আজ মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৯, ০২:৪০ অপরাহ্ন

কোটা পদ্ধতি মেধা বিকাশে অন্তরায়

কোটা পদ্ধতি মেধা বিকাশে অন্তরায়

Mahmudul Hoque Ansari

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  

মাহমুদুল হক আনসারী # সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থী শিক্ষাবিদ শিক্ষক গবেষক ও বুদ্ধিজীবিদের মধ্যে চাকরীতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের পক্ষে বিপক্ষে বক্তব্য আন্দোলন অব্যাহত আছে।শিক্ষার্থীরা কোটা পদ্ধতি সংস্কার করার দাবিতে বক্তব্য থেকে পর্যায়ক্রমে ধারাবাহিক আন্দোলনের কর্মসূচীর পর্যায়ে পৌছে যায়।

অরাজনৈতিক ছাত্র প্লাটফর্ম তৈরী করে তারা কয়েকমাস যাবত আন্দোলন করে আসছে।নেতৃত্বে থাকা ছাত্র ছাত্রীদের উপর নানাভাবে অত্যাচার নির্যাতন মামলা ও গ্রেপ্তারের সম্মুখীন হয়েছে।শাসক দলের ছাত্র সংগঠন কতৃক বেশীরভাগ আক্রান্তের শিকার হয়েছে আন্দোলনকারীরা।সারাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলন করতে গিয়ে অনেক ছাত্রকে নাজেহাল ও মামলার সম্মুখীন হতে হয়েছে।

কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাদের প্রতি শারীরিকভাবে নির্যাতনের খবর প্রতিদিন খবরের কাগজে ও নানা প্রচার মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে।তাদের আন্দোলনের দাবীকে সমর্থন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী কোটা পদ্ধতি বাতিলের ঘোষণাও দিয়েছিলেন।রাষ্ট্রের প্রধান মন্ত্রীর ঘোষণায় আন্দোলনকারীরা আশ্বস্ত হয়ে তখন কর্মসূচী কিছুটা শিতীল করেছিল।তারা করছিল রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদের অধিকারী প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা নিশ্চয় কার্য্কর হবে। সে আশায় আন্দোলনকারী সাধারণ ছাত্র ছাত্রী তাদের আগামী দিনের সরকারী কর্মসংস্থানের একটা স্বপ্ন দেখছিল। কিন্তু এখানে প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণার পর একটি মহল সাধারণ ছাত্র ছাত্রীদের এ আন্দোলনকে সরকার বিরোধী আন্দোলন হিসেবে সরকারকে বোঝাতে চেষ্টা করেছে। সাথে আন্দোলনকারীদেরকে বিরোধী দলের আন্দোলনের অংশ হিসেবে বলতেও অনেকেই দ্বিধাবোধ করেননি। স্বাধীনতা সংগ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান ভুলবার মতো নয়। মুক্তিযুদ্ধের শহিদ নর নারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ভালবাসা সম্মানকে কোনোদিন ছোট করা যাবে না। সব পর্যায়ের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ভাই বোনদের প্রতি জাতির গভীর শ্রদ্ধা থাকবে।

এখানে কথা হচ্ছে একটি গোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধ না করেও নানাভাবে জাল ডকুমেন্ট তৈরী করে মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট পেয়েছে। রাষ্ট্রের কাছে বৈধ এবং অবৈধ মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা আছে। স্বাধীনতার পর সবগুলো সরকারের আমলে জাল সনদের মাধ্যমে লাখ লাখ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সৃষ্টি হয়েছে। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার ও সম্মান নিয়ে কারোই দ্বিমত নেই। যারা জাল সার্টিফিকেট নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সেজে রাষ্ট্রীয় সবগুলো সেক্টরে সুযোগ সুবিধা হাতিয়ে নিচ্ছে তাদের কথা জনতার মুখে মুখে। যতই মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত আর জরিফ চালানো হোক না কেন বাস্তব সাক্ষী জনতার আদালত। মুক্তিযোদ্ধাকালীন যারা জীবিত ছিলেন তারাই সচক্ষে অবলোকন করেছে। কে মুক্তিযোদ্ধা ছিলো আর কারা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা।

