আজ মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৯, ১১:৫১ পূর্বাহ্ন

নোবেল ‘দ্য আনস্টপেবল’ রকস্টার (ভিডিও)

নোবেল ‘দ্য আনস্টপেবল’ রকস্টার (ভিডিও)

MAINUL AHSAN NOBLE

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  

মাইনুল আহসান নোবেলকে নিয়ে নতুন করে আর বলার কি থাকতে পারে? বাংলাদেশের এই প্রতিভা নিজেকে প্রমাণ করেছেন ইতিমধ্যেই, দেখিয়েছেন তার গানের জাদু৷ বারবার তিনি হাজির হন নতুন রুপে৷ শুরুতে সবাই ভেবেছিল তিনি শুধু রক গানই গাইতে পারেন। কিন্তু দিনে দিনে তিনি নিজেকে ভেঙ্গেছেন, গড়েছেন, নিজের কম্ফোর্ট জোন থেকে বেরিয়ে নতুন জনরার গান গেয়ে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন।

পরিচিতি পেয়েছিলেন বাংলালিংক নেক্সটিউবার রিয়েলিটি শো দিয়েই৷ এরপর আলো ছড়াচ্ছেন কলকাতার জনপ্রিয় মিউজিক্যাল রিয়েলিটি শো সারেগামাপায়। নিকট অতীতে বাংলাদেশের কোনো তরুণকে নিয়ে এত বেশি পরিমাণ আলোচনা দেখা যায়নি। মাইনুল আহসান নোবেল বারবার আলোচনায় আসছেন, বেশ ভালোভাবেই। তার পারফরম্যান্স নিয়ে কলকাতা যেমন সরগরম, তেমনি প্রত্যেকবার তার গানের পর ফেসবুকজুড়ে শুধু তাকে নিয়ে আলোড়ন৷

তবে নোবেলকে নিয়েও যে নেতিবাচক আলোচনা হয়নি তা নয়। এই যেমন, অনেকে বলেছিল সে রক গানটাই ভাল পারে। এর বাইরে গিয়ে অন্য কিছু সে গাইতে পারবে না। ঠিক সেই সময়ে নোবেল সারেগামাপায় গেয়েছিলেন রবীন্দ্রসংগীত “আমারো পরানও যাহা চায়..”। নিজের বিরুদ্ধে ধেয়ে আসা সমালোচনার জবাব কিভাবে দিতে হয় সেটাই প্রমাণ করেছিলেন নোবেল। শুধু তা-ই নয়, এরপর আরো ভিন্ন জনরায় গান গেয়ে তাক লাগিয়েছিলেন তিনি। তার কণ্ঠে সুফি ঘরানার সঙ্গীত “খাজা মেরে খাজা” শুনেও শ্রোতারা মন্ত্রমুগ্ধ। শুধু সাধারণ শ্রোতারাই নয়, নোবেলকে প্রশংসা করতে করতে বাক্যহারা হয়েছেন সারাগামাপার বিচারকেরাও।

নোবেলের এই দুর্দান্ত যাত্রা অব্যাহত আছে এখনো। তাকে কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না, যাবে কিভাবে? প্রতিবারই তিনি এমন চমক নিয়ে হাজির হচ্ছেন যে, তাকে আবার নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে হয়। সারেগামাপার সর্বশেষ এপিসোডের কথাই ধরুন। গতকাল প্রচারিত হওয়া এই শোতে নোবেল হাজির হলেন পাঞ্জাবি টুপির বেশভূষায়। উপস্থাপক যীশু সেনগুপ্ত তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আজকের দিনে কি গাইতে যাচ্ছেন তিনি। নোবেল জানালেন, আজ তিনি গাইবেন কাজী নজরুল ইসলামের লেখা গান “কারার ওই লৌহ কপাট” গানটি। যীশুর মতো টেলিভিশনের সামনে থাকা সবাইও যেন অবাক। এই গানটি গাইবার জন্য খুব সহজ গান নয়। কঠিন কঠিন শব্দ, কঠিন উচ্চারণের গান এটি। নোবেলের সমালোচকরা বোধহয় এমনই একটা সুযোগ খুঁজছিল। কারণ, তাদের কেউ কেউ বিভিন্ন সময়ে বলেছে, নোবেলের উচ্চারণগত সমস্যা আছে।

কিন্তু, নোবেল বরাবরই সমালোচনা, প্রশ্ন, বিতর্কের জবাব দিয়েছেন গান দিয়ে। এবারও বোধহয় সেরকমই ইচ্ছে ছিল তার। তবুও, সত্যি বলতে যে কোনো শিল্পীর জন্যই কাজী নজরুল ইসলামের গান গাওয়ার সাহস করাটাই অনেক দুঃসাধ্য কাজ। প্রথমত, এই গানের মেজাজটাই অন্যরকম। ঝাঁজটাই বড্ড শক্তিশালী। তার উপর দম ধরে রেখে, কঠিন উচ্চারণের এই গান গাইতে হলে যেনতেনভাবে গাওয়া তো সম্ভব নয়। উচিত নয়। এ ধরণের গান ভুলভাল গেয়ে সমালোচকদের প্রশ্নবানে জর্জরিত হওয়ার ঝুঁকি কে নিতে চাইবে! নিলেন মাইনুল আহসান নোবেল।

