আজ মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০১৯, ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন

জনগণ ভালো থাকলে কিছু মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে : প্রধানমন্ত্রী

জনগণ ভালো থাকলে কিছু মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে : প্রধানমন্ত্রী

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণ ভালো থাকলে কিছু মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। দেশে যদি কোনো মার্শাল ল’ জারি হয়, অসাংবিধানিক শক্তি ক্ষমতা দখল করে, তখন তারা খুব শান্তিতে থাকে। কারণ তারা ক্ষমতার বাতাস পায়। সে আশায় তারা জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলে।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

মাতৃভাষার জন্য রক্ত দেওয়া জাতি বিশ্বের মধ্যে কেবল বাঙালিই জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে এই বাংলা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আমাদের সবথেকে গৌরবের, ভাষার জন্য রক্ত দেওয়া। সেই মাতৃভাষার ওপর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ একটি ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্র।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে জাতিকে নিঃশেষ করে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৭৫ এর পর যারা ক্ষমতায় এসেছিল, তারা বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, এমনকি এ জাতির অস্তিত্বেই বিশ্বাস করতো না। সেজন্য তারা যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন কোনো উন্নতি-অগ্রযাত্রা হয়নি এদেশের। আর যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারলো, তখনই দেশ ও জনগণের ভাগ্যোন্নয়ন হয়েছে। সেজন্য কৃতজ্ঞতা জানাই জনগণের প্রতি।

এসময় তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যায়, কিন্তু তারা জীবন্ত মানুষের গায়ে আগুন দিয়ে হত্যা করেছে। তাদেরকে জনগণ ভোট দেবে কেন? ২০১৩, ১৪-১৫, এ বছর গুলোতে প্রায় তিন হাজার ৮০০ থেকে ৯০০ মানুষ অগ্নিদগ্ধ হয়েছে। ৫০০’র মত মানুষ অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছে। এখনো সেই অগ্নিদগ্ধ অনেকে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, যারা মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে, রাষ্ট্রীয় সম্পদ পুড়িয়েছে, বিদ্যুৎ কেন্দ্র জ্বালিয়ে দিয়েছে, বাস-ট্রাক-রেল থেকে শুরু করে কিনা পড়িয়েছে; তাদের ধ্বংসাত্মক কাজের জন্য দেশের মানুষ বিএনপির দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

তিনি বলেন, তারা নির্বাচন কিভাবে করেছে, তিন শ’ সিটে তারা নমিনেশন দিয়েছে নয়শ’র কাছাকাছি অর্থাৎ একটি সিটের পিছনে দু’জন, তিনজন করে নমিনেশন দিয়েছে। যখন যাকে পেয়েছে তাকেই নমিনেশন দিয়েছে। আবার এই নমিনেশন তারা তো অকশনে দিয়েছিল। এর ফলে যে যত টাকা দিচ্ছে সে নমিনেশন পেয়েছে। যে টাকা দিতে পারছে না তার নমিনেশন ক্যানসেল হয়ে যাচ্ছে।! অনেকগুলো সিট আমরা জানি যাদেরকে দিলে তারা জিততো তারা নমিনেশন পায়নি। যারা মনোনয়ন অকশনে দেয় তারা কিভাবে জয়ের আশা করে?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ কেউ তো আমার কাছে এসে বলেও গেছে লন্ডন থেকে ফোন এসেছে এত টাকা হলে নমিনেশন পাবেন। সে টাকা দিতে পারেনি মনোনয়ন হয়নি। আর কাউকে নমিনেশন দিয়েছে বিদেশে বসে। সে দেশে নাই, বিদেশে বসে নমিনেশন পেয়ে অ্যাম্বাসিতে গেছে নমিনেশন পেপার সাবমিট করতে। অ্যাম্বাসেডর নমিনেশন পেপার গ্রহণ করবে কিভাবে? যখন অ্যাম্বাসি মনোনয়নপত্র নেয়নি বলেছে, ‘লন্ডনে এত টাকা দিলাম, বললেন অ্যাম্বাসিতে দিলেই হবে। এখন কেন দিতে পারছি না?’

যুদ্ধাপরাধীদের এদেশের মানুষ আর কখনও ভোট দেবে না দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের কাউকে কাউকে নমিনেশন দেওয়াতে জনগণ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের এদেশের মানুষ ভোট দেবে না। একদিকে যুদ্ধাপরাধী, দুর্নীতি আবার মনোনয়ন নিয়ে যে বাণিজ্য, তারা ভোট পাবে কোথা থেকে?

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন




Leave a Reply

জনসম্মুখে পুরুষ নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

Nobobarta on Twitter

© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com