থীদের। এসব কারনে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচী, প্রশাসন বরাবর স্মারকলীপি প্রদান সহ নানা কর্মসূচী পালন করেছে। এরপরেও প্রশাসন থেকে কোন আশ্বাস না পেয়ে মঙ্গলবার চূড়ান্ত আন্দোলনে নামেতারা।

সকাল সাড়ে ৯ টায় ডাইনা চত্ত্বর থেকে মিছিল বের করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ১০টার দিকে প্রশাসন ভবনের সামনে অবরোধ করে বিক্ষোভ করে তারা। এসময় ২ জন শিক্ষার্থী গায়ে কেরোসিন ঢেলে প্রতিবাদে নামে। এসময় তারা বাবার রক্ত যদি সেই চুষতে হবে, প্রাইভেট না হয়ে পাবলিক কেন তবে? ছাত্রের টাকায় বিশ^বিদ্যালয়ের উন্নয়ন নয়, অভাবের তাড়নায় আত্মহত্যা হয় যে বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই বিশ্ববিদ্যালয়েই ফী বাড়ে অপ্রয়োজনে, হৈ হৈ রৈ রৈ এত টাকা গেল কই, এক দফা এক দাবি বেতন ফি কমাতে হবে এসব স্লোগান দিতে থাকে। আন্দোলনের এক পর্যায়ে ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ ও প্রক্টর(ভারপ্রাপ্ত) এ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. আনিছুর রহমান ও সাবেক প্রক্টর প্রফেসর মাহবুবর রহমান উপস্থিত হন। আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলে তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তারা। এসময় আন্দোলনকারী ১ ছাত্রী জ্ঞান হারালে তাৎক্ষণিক তাকে অ্যাম্বুলেন্স যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রশাসনিক ভবনের সামনে কয়েক ঘন্টা অবস্থানের পর দুপুর ১ টার দিকে মেইন গেট অবরোধ করে তারা। এদিকে প্রশাসন ভবনের সামনে ২০১৭-১৮ ও ১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ৪ জন শিক্ষার্থী আমরণ অনশনে নামে। অনশনকারীদের দাবি, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের দাবি আদায় না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা অনশন চালিয়ে যাবে। অনশনে অংশগ্রহনকারী কামাল হোসেন নামের এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লেও সে তার অনশন অব্যহত রাখে। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তারা এ অনশন অব্যহত রাখে।
এদিকে মেইন গেটের সামনে অবস্থান করার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ ও শৈলকুপা রুটে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বহনকারী গাড়িগুলোর বন্ধ করে দেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনরত শিক্ষার্র্র্র্থী পিয়াস পান্ডে বলেন, প্রশাসন যে হারে বিভিন্ন ফি বৃদ্ধি করেছে এত টাকা বহন করা আমাদের মতো নিন্ম বিত্ত-মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীদের পক্ষে সম্ভব নয়। এ কারনে আমাদের অনেক বন্ধু ফরম পূরণ করতে পারছে না। এসকল ফি না কমানো পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’

পরে বিকাল সাড়ে ৩ টায় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. কামাল শিক্ষার্থীদের জানান, বুধবার ভিসি প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী প্রত্যেক বিভাগের সভাপতি ও প্রত্যেক অনুষদের ডিনদের নিয়ে ১১ টায় আলোচনায় বসবেন। পরে শিক্ষার্থীরা বুধবার ১২ টার মধ্যে সমাধান না পেলে পূনরায় কঠোর আন্দোলন দেওয়ার কথা জানিয়ে আজকের মতো আন্দোলনের সমাপ্তি ঘোষণা দেন।

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন




Leave a Reply

Nobobarta on Twitter

© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com