সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন

English Version
সংবাদ শিরোনাম :
সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা : আইনের বাস্তবায়ন জরুরি! মোস্তাফিজের অবিশ্বাস্য বোলিংয়ে বাংলাদেশের জয় এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ বাছাইপর্বে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের মেয়েরা জাবি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের একাংশের ইমরুল-মাহমুদউল্লাহ নৈপুণ্যে টাইগারদের চ্যালেঞ্জিং স্কোর শ্রীনগরে হেরোইনসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার রাজাপুরে কবর জিয়ারত এর মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় কেন্দ্রীয় নেতা মনিরুজ্জামান। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ পিবিআই’র তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন রিনা ষড়যন্ত্রকারীরা রাজনীতি নয় দুর্নীতির রাঘব-বোয়াল -মোমিন মেহেদী
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড



কোনো ব্যক্তির বেপরোয়া ও অবহেলাজানিত গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে এবং সেই দুর্ঘটনায় কেউ আহত বা নিহত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন বিল-২০১৮ উত্থাপন করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে কোনো বিরোধীতা ছাড়াই বিলটি উত্থাপন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। পরে বিলটি অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

বিলে শাস্তির বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘তবে শর্ত থাকে যে, ফৌজদারি কার্যবিধিতে যাহাই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তি বেপরোয়া ও অবহেলাজনিত মোটরযান চালানোর কারণে সংঘটিত দুর্ঘটনায় কোনো ব্যক্তি গুরুতরভাবে আহত হইলে বা তাহার প্রাণহানি ঘটলে উক্ত ব্যক্তি অনধিক ৫ বৎসরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।’ বিলে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে কাউকে আহত করলে তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। ট্রাফিক আইন অমান্য করলে পয়েন্ট কাটার ব্যবস্থাও থাকবে আইনে। নির্ধারিত পয়েন্টের নিচে গেলে লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে। চালককে নতুন করে আবার লাইসেন্স নিতে হবে।

বিলে ব্যক্তিগত গাড়ি চালনার জন্য চালকের বয়স আগের মতোই অন্তত ১৮ বছর রাখা হয়েছে। তবে পেশাদার চালকদের বয়স হতে হবে কমপক্ষে ২১ বছর। সংসদে উত্থাপিত বিলে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য চালকের কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি বা সমমানের পাসের শর্ত রাখা হয়েছে। আগের আইনে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। নতুন আইনের সহকারী হতেও শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে। সহকারীর পঞ্চম শ্রেণি পাসের সনদ থাকতে হবে। আগের অধ্যাদেশে সহকারীদের লাইসেন্সের কথা থাকলেও তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত ছিল না। এ ছাড়া সহকারী হতে বাধ্যতামূলকভাবে লাইসেন্সের বিধানও থাকছে।

বিলে চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে অনধিক ছয় মাসের জেল বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। সহকারীরও শাস্তির বিধান যুক্ত করা হয়েছে বিলে। চালকের সহকারীর লাইসেন্স না থাকলে এক মাসের জেল বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। বিলের বিধান অনুযায়ী, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না চালক। এই বিধান অমান্য করলে এক মাসের কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হবে। এ ছাড়া ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে-এমন অপরাধের ক্ষেত্রে চালককে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে পুলিশকে।

নতুন আইনের বিধি অমান্য করলে পয়েন্ট কাটার বিধান রাখা হয়েছে বিলে। বিলের বিধান অনুযায়ী, লাইসেন্সে থাকবে মোট ১২ পয়েন্ট। বিভিন্ন বিধি অমান্যে কাটা যাবে এই পয়েন্ট। পয়েন্ট শূন্য হলে বাতিল হবে চালকের লাইসেন্স। এরপর চালকে নতুন করে লাইসেন্স নিতে হবে। দীর্ঘ এক বছর ঝুলে থাকার পর আলোচিত এই নতুন সড়ক পরিবহন আইনটি গত ৬ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদিত হয়। রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আন্দোলনের মুখে সরকার ওই আইনের খাসড়া মন্ত্রীসভায় উত্থাপন করে। দশম সংসদের চলতি অধিবেশনে বিলটি পাসের কথা রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media




Leave a Reply



© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com