শুধু যে সাহস করলেন তা নয়, গানের মধ্যে একাত্ম হয়ে গেলেন যেন। এই গানের যে আবেগ, যে উদ্দাম ভাষা, যে ধ্বনি মাধুর্যতা সেটার সাথে নিজেকে যেন মিশিয়ে দিলেন একেবারে। গান গাইবার সময় এমনিতে তো তিনি দুনিয়ার বাইরে চলে যান। চোখ বন্ধ করে একেবারে গানের ধ্যানে ডুবে যান। এই পর্বেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে ব্যতিক্রম যা ঘটেছে তা হলো, গানের আবেগে তার শরীর কাঁপছিল। গানের বিদ্রোহী স্বত্তাটুকু যেন ভর করলো তার উপর। তিনি গান গাইলেনই না শুধু, গর্জে উঠলেন। উত্তেজনায় তার শরীরও বোধহয় ঝিমঝিমিয়ে উঠেছে, উত্তাপ বোঝা যাচ্ছে স্পষ্ট তার শরীরের কাঁপনে।

বিচারকরা নোবেলের গান প্রায় পুরোটা শুনলেন দাঁড়িয়ে। এমনিতে গান শুনিয়ে স্ট্যান্ডিং ওভেশন পাবার ঘটনা নোবেল ‘ডালভাত’ বানিয়ে ফেলেছেন। এমনকি নেক্সটিউবার শোতে যেদিন তিনি বিদায় নেন, সেদিনও তার গান শুনে সেই শো’র বিচারকরা তাকে স্ট্যান্ডিং ওভেশন জানিয়েছিল। আর সারেগামাপায় এসে এটা নোবেলের জন্য হয়ে গেছে প্রায় নিয়মিত প্রাপ্তি। গোল্ডেন গিটার এবং স্ট্যান্ডিং ওভেশন দিয়ে এখন আর নোবেলের পারফরমেন্সের মাহাত্ম্য বুঝানো সম্ভব নয়। বিচারকরা এদিন তাই বোধহয় গান পুরোটা দাঁড়িয়েই উপভোগ করলেন। আর নোবেল কেন এই গানটা এত ভাল গাইলেন, এই ব্যাখ্যা হিসেবে বিচারকরা যা বললেন, তা শুধু নোবেলের প্রাপ্তি নয়, এটি আমাদের গোটা জাতির জন্যেই গর্বের।

শান্তনু যেমন বললেন, আজকের দিনে অনেকেই বলে এই জেনারেশনের মধ্যে দেশের প্রতি সে টানটা খুব বেশি নেই, দেশের প্রতি দায়িত্ববোধের অভাব। কিন্তু, শান্তনু সেটা মনে করেননি। আর তার এই থিউরিকে আরো প্রতিষ্ঠিত করেছে নোবেল এই পারফর্মেন্সের মধ্য দিয়ে। শান্তনুর কথার মানে দাঁড়ায়, দেশের প্রতি গভীর ভালবাসা না থাকলে এই গান এভাবে গাওয়া যেত না। বাংলাদেশ একাত্তরে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। কিন্তু নোবেল এই প্রজন্মের হয়েও গানটা যেভাবে গাইলেন তিনি মুক্তিযুদ্ধের স্পিরিটকে ভীষণভাবে ধারণ করতে পেরেছেন বলেই এমন অসাধারণ একটি পারফরমেন্স দেখালেন তিনি! আর মোনালী ঠাকুর নোবেলকে বলে দিলেন, “ইউ আর আ ট্রু রকস্টার”। নোবেলকে নিয়ে সত্যিই আলাদা করে নতুন কিছু বলার নেই। ধন্যবাদ নোবেল, গানটাকে এমন ধারায় গাইবার জন্যে যে ওপার বাংলাকেও গানের মধ্যে দিয়ে দেশের প্রতি আমাদের প্রজন্মের আবেগকে বুঝানোর জন্যে।

এর মধ্যে সম্প্রতি আবার জানা গেল, নোবেল কলকাতার বিখ্যাত ডিরেক্টর সৃজিতের সিনেমায় প্লেব্যাক করেছেন। যদিও এই সম্পর্কে বিস্তারিত ঘোষণা আসেনি। তবে, গানটি অনুপম রয় লিখেছেন, সুর করেছেন আর তাতে কণ্ঠ দিয়েছেন নোবেল। সৃজিতের সিনেমায় আমাদের দেশের তরুণ প্রতিভা গান গাইবেন, আমাদের জন্যে ভীষণ আনন্দের সংবাদ এটি। নোবেলের এই যাত্রা থামার নয়, নোবেল যেন আনস্টপেবল এক রকস্টার! চলতে থাকুক এই দূর্দান্ত যাত্রা। মুগ্ধতার আবেশে, নোবেলের দরাজ কণ্ঠের আবেগে বারবার ভাসুক দুই বাংলার জনপদ!

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন




Leave a Reply

জনসম্মুখে পুরুষ নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

Nobobarta on Twitter

© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com