ফখরুলকে এতটা নিচে নামাতে চাই না, চাইলে প্রমাণ দেব : কাদের | Nobobarta

আজ মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০, ১০:৪৯ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
বস্তিতে ভরা দুপুরে কন্ঠশিল্পী নয়ন দয়া ও হাজী আরমান ৬৫ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেবে সিসিক ভালুকায় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করলেন সাদিকুর রহমান ঝালকাঠি করোনা প্রতিরোধে রক্ত কণিকা ফাউন্ডেশন জীবাণুনাশক স্প্রে করোনাঃ দুস্থদের খাদ্য দিলো কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রলীগ সিরাজদিখানে দেড় হাজার পরিবারের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ রাজাপুরে সাইদুর রহমান এডুকেশন ওয়েল ফেয়ার ট্রাষ্ট’র হতদারিদ্রদের মাঝে ত্রান বিতরণ রাজাপুরে পল্লী বিদ্যুত সমিতির গরীব মানুষদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ রাজাপুরে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করলেন ইউপি সদস্য নিজেরা নিয়ন্ত্রন না হলে বিপদে পরতে হবে
ফখরুলকে এতটা নিচে নামাতে চাই না, চাইলে প্রমাণ দেব : কাদের

ফখরুলকে এতটা নিচে নামাতে চাই না, চাইলে প্রমাণ দেব : কাদের

Rudra Amin Books

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ইস্যুতে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি আমার সঙ্গে ফোনে কী কথা বলেছেন, তার রেকর্ডও আছে। চাইলে প্রমাণ দিয়ে দেব। তবে আমি আর নিচে যেতে চাই না।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে খুলনা বিভাগীয় আওয়ামী লীগের যৌথসভা শেষে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। এর আগে মঙ্গলবার সকালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানানো শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেন, ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে কোনো কথা হয়নি। প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে আবেদন করা তার (খালেদা জিয়া) পরিবারের বিষয়, তারাই সিদ্ধান্ত নেবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, মির্জা ফখরুল আমাকে অনুরোধ করেছেন। তিনি কি প্রমাণ করতে চান, তিনি অনুরোধ করেননি। তা হলে কিন্তু প্রমাণ দিয়ে দেব। কারণ টেলিফোনে যে সংলাপ, এটা তো আর গোপন থাকবে না। এটা বের করা যাবে। ফোনে কথা বলবে, এটা গোপন রাখা যাবে? এটার রেকর্ড আছে। আমি এ নিয়ে এখন অসত্য কথা কেন বলব। আমি এ বিষয় নিয়ে তাকে আর ছোট করতে চাই না। উনি নিজেকে কেন নিচে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে কেন্দ্র করে পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে যা করছে, তাদের মহাসচিব যা করছে; এটা আসলে তারা বেগম জিয়াকে মুক্তি দেয়ার চেয়েও তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে যতটা না ব্যাকুল তার চেয়ে ব্যাকুল রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে, রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য। তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিএনপি নাটক করছে, রাজনীতি করে যাচ্ছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ফখরুল সাহেব (বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) একবার বলেন, বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা খারাপ, তিনি মরণের পাড়ে। আবার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বেগম জিয়াকে মানবিক কারণে মুক্তি দেয়া হোক। তার প্যারোল.. জাতীয় বিষয়ও আছে। প্যারোল দিতে গেলে একজন বন্দিকে বন্দির চেয়েও বড় কথা, তিনি কনভিক্টেট প্রিজনার (কারাবন্দি)। কনভিক্টেট প্রিজনারকেও প্যারোলে মুক্তি দেয়ারও নিয়ম আছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা প্যারোলের আবেদনই করেনি। কাজেই সেই নিয়মটি আছে কি না, যুক্তিযুক্ত কোনো কারণ আছে কি না তাকে মুক্তি দেয়ার, সেটা বিবেচনার কোনো অবকাশ নেই, যেহেতু তারা কোনো আবেদন করেনি। প্যারোলে মুক্তি দেয়ার সেসব কারণ প্রদর্শন করে এ পর্যন্ত তারা কোনো আবেদন করেনি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন করে তারা ক্ষান্ত হয়নি। নির্বাচনে পরাজিত হয়ে তারা ক্ষান্ত হয়নি। নানামুখী ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। আজকে বেগম জিয়াকে কেন্দ্র করে তারা নতুন নতুন ইস্যু খোঁজার চেষ্টা করছে। আন্দোলন ও নির্বাচনে ব্যর্থ হয়ে তারা সরকার হটানোর জন্য সরকারের বিরুদ্ধে নতুন ষড়যন্ত্র করছে।

বয়স বিবেচনায় খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা যেমন থাকার কথা তেমনই আছে, দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেব ঝানু রাজনীতিক হতে পারেন, কিন্তু তিনি কি ঝানু চিকিৎসক যে, বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা কী, তিনি সে ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারেন? চিকিৎসকরা বলছেন, বেগম জিয়ার অবস্থা বার্ধক্যের কারণে যে অবস্থানে থাকার কথা, সে অবস্থানে আছে। তরুণ-তরুণীর মতো শারীরিক অবস্থা তার নেই। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থা যা থাকার তাই আছে। কোনো প্রকার অবনতি হচ্ছে না। শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসা তাকে দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, বেগম জিয়ার মুক্তির বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার। বেগম জিয়ার মামলা দুর্নীতির মামলা। সরকার কীভাবে মুক্তি দেবে? যদি রাজনৈতিক মামলা হতো, তা হলে রাজনৈতিক বিবেচনায় মুক্তির প্রশ্ন ছিল। কিন্তু এই মামলা রাজনৈতিক নয়। এই মামলা দুর্নীতির মামলা। আর এই মামলা এই সরকারও রাজনৈতিকভাবে বিএনপিকে হেয় করার জন্য রুজু করেছে, এমন নয়। মামলা করেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। সেই মামলা তিনি হাজিরা না দিতে দিতে গড়াতে গড়াতে তাদের নানা কারসাজিতে এই অবস্থায় এসেছে।

এদিকে নেতাকর্মীদের সতর্ক করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মুজিববর্ষ পালনের নামে কোনো চাঁদাবাজির দোকান খোলা বা কোনো রকম বাড়াবাড়ি করা যাবে না। অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে মুজিববর্ষ পালন করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পতাকা ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে হবে। সামান্য ভুলে বিরোধীপক্ষ সুযোগ নিতে পারে তাই মুজিববর্ষ পালনে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’ এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কড়া হুঁশিয়ারি রয়েছে বলেও জানান তিনি।

জেলা পর্যায়ে আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করার তাগিদ দিয়ে কাদের বলেন, ‘তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে হবে। তৃণমূল হলো দলের প্রাণ। দলের থানা পর্যায়ে দুর্বলতা আছে এটা অপ্রিয় সত্য কথা।’ সময় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, কেন্দ্রীয় সদস্য পারভীন জামান কল্পনা, খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকসহ খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক জেলার শীর্ষ নেতারা উপস্থিতি ছিলেন।


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.






Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta