আজ সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন

সেহরী ও ইফতার সময় :
এমপি কেন মন্ত্রীও হবার পারি : হিরো আলম

এমপি কেন মন্ত্রীও হবার পারি : হিরো আলম

Arshaful Hossen Alom
হিরো আলম

  • 13
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
    13
    Shares

বগুড়া-৪ আসন থেকে নির্বাচন করতে চান আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে ‘হিরো আলম’। ‘লাঙ্গল’ মার্কা নিয়েই এমপি হতে চান তিনি। সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির ‘লাঙ্গল’ মার্কা প্রতীকে গতকাল সোমবার মনোনয়ন ফরম তুলেছেন তিনি।

হিরো আলম বলেন, প্রথমদিকে বগুড়া-৬ সদর আসনে নির্বাচন করার কথা বলেছিলাম। বগুড়া-৪ আসনে আমার গ্রহণযোগ্যতা বেশি। তাই সেখান থেকেই নির্বাচন করব। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে আমার ভালো লাগে। জাতীয় পার্টি মানুষকে কথা দিলে কথা রাখে। এজন্য লাঙ্গলের প্রার্থী আমি।

হিরো আলম বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও আমার জনপ্রিয়তা দিয়েই এমপি হবো। এমপি কেন মন্ত্রীও হবার পারি। আগেও বলেছি এখনো বলছি, চেহারা দেখে মানুষের বিচার করা যায় না। প্রতিভা আর ইচ্ছাশক্তিই সবকিছু। দুবার নিজ এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। সামান্য ভোটের ব্যবধানে হেরেছি। তিনি বলেন, আমি মনে করি, এটা আমার বিজয়। এলাকার মানুষ আমাকে ভালোবাসে তার প্রমাণ পেয়েছি। একাদশ সংসদ নির্বাচনেও ভোটারদের ভালোবাসার প্রতিফলন ঘটাবে এবং আমাকে নির্বাচিত করবে। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আকস্মিকভাবে আলোচনায় ওঠে আসা হিরো আলম বগুড়া থেকে ঢাকায় এসে একের পর এক মিউজিক ভিডিওতে কাজ করছেন। ‘মার ছক্কা’ নামের একটি চলচিত্রেও অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি।

সবকিছুকে ছাড়িয়ে বলিউডে ডানা মেলেছেন আলোচিত এ তারকা। ২ ঘণ্টা ১০ মিনিটের ছবিতে নায়কের চরিত্রে অভিনয় করবেন তিনি। ‘বিজু দ্য হিরো’ নামের এ ছবিটির পরিচালক প্রভাত কুমার। এবার হিরো আলমের আশা জেগেছে নির্বাচনে জিতে মন্ত্রী হবার। কেন্দ্রীয় নেতা জিএম কাদের আর নায়ক মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা আমাকে সাহস দিচ্ছেন, উৎসাহ যোগাচ্ছেন। এমপি হবার পারলে মন্ত্রীও করবেন। এলাকার ভোটারদের চেনার বিষয়ে হিরো আলম বলেন, আমাকে চিনে না বগুড়ার এমন লোক কম আছে। হিরো আলম এখন ওয়াল্ড ফেমাস স্টার। আমার বাড়ি বগুড়ায়। সদরে দাঁড়াতে চেয়েছিলাম। কিন্তু অন্য একটা কারণে কাহালু-নন্দীগ্রামে লড়ছি। ওই এলাকার লোকজন আমার ভক্ত, সবাই আমাকে চিনে। জনগণের ভালোবাসা আমার সম্বল। ক্যানডিডেট হলে আমিই জিতবো।

ইউপি সদস্য পদে হেরে সংসদ নির্বাচনে জিতবেন কীভাবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভোটে জিততে টাকা লাগে না, সাহস লাগে। ভোটারের ভালোবাসা, সমর্থন লাগে। সেটা আমার আছে। আগে দুবার মেম্বারে দাঁড়িয়েছি। ৬ জন ক্যানডিটেড ছিল। একবার ৭১, আরেকবার ১৬ ভোটে হেরেছি। তখন তো হিরো আলমকে কেউ চিনতো না। এখন হিরো আলম ওয়াল্ড সেলিব্রিটি। গোটা বিশ্ব চিনে। আমি জিরো থেকে হিরো আলম, এজন্য বড় নির্বাচন-ই করার সিদ্ধান্ত।