প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধার পেছনে দৌড়াতে তেমন চোখে পড়ে না। যারা জাল ডকুমেন্ট দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সনদ অর্জন করেছে তারাই মূলত রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধার পেছনে এগিয়ে চলছে। তাদের পোষ্যদের কোটা পদ্ধতির সুযোগে নানাভাবে সরকারি চাকরীতে নিয়োগ নিচ্ছে। একের পর এক সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি পাচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য। স্বাধীনতার ৪৭ বছর অতিবাহিত হলো দেশ স্বাধীন হয়েছে। এখনো হাজার হাজার মানুষ বেঁচে আছে যারা স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। তারা রাষ্ট্র থেকে কোনো সার্টিফিকেট বা কোনো সুযোগ সুবিধার জন্য হাত বাড়ায় নি। তাদের কথা একটায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে মুক্ত করে একটা স্বাধীন লাল সবুজের পতাকা পেয়েছি এটাই আমাদের বড় অর্জন। রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা ভোগ করার জন্য স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি নি। এমনটি প্রকৃত অনেক মুক্তিযোদ্ধার বক্তব্য শুনতে পাওয়া য়ায়।

প্রশ্ন হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধার কোটায় আজকে যারা সরকারি চাকরীতে নানাভাবে নিয়োগ পাচ্ছে আদৌ কী তারা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারেরসন্তান কি না কতিয়ে দেখা দরকার। আজকে কোটা আন্দোলনের করামসূচী নিয়ে গোঠা শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিভক্ত করা হয়েছে। বাস্তবে আন্দোলনকারীরা মুক্তিযুদ্ধ অথবা মুক্তিযুদ্ধের বিরোদ্ধে মাঠে নামে নি। যারা আন্দোলন করছে তারা এদেশের অজ গাঁ গ্রামের স্কুল কলেজ থেকে পড়ে এসে মেধার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের অপরাপর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে।কাড়ি কাড়ি অর্থ খরচ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ধনাঢ্য পরিবারের সন্তানদের এ আন্দোলনে পাওয়া যাবেনা। অত্যন্ত মেধাবী এবং গাঁ গ্রামের দুঃখী মানুষের ছেলে মেয়েরাই শিক্ষা জীবন শেষ করে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে নিজেকে মুক্ত করার দাবীতেই এ আন্দোলনের সূচনা হয়। তাদের বুকভরা আশা আর ব্যাথার বেদনা হলো কৃষক দিনমজুর খেটে খাওয়া পরিবার পরিজনের পাশে দাঁড়ানো। যেহেতু বর্তমান সময়ে সরকারি চাকরী সোনার হরিণের চেয়েও দামী। সরকারী সর্বোচ্চ প্রতিষ্টান থেকে পাশ করার পরও বছরকে বছর চাকরী পিছে দৌড়ে চাকরীর বয়স চলে যাচ্ছে এমন যুবকের সংখ্যা দেশে ২৬ লাখেরও বেশী।

