সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন

English Version
সংবাদ শিরোনাম :
পাবনা-৪ নৌকায় মনোনয়ন প্রত্যাশী বাবা-মেয়ে-জামাইসহ ১৪ জন! শ্রীনগরে হানাদার মুক্তদিবস উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা ছয় একাডেমিক ভবনের নামকরণ করতে যাচ্ছে রাবি প্রশাসন রাজারহাটে সমাপনী পরীক্ষার্থীদের বিদায় মনোনয়ন বোর্ডে কারা অংশ নিবেন তা বিএনপির ব্যক্তিগত বিষয়ঃ বললেন ফখরুল হামাসের কাছে ‘জয়-পরাজয় নির্ধারণী’ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে ভিডিও কনফারেন্সে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাথে যুক্ত হচ্ছেন তারেক; ইসির দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন কাদের লক্ষ্মীপুরে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী গ্রেফতার আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন রাষ্ট্রপক্ষের সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত ৪৩
নির্বাচনকে ঘিরে পণ্যমূল্যবৃদ্ধি

নির্বাচনকে ঘিরে পণ্যমূল্যবৃদ্ধি



  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মাহমুদুল হক আনসারী # সামনে জাতীয় নির্বাচন।তাই মজুদদারীদের তৎপরতা লক্ষ্যণীয়।দেশের বড় বড় পাইকারি বাজারে ভোগ্যপণ্য মূল্য বৃদ্ধির আশায় মজুদের সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে।

রাজনৈতিক কোনো সংকট না হলে আর মাত্র তিন মাস পরেই একাদশ জাতীয় নির্বাচন দেশে অনুষ্টিত হবে। বর্তমানে সরকার এবং বিরোধি দল জোটবদ্ধভাবে জনগণের নিকট ভোট খুজঁতে বেরিয়ে পড়ছে। তাদের নিজস্ব মতামত উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি চিন্তা চেতনা জনতার সামনে তুলে ধরছে।

জনগণ ভালো মন্দ বিবেচনা করে ভোটের সুষ্ঠ পরিবেশ থাকলে পছন্দ মতো প্রার্থীকে রায় প্রদান করবে। সেটা হচ্ছে নির্বাচনী কথা।কিন্তু দেখা যায় আমাদের দেশে এক শ্যেণীর সুবিধা ভোগী ব্যবসায়ী শ্রেণী দেশে রাজনৈতিক অস্থির পরিস্থিতি কখন সৃষ্টি হবে তার জন্য অপেক্ষায় থাকে। যাতে ভোগ্যপণ্য গুদামজাত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পকেট কাঁটতে পারে। এ ধরনের কুচক্রি মহল রাজনৈতিক চত্র ছায়ায় উৎপেতে আছে। কথা হচ্ছে ইতিমধ্যেই বাজারের ভোগ্য পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চাউলের বাজার উর্ধ্বমুখী। সাথে অন্যান্য ভোগ্যপণ্যেরও মূল্যবৃদ্ধি। বর্তমান সরকার বিগত সময়ে জনগণের সার্বিক ভোগ্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে।

দেশে যে পরিমাণ জনসংখ্যা রয়েছে, সাথে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তদের প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের চাহিদা পূরণ করতে দেশের উৎপাদন এবং বিদেশ হতে আমদানি করে জনগণের চাহিদা রক্ষা করেছে। যে পরিমাণ দেশে খাদ্য দ্রব্য ভোগ্যপণ্য প্রয়োজন সে পরিমাণ সরকারের মন্ত্রণালয়ের যথেষ্ট মওজুদ আছে বলে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। এখনো ভোগ্যপণ্যের বাজারে চালসহ অন্যান্য কোনো ধরনের ভোগ্যপণ্যের সংকট আছে বলে মনে হয় না। বাজারে অধিক হারে খাদ্যসামগ্রী মওজুদ থাকলেও কেন মূল্যবৃদ্ধির পাঁয়তারা সেটায় জনগণের প্রশ্ন। সচেতন জনগণ এখন থেকেই উৎকন্ঠায় ভোগছেন খাদ্যদ্রব্যের সংকট নিয়ে। কারণ ইতিমধ্যেই বিরোধি দল নানাভাবে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচী নিয়ে কখা বলছেন। সেখানে অসহযোগ আন্দোলন, ধর্মঘট, সরকার পতনের মতো কর্মসূচীর কথা বলছে। এসব বক্তব্যে মওজুদদার ব্যবসায়ীরা ইন্দন পাচ্ছে।