প্রভাবশালী নেতাদের বিষয়ে হিরো আলম বলেন, নেতাগো টাকা আছে, আমার আছে জনগণের ভালোবাসা। ৫০০ মিউজিক ভিডিও, ৮০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা এবং পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা ‘মারছক্কা’র হিরো আমি। বলিউলের’ বিজু দ্যা হিরো’ নামে একটি সিনেমায় অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। দুনিয়াজুড়ে কোটি ভক্ত আমার। ফেসবুক পেজে ফলোয়ার ৩ লাখ ৩১ হাজার। হিরো আলমের প্রতি মানুষের সেই ভালোবাসার জোরেই নির্বাচনে জিতবো। আমার নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতায় গেলে মন্ত্রীও হবার পারি।

তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই অভাব-অনটনের সঙ্গে লড়াই করে বড় হয়েছি। পড়াশোনা করেছি সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত। সিডির ব্যবসার সুবাদে ২০০৮ সালে নিজেই একটা মিউজিক ভিডিও তৈরি করি। নায়ক-নির্দেশক তিনি নিজেই। ২০১৬ সালে হিরো আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তোলেন। বাংলাদেশের গণমাধ্যমের শিরোনাম হন তিনি। ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হন তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমও তাকে নিয়ে প্রতিবেদন ছাপা হয়। হিরো আলমের সঙ্গে ছবি তুলে ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম ছবি তুলে ফেসবুকে প্রকাশ করায় বিবিসি হিন্দি, জি নিউজ, এনডিটিভি, ডেইলি ভাস্কর, মিড-ডের মতো ভারতের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমগুলো তাকে নিয়ে প্রতিবেদন করে। সেখানে হিরো আলমকে বাংলাদেশের বিনোদনজগতের তারকা বলে উল্লেখ করা হয়।

ফেসবুকে হিরো আলমের রেকর্ড অনুসারীর ভিত্তিতে গুগল তথ্য তথ্য প্রকাশ করে বলিউড নায়ক সালমান খানের চেয়েও হিরো আলমকে গুগলে বেশিবার খোঁজা হয়েছে। আল্টিমেট ইন্ডিয়ার বরাত দিয়ে ইউএনবির খবরে বলা হয়েছে, গুগলে কাকে সবচেয়ে বেশিবার খোঁজা হয়, তার একটি তালিকা করে ইয়াহু ইন্ডিয়া। জরিপে দেখা গেছে,‘সুলতান’ ও ‘দাবাং’ তারকা খ্যাত সালমান খানকে পেছনে ফেলেছেন হিরো আলম। সালমানের চেয়েও বেশিবার খোঁজা হয়েছে হিরো আলমকে।

হিরো আলমের বিপক্ষে লড়বেন যারা-
হিরো আলম লাঙল প্রতীকে যে আসনে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন কাহালু ও নন্দীগ্রাম উপজেলা নিয়ে গঠিত সেই বগুড়া-৪ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ১১ হাজার ৯৪১ জন। ১৯৯১ সালে এ আসনে বিএনপির সাংসদ নির্বাচিত হন দলের প্রয়াত যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক মোল্লা। তার মৃত্যুর পর ১৯৯৪ সালের উপনির্বাচনে প্রয়াত সাংসদের ছেলে জিয়াউল হক মোল্লা দলীয় মনোনয়নে সাংসদ হন।

তিনি আরও তিন দফা সাংসদ হন। ২০০৭ সালে দেশে জরুরি অবস্থা জারির পর সংস্কারপন্থী নেতাদের পক্ষ নেয়ায় জিয়াউল হক মোল্লা দলে কোণঠাসা হয়ে পড়েন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তাকে বাদ দিয়ে মোস্তফা আলী মুকুলকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হলে তিনি মহাজোট মনোনীত জাসদের প্রার্থী একেএম রেজাউল করিম তানসেনকে হারিয়ে সাংসদ হন। ২০১৪ সালের নির্বাচন বিএনপি বয়কট করে। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগে সমঝোতার ভিত্তিতে জাপার নুরুল আমিনকে জেতার সুযোগ করে দিতে মাঠ ছেড়ে দেয়। কিন্তু মহাজোটের অন্যতম শরিক জাসদের রেজাউল করিম তানসেন মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলে নির্বাচন হয়। নির্বাচনে জাপার প্রার্থীকে হারিয়ে তিনি সাংসদ হন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংস্কারপন্থী জিয়াউল হককে এরই মধ্যে দলে ফিরিয়ে এনে প্রার্থী করতে যাচ্ছে বিএনপি। জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু ২৮ অক্টোবর নির্বাচনী জনসভা থেকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে একেএম রেজাউল করিম তানসেনকে (জাসদ) ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিনও এ আসন থেকে নির্বাচন করার জন্য মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন।

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন




Leave a Reply

© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com