তাহলে তারা কোটার বিরোদ্ধে আন্দোলন না করে কোন বিকল্প পথ তাদের জন্য আছে। কোটার কারণে বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার কোটা পূরণ করে যে পরিমাণ পথ খালি থাকে, সেখানেও মেধার যাচাই বাছাই হয় না।পিয়নের মতো ছোট থেকে বড় চাকরীর জন্য দেশে ৫ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ পর্য্ন্ত একটা সরকারি চাকরী বেচা কেনা হয়। যা দেশের সবগুলো গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে পরিষ্কার। এতো বিশাল পরিমাণ অর্থ ঘুষ দিয়ে দেশের কৃষক পরিবারের পক্ষে তাদের সন্তানদের সরকারি চাকরী কিনে দেয়া সম্ভব না।তাই চাকরী বেচা বিক্রি করা যাদের পক্ষে সম্ভব তারাই আজকে সরকারি চাকরীতে এগিয়ে আছে।মেধার বিকাশ মূল্যয়ন দরিদ্রদের জন্য বর্তমান সমাজে চাকরীর যোগ্যতা থাকলেও চাকরী পাওয়া কঠিন। যেহেতু অর্থ এবং লবিং এর বিনিময়ে চাকরী পাওয়া, সেক্ষত্রে যথাযথভাবে চাকরীর অধিকার পূরণ করা অথবা নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা তার জন্য কঠিন হয়ে যায়। তার টার্গেট থাকে যেকোনো উপায়ে অধিক অর্থ উপার্জন করা।সমাজসেবা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তার মূখ্য নয়। সুতরাং সে চাকরী পেয়ে নিজ ও পরিবারের ডেবলাপ কীভাবে হবে সেটায় তার চিন্তা ও চেতনায় থাকে। এসব চাকরীজীবিদের মাধ্যমে প্রশাসন ও রাষ্ট্র তেমনভাবে উপকার পায় না। তবুও প্রশাসন নিজ গতিতে চলে।কোটা পদ্ধতির কারণে মেধাহীন একটি শ্রেণী নিয়োগ পেয়ে থাকে। এ ধারা অব্যাহতভাবে চলে আসছে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী ছাত্ররা এ প্রথা ভাঙতে চায়। তারা চায় একটা স্বাধীন নিরপেক্ষ মেধা বিকাশের মাধ্যমে সরকারি চাকরী নিয়োগ ও বন্ঠন হোক। এটা কোনো রাষ্ট্রদ্রোহী সরকারের বিরোদ্ধে আন্দোলন বলে ধরে নেয়া যাবে না। সম্পূর্ণভাবে বেকার মেধাবী উপযুক্ত শিক্ষিত ছেলে মেয়েদের সরকারি চাকরী পাওয়ার অধিকারের আন্দোলন বলায় এক্ষেত্রে যথাযথ হবে। আজকে যারা আন্দোলনের বিপক্ষে গিয়ে ছাত্রদের বিরোদ্ধে দাড়িয়েছেন আমি তাদের এ ভূমিকাকে অত্যন্ত নিন্দনীয় ও ছাত্র অধিকারের পরিপন্থী হিসেবে ধরে নেব।আর যারা আন্দোলনের পক্ষে ছাত্রদের সমর্থন দিচ্ছেন দেশের বরেণ্য শিক্ষাবিদ সামাজিক ব্যাক্তিত্বদের প্রতি গভীরভাবে সমর্থন জানাচ্ছি। আজকে কোটা আন্দোলনের পক্ষে বিপক্ষে ছাত্র ও শিক্ষক সমাজকে বিভক্ত করা হয়েছে। এ বিভক্ত মেনে নেয়ার মতো নয়। দেশের সবশ্রেণী ও পেশার মানুষ মেধা যাচাই বাছায়ের মাধ্যমে সরকারি চাকরীর পদ পূরণ হোক সেটায় চায় দেশের মানুষ।

রাষ্ট্রের প্রতি আবেদন থাকবে ছাত্রদের কোটা সংস্কারের এ আন্দোলনকে মেনে নেয়া। ছাত্রদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্টা করা।আন্দোলনকারী ছাত্র ছাত্রীদের উপর যেভাবে শাসক দলের ছাত্র সংগঠনের ন্যাক্ষারজনক হামলা করা হচ্ছে জাতি তার গভীর নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে। এ ধরনের হামলা ও মামলা দিয়ে কখনো গণতান্ত্রিক ধারায় চলমান আন্দোলনকে ধামানো সম্ভব না। সরকারের প্রতি নিবেদন থাকবে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা ঠিক রেখে অন্যসব কোটা বিলুপ্ত করে কোটা পদ্ধতি সংস্কার করা হোক। এভাবে কোটা পদ্ধতি সংস্কার করা হলে সরকারের প্রতি জনসমর্থন বৃদ্ধি পাবে। এতে সরকারের কোনো ক্ষতি হবে না। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের স্বার্থের ব্যাগাত হবে বলে মনে হয় না। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষদের নিয়ে। তাই এসব শ্রেণীর মানুষের স্বার্থ রুটি রোজির অধিকার বাস্তবায়িত হলে প্রকৃত পক্ষে বঙ্গবন্ধুর আদর্শই বাস্তবায়িত হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ থাকবে কোটা পদ্ধতি সংস্কার করে সাধারণ ছাত্র ছাত্রীদের দাবী যেন মেনে নেয়া হয়। তিনি যেভাবে শিক্ষাকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌছিয়ে দিয়েছেন একইভাবে বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে যেন শিক্ষিত বেকার যুবক যুবতীরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পায় সে প্রত্যাশায় রাখলাম।

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন




Leave a Reply

জনসম্মুখে পুরুষ নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

Nobobarta on Twitter

© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com