এ সুযোগে তারা ভোগ্যপণ্য মওজুদ বাড়াচ্ছে।ফলে বাজারে কৃত্রিমভাবে সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। সরকার নির্বাচন এবং রাজনৈতিক দলের কর্মসূচী প্রতিরোধের মতো চিন্তায় এগোচ্ছে। যেকোনো ধরনের দেশ ও আইনশৃংখলা বিরোধি তৎপরতা কঠোরভাবে দমনের বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। বিরোধি দল নানাভাবে জোটবদ্ধভাবে তাদের দাবি আদায়ের কর্মসূচীর কঠোরতাও জনসম্মুখে বলে বেড়াচ্ছে। সেটা হয়তো বা আর কিছুদিনের মধ্যেই মাটে ময়দানে গড়াবে। কিন্তু এভাবে যদি রাজনৈতিক কর্মসূচীর কারণে জনগণের জীবন জীবিকার পথ স্তব্ধ হয় তখন সরকার কী করবে? এ দেশের জনগণ শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচীর প্রত্যাশা করে।ধ্বংসাত্মক ও জনগণের রুটি রোজির পথ বন্ধ করে কোনো কর্মসূচীর সমর্থন করে না। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও ক্ষমতার পরিবর্তন আশা করে। এর বিপরীত হলে দেশে অরাজকতা ও অস্থিরতা সৃষ্টি হবে।

এ সুযোগে মওজুদদারী ব্যবসায়ীরা জনগণকে আরো ভোগান্তিতে ফেলতে পিছপা হবে না। এ ধরনের নানামুখী জনবিরোধিও রাষ্ট্রবিরোধি ষড়যন্ত্র থেকে সরকারকে এখন থেকে কঠোর নজরদারী ও তদারকি বৃদ্ধি করতে হবে। বিগত দিনে সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বাজার তদারকি করেছে। ফলে জনগণ তাদের ঈদ পর্বনসহ সারা বছর উপকার ভোগ করেছে।দ্রব্যমূল্য বলতে গেলে প্রায় নিয়ন্ত্রণ ছিল। অসাধু ব্যবসায়ীরা তেমন সুবিধা করতে পারেনি। এখন যেহেতু নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে সে সুযোগে একটু সুযোগ নিতে কালো বাজারি সিন্ডিকেট তৎপর হবে। আশা করা যায় সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্টান সমূহ তাদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করলে কোনো সিন্ডিকেট সুবিধা করতে পারবে বলে মনে হয় না। সরকারের উচ্চপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে এখন থেকে জনগণের ভোগ্যপণ্যের অধিকার নিশ্চিত রাখতে তৎপরতা অব্যাহত রাখতে হবে। রাষ্ট্রের অন্যান্য সবগুলো সেক্টরের ন্যায় খাদ্যদ্রব্যের প্রয়োজনীয় আদান প্রদান প্রাপ্তি জনগণের নাগালের মধ্যে রাখতে হবে। কোনো অবস্থায় রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে সিন্ডিকেটকে জনগণের ভোগান্তি বাড়াতে দেয়া যাবে না।

স্থানীয় প্রশাসনকে সারাদেশে আইনশৃংখলা রক্ষার সাথে পণ্যমূল্য তদারকি ও নিয়ন্ত্রণের কঠোর নির্দেশনা দিতে হবে। আর মাত্র এক দুই মাস পরেই দেশের পিএসসি জেএসসি এবং বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হবে। সেজন্য ছাত্র ছাত্রীরা লেখাপড়া কঠোর পরিশ্রম করছে। অভিবাবকগণও তাদের ছেলে সন্তানদের সাথে সময় ও অর্থ খরচ করে যাচ্ছে। কোনো অবস্থায় শিক্ষার্থীদের চেষ্টা পরিশ্রম শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করতে দেয়া যাবে না। সবগুলো পরীক্ষা সামনের সমস্ত দিন যাতে নিরাপদ থাকে সেটায় রাষ্ট্রকে দেখতে হবে। কাউকেই আইন শৃংখলা শিক্ষার পরিবেশ ধ্বংস করতে দেয়া যাবে না। নির্বাচন আন্দোলন রাজনৈতিক কর্মসূচীর কারণে জনগণের কোনো ধরনের ভোগান্তি যেনো না হয়, রাষ্ট্রকে সেটায় দেখতে হবে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ স্থিতিশীল বাজার ব্যবস্থাপনা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। মওজুদদারী সিন্ডিকেট সে যেই হোক তাকে অবশ্যই ভোক্তা বিরোধি কার্য্ক্রম থেকে বিরত রাখতে হবে। নির্বাচনকালীন সরকারে যারাই থাকবেন তাদেরকে আইন শৃংখলা নাগরিক অধিকার বাজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা কঠোরভাবে দেখতে হবে। কোনো অবস্থায় রাজনৈতিক কর্মসূচীর নামে জনগণের স্বার্থ বিরোধি অস্থির কর্মসূচী কাম্য নয়।

লাইক দিন

Please Share This Post in Your Social Media




Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.



© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com